এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > তোলাবাজি নিয়ে কড়া মুখ্যমন্ত্রী, দলীয় নেতা-কর্মীদের দিলেন চরম হুঁশিয়ারি

তোলাবাজি নিয়ে কড়া মুখ্যমন্ত্রী, দলীয় নেতা-কর্মীদের দিলেন চরম হুঁশিয়ারি

দলের পাশাপাশি এবার প্রশাসনের কাজেও যাতে নেতা-মন্ত্রীরা কোনোরূপ বাধা হয়ে না দাঁড়ায় সেই জন্য গতকাল পুরুলিয়ার বেলগুমা পুলিশ লাইনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং জনপ্রতিনিধিদের কার্যত সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, গতকাল দুপুরে হেলিকপ্টারে ঝাড়গ্রাম থেকে পুরুলিয়া এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী।

আর এরপরই জেলা প্রশাসনকে নিয়ে একটি বৈঠক করে সেখানে বিভিন্ন কাজের খতিয়ান নেওয়া শুরু করেন তিনি। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই গোটা প্রশাসনিক বৈঠকে সবথেকে বেশি আলোচ্য বিষয় ছিল, পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের তোলাবাজি ইস্যু।

এদিন এই বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারি প্রকল্প থেকে এক পয়সাও নেওয়া যাবে না। রঘুনাথপুরের এক কিষাণ মান্ডি থেকে 5 লক্ষ টাকার তোলা চাওয়ার অভিযোগ এসেছে।” এদিকে এই ব্যাপারে রঘুনাথপুরের ওসির কাছে বিস্তারিত জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে ঝাড়খন্ড থেকে অনেকে এসে এই পুরুলিয়ায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে বলেও জেলা পুলিশকে সতর্ক করে দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। পাশাপাশি বাঘমুন্ডি থানার ওসির উদ্দেশ্য মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাকে স্ট্রং হতে হবে। এলাকায় নজর দিন, যাতে বাইরের লোক ঢুকতে না পারে। আপনাকে দেখে দুর্বল মনে হচ্ছে।” তবে শুধু বাঘমুন্ডিই নয়, পুরুলিয়া সদর, মফস্বল, বলরামপুর, রঘুনাথপুরে ওসির কাছেও এলাকার বিষয়ে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে এদিনের এই বৈঠক থেকে পুরুলিয়ার বিগত জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতোর কথা উল্লেখ করে বর্তমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আগের সভাপতির মত ভুল করোনা। সৃষ্টির মতো সৃষ্টিছাড়া কাজ কিন্তু আর চলবে না। মানুষই আসল। তাই সাধারন মানুষের কাজ আরও বেশি করে করতে হবে।”

এদিকে পুরুলিয়া কো-অপারেটিভ সেন্ট্রাল ব্যাংকের কিষান ক্রেডিট কার্ড তৈরির কাজ নিয়েও এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এরপরই সেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান তথা রঘুনাথপুরের তৃণমূল বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র বাউরির উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি কি এখানে ঠিক মত সময় দেন?

আর বিধায়কের উত্তরে সন্তুষ্ট না হয়ে তড়িঘড়ি সেই পূর্ণচন্দ্র বাউরিকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন তিনি। সূত্রের খবর, এদিনের এই প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পুরুলিয়া পুরসভার ও রঘুনাথপুর পুরসভার কাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের মুখে পড়লে পুরুলিয়ার চেয়ারম্যান সামিম দাদ খান পর্যটনের বিকাশের কথা বলতে গেলে সাথে সাথে তাকে থামিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পর্যটনের বিকাশ করবেন, আগে শহর পরিষ্কার রাখুন। শহর নোংরা দেখলে কেউ আসবে কি করে?” এদিকে পঞ্চায়েত ভোটের গণনার সময় এই রঘুনাথপুর ও পুরুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যানকে ফোন করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি কেন এ দিন সেই ব্যাপারেও তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

পাশাপাশি এই চেয়ারম্যানদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “সাহস না থাকলে তৃণমূল কংগ্রেস করা যাবে না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, সামনে লোকসভা ভোট। আর তাই সেই লোকসভা ভোটের আগে বিগত পঞ্চায়েত ভোটে পুরুলিয়ায় কিছুটা খারাপ ফল হওয়ায় এখন থেকেই দলীয় নেতাদের ভাবমূর্তি উদ্ধার এবং সরকারি কাজে সেই সমস্ত নেতারা যাতে নাক না গলায় সেই ব্যাপারে প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই কার্যত সকলকে সতর্ক করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!