এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > একের পর এক সভায় বেফাঁস মন্তব্য! তৃণমূল বিধায়ককে কড়া হুঁশিয়ারি দাপুটে নেতার! সরগরম নদীয়া

একের পর এক সভায় বেফাঁস মন্তব্য! তৃণমূল বিধায়ককে কড়া হুঁশিয়ারি দাপুটে নেতার! সরগরম নদীয়া

রাজ্যে আবার তৃণমূলের অন্দর মহলে বিতর্কের সূত্রপাত। দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বেফাঁস মন্তব্য করে এবার হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার রোষ নজরে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক। রাজ্যে এমনিতেই শাসক দলের সাথে রাজ্যপালের আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গেছে রাজ্যপালের সাথে তৃণমূল দলের নানান বিরোধ। যা সরগরম করেছে রাজনৈতিক মহলকে। এবার আবারো একবার রাজ্যপালকে জড়িয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর সমালোচনা।

এবারের ঘটনার সূত্রপাত হয় শান্তিপুরের রাস মেলায়। শান্তিপুরের রাস মেলায় এক অনুষ্ঠানে আসেন রাজ্যপাল। একই মঞ্চে রাজ্যপালের পাশাপাশি থাকেন শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য। তিনি অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে হঠাৎই দলের নেতাদের নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন। ফলে দলের মধ্যেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। আর এর পরেই রানাঘাটে তৃণমূলের দলীয় সাংগঠনিক সভায় জেলা সভাপতি শংকর সিংহ রীতিমতো কড়া বার্তা দেন শান্তিপুরের বিধায়ককে। এর সাথে শান্তিপুরের বিধায়কের রাজ্যপালের সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি দল যে একেবারে ভালভাবে নেয়নি, তা জানিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, শুক্রবার শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রকাশ্য সভা করা হয় এলাকায়। সেখানে বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতারা দলের অন্য এক নেতা তথা পুরসভার চেয়ারম্যানের প্রসঙ্গে প্রকাশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। যা নিয়ে পরবর্তীতে রাজনৈতিক মহলে চূড়ান্ত শোরগোলের সৃষ্টি হয়। সূত্রের খবর, রানাঘাটের বৈঠক থেকে সভাপতি শংকর সিংহ অরিন্দম ভট্টাচার্যকে রীতিমতো কড়া ভাষায় বলেন, ‘সভা থেকে দলের নেতাকে আক্রমণের মানে কি? যেটা হয়েছে সেটা ঠিক হয়নি। এই জিনিস মানা যাবে না। একটা শহরে আমাদের নিজেদের পুরসভার বোর্ড। আমরাই যদি তাঁর সমালোচনা করি, তাহলে মানুষের কাছে কি বার্তা যাবে!’

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে, এ প্রসঙ্গে শান্তিপুর শহরের তৃণমূল সভাপতি আব্দুল সালাম কারিকর জেলা সভাপতির কাছে শান্তিপুরের প্রকাশ্য সমাবেশ নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘দলের সভা করা হচ্ছে। এদিকে বিজেপিকে নিয়ে কিছু না বলে আমাদের দলের নেতাদের নামে বলা হচ্ছে।’ এদিকে শান্তিপুরের ব্লক সভাপতি তপন সরকার পাল্টা জেলা সভাপতিকে জানিয়েছেন, ‘পঞ্চায়েত প্রধান, সদস্যদের নিয়ে মিটিং ডাকা হচ্ছে আমাকে না জানিয়ে।’ সম্পূর্ণ প্রসঙ্গটি বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্যকে জানিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন, ‘যা বলার জেলা সভাপতি বলবেন। আমার এখানে কিছু বলার নেই।’

তবে সূত্রের খবর, শুধু শান্তিপুরের ঘটনা নিয়েই রানাঘাটের সাংগঠনিক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ হয়নি, এর সাথে চাকদা, হাঁসখালি, বীরনগরের মতন এলাকা গুলি থেকেও নানান অভিযোগ এসেছে। এলাকার নেতারা তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন শংকর সিংহের কাছে। এ ব্যাপারে সেখানকার নেতাদের নিয়ে আলোচনা চলে এবং প্রয়োজনে কাউকে কাউকে কড়া সর্তক করা হয় ঘটনা প্রসঙ্গে। তবে সম্পূর্ণ ঘটনা দেখে রাজনৈতিক মহল থেকে একটাই শব্দ উঠে এসেছে। এবং তা হল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় নিজে ছুটে গিয়ে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রোধ করার কথা বলছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হবার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, অচিরেই যদি রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূল দল পুরোপুরি নিকেশ করতে না পারে, তাহলে পরবর্তীতে তাঁঁদের জন্য অন্য রকম সমস্যার সৃষ্টি হবে। তবে শান্তিপুরের ঘটনা নিয়ে এখনো পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আপাতত সমগ্র পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে রাজ্যের শাসক দল।

আপনার মতামত জানান -
ট্যাগড
Top
error: Content is protected !!