এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > বিজেপিকে হারাতে তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস এককাট্টা হতেই সাফল্য! জেনে নিন বিস্তারিত

বিজেপিকে হারাতে তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস এককাট্টা হতেই সাফল্য! জেনে নিন বিস্তারিত

বাংলার রাজনীতিতে তারা একে অপরের শত্রু হিসাবেই পরিচিত। তবে বিজেপিকে হারাতে এবার একজোট হতে দেখা গেল বাম-কংগ্রেস এবং তৃণমূলকে। সূত্রের খবর, বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়া কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীদের হারিয়ে জয়ী হয়েছেন বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা। বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিস বেয়ারার পদের ছ’টি আসনেই বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে এক্সিকিউটিভ কমিটির ১১ টি আসনের মধ্যে নয়টিতেই জোট প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। তবে বাকি দু’টি আসনে বিজেপি সর্মথিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। জানা গেছে, এই নির্বাচনে জয়লাভের পর কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনে আব্দুল জলিল আহমেদ সভাপতি, কুমার বীরেন্দ্র নারায়ণ সহ সভাপতি, অশোককুমার ঘোষ সম্পাদক ও বিবেক দত্ত জয়েন্ট সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে দুলালচন্দ্র দে ও রঞ্জন চক্রবর্তী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদে জয়ী হয়েছেন।

এদিন এই প্রসঙ্গে তৃনমূল নেতা আব্দুল জলিল আহমেদ বলেন, “রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে তৃণমূল, কংগ্রেস এবং বাম মনোভাবাপন্নরা যৌথভাবে লড়াই করেছি। এবং রাজনৈতিক অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ওই লড়াইয়ে এবারে আমরা জয়ী হয়েছি।” একইভাবে কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনের নব নির্বাচিত সম্পাদক অশোককুমার ঘোষ বলেন, “বাম, তৃণমূল, কংগ্রেস সমর্থিত জোটের প্রার্থীরা এখানে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীদের হারিয়ে জয়ী হয়েছেন।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট পার্থ সেনগুপ্ত বলেন, “আমরা রাজনীতি করি আদালতের বাইরে। এবার লক্ষ্য করলাম, বিজেপি’র নাম করে এখানে একটা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি করা হল। তখন আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করেছি।” তবে এই নির্বাচনে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিজেপি সর্মথিত প্রার্থী সুনীল দাস বলেন, “বিজেপি সর্মথিত প্রার্থী হিসাবে মোট ১৭ জন লড়াই করে দুইজন জয়ী হয়েছেন। আমরা ভালো ভোট পেয়েছি। এখানে দীর্ঘ নয় বছর ধরে ভোট হচ্ছিল না। আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়ের প্রতিবাদ করছিলাম।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বুধবার থেকেই এই কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। জানা যায়, এবারে এখানে মোট ২৪৩ জন ভোটার ছিলেন। বুধবার সেই ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হলে রাত দু’টোর পর সমস্ত আসনের ফল ঘোষণা শেষ হয়। বিজেপির দাবি, বার অ্যাসোসিয়েশনে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন হয়নি। তাই তারা নির্বাচন চেয়েছিল। অপরদিকে, নব নির্বাচিত সভাপতি তথা প্রাক্তন সম্পাদক আব্দুল জলিল আহমেদের দাবি, আমরা বিগত দিনে বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আর সেই সব উন্নয়নকে সামনে রেখেই এবারে আমরা নির্বাচনে লড়াই করেছিলাম।

তবে বিজেপিকে হারাতে বাম-কংগ্রেস এবং তৃণমূল এই বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে একত্রিত হলে এদিন সেই ঘটনাকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির জেলা সভানেত্রী মালতী রাভা রায়। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর এবার নির্বাচন হল। কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বাম জোট করে নির্বাচনে জিতেছে। আমাদের সমর্থিত দু’জন প্রার্থী জিতেছেন।” অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে কোচবিহার জেলা তৃনমূলের সভাপতি বলেন, “জেলার বুদ্ধিজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সামপ্রদায়িক শক্তিকে হারিয়েছেন, এজন্য তাঁদের ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন।”

বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই বাংলায় গেরুয়া শিবিরের শক্তিবৃদ্ধি লক্ষ্যণীয়। আর লোকসভা নির্বাচনের পরে তো, বিজেপি এবার বাংলার মসনদ দখলের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে এর আগেই যাদের বিরোধিতা করে তাঁর উত্থান, সেই সিপিএমকেও পাশে আসার আহ্বান জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিপিএমের তরফেও জানানো হয়, রাজনীতিতে কেউ অচ্ছুৎ নয়। আর এর আগে বাংলার রাজনীতিতে কংগ্রেস-তৃণমূল বা বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট তো দেখাই গেছে।

কিন্তু, বিজেপিকে রুখতে নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেস হাত ধরাধরি করছে – এই মডেল কি দলীয় সমর্থকরা মেনে নেবেন? এই প্রশ্নই এতদিন ঘুরপাক খাচ্ছিল রাজনৈতিক বাতাসে। ছোট হলেও কোচবিহার বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কিন্তু সেই মডেলকে মান্যতা দিল বলেই মনে করছেন নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা। ফলে, সব মিলিয়ে এবার গেরুয়া শিবিরকে দমাতে বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে হাতে হাত ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করল বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল – যা কিনা বাংলার রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Top
error: Content is protected !!