এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > বিজেপির হার, জোটের ভরাডুবি-পুরভোটে সবাইকে উড়িয়ে দিতে কোমর বেঁধে আসরে নামতে চলেছে শাসকদল

বিজেপির হার, জোটের ভরাডুবি-পুরভোটে সবাইকে উড়িয়ে দিতে কোমর বেঁধে আসরে নামতে চলেছে শাসকদল

Priyo Bandhu Media

একটি নির্বাচনের ফলাফল অন্য নির্বাচনে কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলে। লোকসভার পর রাজ্যে অনুষ্ঠিত 3 রাজ্যের বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে শাসকদলের যে কোনো পরিবর্তন হবে না, সেই কথা বুঝতে পেরেছিলেন সকলেই। তবে তাও অনেকে মনে করেছিল, লোকসভায় রাজ্যে যে বিজেপির হাওয়া প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল, সেই হাওয়া এই উপনির্বাচনে বজায় থাকবে। কিন্তু অনেকের মনের সেই ধারণা বাস্তবে রূপায়িত হতে দেখা যায়নি।

উল্টে 6 মাস আগে লোকসভার ফলাফলে দেখা যাওয়া গেরুয়া ঝড় কার্যত উধাও হয়ে গেছে বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে। আর 3 বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল ভালো ফলাফল করায় এবার মুর্শিদাবাদের 7 টি পৌরসভা দখলের আশা দেখতে শুরু করলো ঘাসফুল শিবির। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর গড় বলে পরিচিত এই মুর্শিদাবাদ জেলায় এবার তৃণমূলের শুভেন্দু অধিকারী দুটি আসন ঘাসফুল শিবিরের দখলে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তবে তারপর থেকেই তৃণমূল এখানে জয়লাভের অনেক আশা রাখলেও জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় লোকসভায় বিজেপি ভালো ফল করায় এই পৌরসভা দখল করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে ছিল শাসক দল। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জেলা নদীয়ার করিমপুরে বিজেপি যেভাবে ধুলিস্মাৎ হয়ে গেল, তাতে মুর্শিদাবাদ জেলার পৌরসভায় বিজেপির হাওয়া যে থাকবে না, সেই ব্যাপারে কার্যত নিশ্চিত তৃণমূলের নেতারা।

জানা গেছে, মুর্শিদাবাদে সাতটি পৌরসভার মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি পৌরসভা দখলের ব্যাপারে আশাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস। কেননা একদিকে এনআরসি ইস্যু আর অন্যদিকে সংখ্যালঘু ভোট, এই দুইয়ের কারণে উপনির্বাচনে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে রাজ্যের শাসক দল। তাই সেদিক থেকে সংখ্যালঘু প্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদের পৌরসভা দখলে তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মহল।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

তবে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে এখানে চিন্তিত ছিলেন শাসক দলের নেতারা। কিন্তু নদীয়ার করিমপুরে বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী গোলাম রাব্বি তৃতীয় স্থানে চলে যাওয়ায় মুর্শিদাবাদে তার কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি একাংশের। আর এই সমস্ত দিক থেকেই মুর্শিদাবাদের সিংহভাগ পৌরসভা নিজেদের দখলে রাখতে আত্মপ্রত্যয়ী ঘাসফুল শিবির।

তৃণমূলের দাবি, করিমপুর, কালিয়াগঞ্জের মত শুভেন্দু অধিকারী যদি মুর্শিদাবাদ জেলার পৌরসভা নির্বাচনের দায়িত্ব নেন, তাহলে এখানে তৃণমূলকে হারানোর মতো ক্ষমতা কারোর নেই। এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, “উপনির্বাচনের ফল প্রমাণ করে দিয়েছে, পিছিয়ে থেকেও জেতা যায়। তাই লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে আমরা বহরমপুরে পিছিয়ে থাকলেও, পৌরসভা নির্বাচনে জিতব।”

তিনি আরও বলেন, “কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। জেলার সবকটি পৌরসভা আমাদের দখলে আসবে।” তবে তৃণমূলের এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। এদিন এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা মাহফুজ আলম ডালিম বলেন, “উপনির্বাচনে জোটের খারাপ ফল হলেও এই জেলায় তার কোনো প্রভাব পড়বে না। এখানে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নিজস্ব সংগঠন রয়েছে।”

তাঁর মতে, “বুথস্তর পর্যন্ত তিনি সংগঠন করেছেন। তাই এখানে কোনো প্রভাব পড়বে না।” তবে বিধানসভা উপনির্বাচনে যা হল, তা আগেভাগে আঁচ করতে পারেনি কেউই। তাই শেষ পর্যন্ত পৌর নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলায় কে শেষ হাসি হাসে, তা আগেভাগে নির্ণয় করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!