এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > তৃণমূলপন্থী শিক্ষক সম্মেলনে বেতন বাড়ানো দূরে থাক একাধিক বিষয়ে পাল্টা চাপ শিক্ষকদের

তৃণমূলপন্থী শিক্ষক সম্মেলনে বেতন বাড়ানো দূরে থাক একাধিক বিষয়ে পাল্টা চাপ শিক্ষকদের

তৃণমূলপন্থী প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির দাবী মেটানোর দিকে কোনো গুরুত্ব না দিয়েই একাধিক অভিযোগ তুলে শিক্ষকদেরই পাল্টা চাপের মুখে ফেললেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলোর পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস নেওয়া,মিড ডে মিল নিয়ে তাঁদের অবহেলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তিনি। সঙ্গে এটাও মনে করিয়ে দিলেন,আজ যে তাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবী করার যোগ্য হয়েছেন,সেই যোগ্যতায় তাঁদের পৌছে দিতে সাহায্য করেছে তৃণমূল সরকারই। বিনামূল্যে তাঁদের প্রশিক্ষণ বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

বললেন,বাম সরকার নিজেদের ক্যাডার ঢোকানোর জন্যে ক্লাস এইট পাশ করা শিক্ষকও নিয়োগ করেছিলেন একসময়। শিক্ষক নিয়োগে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না সেসময়। জেলা থেকে নাম লিখে শিক্ষকতার চাকরি দেওয়া হত। তবে তৃণমূলের আমলে এসব বরদাস্ত করা হয় না। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আগের থেকে অনেক স্বচ্ছ হয়েছে।

পার্থ বাবুর দাবী, প্রতিনিধিত্বমূলক সম্মেলন হওয়া সত্ত্বেও এদিন সভায় ৬০০০ জনের মতো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। গোটা রাজ্যে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সদস্য সংখ্যা লাখেরও বেশি। তাই পরে বড় কোনো জায়গায় রাজ্য সম্মেলন করার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন তিনি।

এদিন ভাষণে বেতন বৃদ্ধি, ছুটি সংক্রান্ত দাবীদাওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি বিষয়ে সার্কেল স্তরের নেতাদের ক্ষমতা দেওয়ার দাবী করলেন পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি পশ্চিম মেদিনীপুরের এক নেতা কৃষ্ণেন্দু বিষয়ী। অন্তত দু’জন শিক্ষকের যাতে বদলি ব্যবস্থা করতে পারেন,তারই অনুমোদন চাইলেন সরকারের কাছ থেকে।

এই প্রেক্ষিতে কটাক্ষ করে পার্থ বাবু বলেন,’আপনারা নিজেরাই সব করে নেবেন, আর সরকার মুখ দেখবে, তা তো হতে পারে না। অনৈতিক কোনও কিছু বরদাস্ত করা হবে না।’ এর সঙ্গে জুড়ে তিনি এটাও জানান যে সমিতির সভাপতি অশোক রুদ্রকে বলা হয়েছে জেনুইস কেস থাকলে তবেই যেন পার্থ বাবুকে রিপোর্ট করা হয়। আর যেটাকে বদলি বলা হচ্ছে সেটা আসলে র‍্যাশনালাইজেশন। এটা করার পরই প্রকৃত শূন্যপদ প্রকাশ্যে আসবে। তারপরই ভাবা হবে নতুন শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে, এমনটাই জানালেন তিনি।

তৃণমূলের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি অশোক রুদ্র বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁদের সময়েী পিটিটিআই আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন,সিপিএম সেসময় ইচ্ছেবশতই প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক করে রেখেছিল। প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণের সময় সীমা দুবছরের বদলে একবছর করে দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় নিয়মের পরিপন্থী এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছিল কারণ সেসময় বেশীরভাগ পিটিটিআই শাসকদলের অধীনে ছিল। তাঁদের অসুবিধার কথা ভেবেই শুরু হয়েছিল পিটিটিআউ আন্দোলন।

সেসময় সার্টিফিকেট বাতিল হয়ে যাওয়ার জেরে অনেকেই আত্নহত্যা করেছেন,এমন প্রমাণও রয়েছে। তৃণমূল সরকার এসে এই সমস্যার সমাধান করেছেন। সংশাপত্র বাতিল হয়ে যাওয়া প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। অশোক বাবুর এই যুক্তি শুনে দীর্ঘদিন ধরো পিআরটি স্কেলের দাবী করে আসা শিক্ষকরা একরকম দমেই যান।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবে পার্থ বাবুর ভাষণের সময় এক শিক্ষিকা একবার আওয়াজ তুলে বলেছিলেন,ঝাড়খন্ড পিআরটি স্কেল দিতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন পারবে না? এদিন দাবীদাওয়া মেটার আশ্বাস না পেয়ে বহু শিক্ষকই রাজ্যসরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। এই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী শিক্ষক মঞ্চের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গেল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!