এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শহীদ দিবসে এসেছিলেন কিন্তু শহীদ দিবস কি জানা নেই কর্মীদের

শহীদ দিবসে এসেছিলেন কিন্তু শহীদ দিবস কি জানা নেই কর্মীদের

শহীদ দিবসে তৃণমূলের জনসভা চত্বরে ভিড় জমিয়েছেন লক্ষ লক্ষ সমর্থক। মঞ্চ থেকে তৃণমূলের নেতারা জ্বালাময়ী ভাষণ দিচ্ছেন। দর্শকাসনে মুর্হুমুহু হাততালি দিচ্ছেন উপস্থিত জনতা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা কথা বলছিলেন দর্শকাসনে বসে থাকা তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে। তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করা হল, শহীদ দিবস কী? দর্শকাসনে উপস্থিত দলীয় কর্মীদের একাংশ ঘাড় নাড়লেন, ‘না, না, জানি না।’ তাহলে কেন এসেছেন? উত্তর এল, ‘আসতে বলেছিল।’ পাশ থেকে একজন বলে উঠলেন, ‘কেন এসেছি সেটা আমাদের সভাপতি বলতে পারবেন। আমরা জানি না।’
শনিবারে ধর্মতলায় তৃণমূলের শহীদ দিবসে পাওয়া গেল এমনই টুকরো টুকরো ছবি। শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থক-সহ দলের শুভাকাঙ্খী নারী পুরুষ নির্বিশেষে উপস্থিত হয়েছিলেন শহর কলকাতায়। তাঁদের লক্ষ্য একটাই, দলনেত্রীকে সামনে থেকে দেখা এবং তাঁর ভাষণ শোনা। প্রত্যেক এলাকার স্থানীয় নেতা কর্মীদের সৌজন্যে দিন আনি দিন খাই সাধারণ মানুষ এদিন

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

——————————————————————————————-

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

বহু পথ পার হয়ে জনসভা চত্বরে হাজির হয়েছিলেন। শাসক দলের নেত্রীর সমর্থনে এত মানুষের উপস্থিতি দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক, দলের ইতিহাস সম্পর্কে সকলে কতই না ওয়াকিবহাল। কিন্তু ঘোর কাটবে যখন জানা যাবে আগত মানুষের একটা বড় অংশই জানেন না শহীদ দিবস কি? কেনই বা ঘটা করে দল এই দিন পালন করে? সর্বোপরি কী কারণে ভিড় করে সভাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন এত মানুষ?
এদিন ধর্মতলার সভাস্থলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা তৃণমূল সমর্থকদের প্রশ্ন করলেন, শহীদ দিবস কী? প্রশ্ন শুনে বেশীরভাগ কর্মী-সমর্থকেরই ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা।’ কেউ হেসে ফেললেন, কেউ মাথা চুলকোলেন, কেউ সরাসরি বলে দিলেন, ‘জানি না’। আবার কয়েকজন জানালেন, “শহিদ দিবস কী জানা নেই। দিদির নেতৃত্বে আমাদের আসতে বলা হয়েছে। দিদিকে ভালোবাসি। দিদির কাজকর্ম ভালোলাগে। তৃণমূল কংগ্রেসকে ভালোবাসি। তাই, এখানে আসা।” অনেকে আবার বললেন জানেন। কি ঘটেছিলো কেন এই শহীদ দিবস পালন করা হয়। তবে বেশিরভাগটাই ছিল অজানা।কেউ বললেন জানি না তবে মোদী প্রধান মন্ত্রী হবে না, দিদিই প্রধানমন্ত্রী হবে। কেউ বললেন, ওসব জানি নি তবে বিজেপিকে দিদি আজকে খুব কথা শোনাবে বটে।
এবার ফিরে দেখা যাক কী এই শহীদ দিবস ? ঠিক কী ঘটেছিলো ২৫ বছর আগে আজকের দিনে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহাকরণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন। দাবি ছিল নো আইডেন্টিটি কার্ড, নো ভোট। একই সঙ্গে বেকার সমস্যার সমাধান। সেই অভিযানে উপস্থিত দলীয় কর্মীদের ওপর নির্বিচারে লাঠি, গুলি চালিয়েছিল পুলিশ। মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জনের। এরপর থেকেই সেই সময়কার যুব কংগ্রেস সভানেত্রী এবং বর্তমানের তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়এর নেতৃত্বে প্রতিবছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়।

Top
error: Content is protected !!