এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সৌজন্যের কাছে হার মানলো বিদ্রোহ, তৃণমূল নেতার মাস্টারস্ট্রোকে দিশেহারা বিজেপি

সৌজন্যের কাছে হার মানলো বিদ্রোহ, তৃণমূল নেতার মাস্টারস্ট্রোকে দিশেহারা বিজেপি

দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ইত্যাদি দল গান্ধীজীর ভাব ধারায় অনুপ্রাণিত তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু এই 2019 সালের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে গান্ধীজীর নীতিকে কাজে লাগিয়ে নিজের দলের পালে হাওয়া আনতে দেখা গেল তৃণমূলের পৌরসভার চেয়ারম্যানকে।

বস্তুত নাগরিক পরিষেবা ও দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে রিষড়া  পৌরসভার চেয়ারম্যানের কাছে ডেপুটেশন দিতে আসে ভারতীয় জনতা পার্টি কিন্তু চেয়ারম্যানের বুদ্ধির কাছে বাজিমাত খেয়ে যায়। বিজেপির প্রতিনিধিরা আর শেষ পর্যন্ত দিদিকে বল র কার্ড এবং গোলাপ ফুল হাতে করে ফিরতে হয় গেরুয়া শিবিরের কর্তাব্যক্তিদেরকে আর এইভাবে একদিকে যেমন সম্প্রীতি রক্ষা হয়েছে অন্যদিকে তেমন বিরোধীদেরকে রাজনৈতিকভাবে জবাব দিতে সক্ষম হয়েছেন এই পৌর চেয়ারম্যান।তাই রিষড়া  পৌরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিত্রকে এখন অভিনন্দন জানাচ্ছেন দলীয় নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত গত বুধবার বিজেপি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী ডেপুটেশন দিতে যায় রিষড়া পৌরসভাতে এদিন বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্য ছিল প্রথম থেকেই একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে চেয়ারম্যানকে দিশাহীন করে দেওয়ার। কিন্তু কথায় আছে ওস্তাদের মার শেষ রাতে, তাই চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক সুজনের কাছে এক প্রকার হাড়ি মেনে নিতে হয় গেরুয়া শিবিরের কর্মীদেরকে।

চেয়ারম্যান প্রথমে আগত দেপুটেশন বিজেপি কর্মীদেরকে অত্যন্ত সম্মানের সহকারে চাদর পরান। শুধু তাই নয় তাদেরকে রীতিমতো আমন্ত্রিত অতিথিদের মর্যাদায় আদর করা হয়. আর তারপরে প্রথমত বিজেপি কর্মীরা নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে দুর্নীতি নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের করা সমস্ত অভিযোগ শোনার পর চেয়ারম্যান আগত বিজেপি প্রতিনিধিদের হাতে দিদিকে বল কার্ড তুলে দিতে চাইলে রীতিমতো দ্বন্দ্বের মুখে পড়ে যায় আগত বিজেপি নেতৃত্ব। তারা স্বাভাবিকভাবেই কি করবেন নিশ্চিত করতে পারেন না. অবশেষে কিছু কিছু বিজেপি কর্মী দিদিকে বল কার্ড নিয়ে নেন, কার্ড নিয়ে দোনো মনো থাকলেও সৌজন্যের একেবারে শেষ পর্যায়ে চেয়ারম্যান যখন সবার সামনে গোলাপ ফুল হাজির করেন তখন না বলতে পারেননি কেউই।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এদিন চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র আগত বিজেপি প্রতিনিধিদের হাতে দিদিকে বল কার্ড তুলে দিয়ে তারপরে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় ও সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় বিরসা এলাকায় প্রচুর উন্নতি হয়েছে আর যতটুকু উন্নয়নের কাজ বাকি আছে তাও খুব শিগ্রই করা হবে। আর এরপরও যদি আপনাদের কোন অসুবিধা থাকে তাহলে দয়া করে দিদিকে বল কার্ডে যে ফোন নাম্বার আছে তাতে যোগাযোগ করুন। আশাকরি তাতেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বিজেপির শ্রীরামপুরের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল বসু জানান, তারা আজকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট মিড ডে মিল দুর্নীতি ইত্যাদির বিরুদ্ধে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি তারা জানতে চেয়েছেন mid-day-meal প্রতিদিন কত ছাত্র ছাত্রী খাচ্ছে? দিদিকে বল কর্মসূচির ব্যাপারে তিনি বলেন, দিদিকে সরাসরি বলেই কোন কাজ হচ্ছে না। সেখানে কাজ নিয়ে কি হবে বলাই বাহুল্য।

তিনি আরো বলেন যে, তিনি এই কার্ড গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন সৌজন্যের খাতিরে দু একজন বিজেপি কর্মী কার্ড করতেই পারে আর একই সৌজন্যের কারণেই সকল চেয়ারম্যানের কাছ থেকে গোলাপ ফুল নিয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে পদ্মফুলে রাজনীতিকে যেভাবে গোলাপ ফুল দিয়ে রুখে দিলেন চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্র অন্যদের কাছে তা অনুকরণ এর বিষয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Top
error: Content is protected !!