এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বিজেপিকে ঠেকাতে বামেদের এবার তৃণমূল নেত্রীর হাত ধরার জন্য জোরালো সওয়াল সর্বভারতীয় হেভিওয়েট নেতার

বিজেপিকে ঠেকাতে বামেদের এবার তৃণমূল নেত্রীর হাত ধরার জন্য জোরালো সওয়াল সর্বভারতীয় হেভিওয়েট নেতার

দেশে বিজেপিকে ঠেকাতে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বিরোধী মহাজোট। যেখানে তৃণমূল, বাম সহ একাধিক বিরোধী দলগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বাংলায় এই বিরোধী মহাজোটকে চালানো যে বেজায় শক্ত তা জানে সব রাজনৈতিক দলই। কেননা বাংলায় এখন একে অপরের অহিনকুল শত্রু হিসেবে পরিচিত শাসকদল তৃণমূল এবং বিরোধীদল বামফ্রন্ট। ফলে বাংলায় বিজেপিকে হঠাতে কোনমতেই বামেদের পক্ষ থেকে তৃণমূলের হাত ধরা হবে না বলে স্পষ্টতই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্টে রাজ্যের খাতায় কলমে বর্তমান প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের হাত ধরার পক্ষে সওয়াল করেছে বামেরা। আর এই কংগ্রেস এবং বামেরা জোট করে এই রাজ্যে তৃণমূল এবং বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে উৎখাতের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর এহেন একটা পরিস্থিতিতে কলকাতায় বামেদেরই অন্যতম শরিক সিপিআইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূলের সাথেই বামেদের হাত মেলানোর কথা বললেন গুজরাটে দলিত আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত তরুণ তুর্কি নেতা জিগ্নেশ মেবানি। আর মেবানির এহেন কথায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন সিপিআই নেতারাও।

যদিও বা পরে জোট সমীকরণ প্রসঙ্গে জিগ্নেশ মেবানির বক্তব্যে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন জনপ্রিয় তরুণ বাম নেতা হিসেবে পরিচিত কানহাইয়া কুমার। এদিন তিনি বলেন, “দিল্লিতে মোদী যে কায়দায় চলছে, ঠিক একই কায়দায় রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও চলছে। তাই বিজেপির মত তৃণমূলও প্রবলভাবে বিপজনক”। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিপিআইয়ের এই মঞ্চে অন্যতম বক্তা হিসেবে উপস্থিত জিগ্নেশ মেবানি যেভাবে রাজ্যে বামেদের সাথে তৃণমূলের জোট করার প্রসঙ্গে সওয়াল করে বক্তব্য রাখলেন তাতে অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিলেন দলের অনেক নেতা কর্মীরাই।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

ফলে জিগ্নেশের এই বক্তব্যকে খন্ডন করে এদিন কানহাইয়া কুমার বিজেপির মত তৃণমূলও একই কায়দায় চলছে বলে নিজেদের অবস্থান কিছুটা হলেও স্পষ্ট করার চেষ্টা করলেন। এদিকে দুই নেতার দু ধরনের বক্তব্যে বিভ্রান্তিতে পড়েন সভা শুনতে আসা অনেক নীচুতলার কর্মীরাও। কিন্তু ঠিক কী বলেছিলেন জিগ্নেশ মেবানি? সূত্রের খবর, এদিনের সভায় তিনি বলেন, “বিজেপির জমানায় দেশে সাম্প্রদায়িক মেরুকরনের জন্য জঘন্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকরা আত্মহত্যা করছে, বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিরা ঋণ মুকুবের সুবিধা পাচ্ছেন। তাই এই চরম সংকটে বাংলায় সকলকে একজোট হওয়া দরকার”।

এদিকে কানাহাইয়া কুমারের বক্তব্য, “বাংলায় বামেরা তৃণমূলের সঙ্গে জোট করবে কিনা তার জবাব দিতে আমি আসিনি। তবে শুধু এতটুকুই বলব এই মুহূর্তে সকলকে ইগো ছেড়ে কাছাকাছি আসতে হবে। কেননা বিজেপি ক্ষমতায় এলে ওরা এবার আমাদের ঘরে ঢুকে গুলি করবে। তাই সকল গান্ধীবাদী, বামপন্থী, সমাজবাদীদের হাতে হাত মেলানো দরকার”। এদিকে রাজ্যে তৃণমূলের সাথে জোটের ব্যাপারে জিগ্নেশের মন্তব্যে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে সিপিআইও।

পরিস্থিতি সামাল দিয়ে এদিন সিপিআই নেতারা বলেন, “জিগ্নেশ আমাদের দলের কেউ নন। তাই কানাহাইয়ার মত এই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই”। আর এখানেই রাজ্যের সিপিআই নেতাদের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন যে তাহলে এই রাজ্যে বামেরা ঠিক কোন পথে এগোবে? যখন একই মঞ্চে দুই বক্তা দু ধরনের জোট সমীকরণের কথা বলছেন তখন এই রাজ্যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কি হবে বামেদের রণকৌশল? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!