এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > রাষ্ট্রপতি পুরস্কার আর ভারতরত্ন এক! তৃণমূলীদের অবাক সাফাইয়ে অস্বস্তি বাড়ছে উপনির্বাচনের আগে

রাষ্ট্রপতি পুরস্কার আর ভারতরত্ন এক! তৃণমূলীদের অবাক সাফাইয়ে অস্বস্তি বাড়ছে উপনির্বাচনের আগে

রাজ্যের তিনটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন আসন্ন – আর সেখানে সমস্ত দলই নিজেদের প্রার্থী ঠিক করে জোরদার প্রচারে নেমে পড়েছে। লক্ষ্য একটাই, উপনির্বাচনের কেন্দ্রগুলিকে নিজেদের দখলে রাখা। আর সেই নিয়ে প্রচারে ঝড় তুলেছে প্রত্যেকেই। বিশেষ করে লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় গেরুয়া ঝড় লক্ষ্য করার পর এবং সব মন কষাকষি ভুলে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস পুনরায় জোট করায় – কার্যত এই উপনির্বাচনকে ২০২১-এর সেমিফাইনাল বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।

এর মধ্যে করিমপুর আসনটি হলো কার্যত তৃণমূলের কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। কেননা, ৩ টি আসনের মধ্যে একমাত্র এই আসনেই লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। এই আসনটি যে লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, সেই মুর্শিদাবাদেও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ঘাসফুল শিবির। তবুও রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে এখনো দোলাচলে আছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মুখে তৃণমূল জিতবে বললেও, ভেতরে ভেতরে কোথাও যেন আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে বলে মনে করছে বিরোধীরা।

আর, এরমাঝেই এদিন করিমপুরের প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়কে নিয়ে তৃণমূলের ‘ভুল ও মিথ্যা’ প্রচার নিয়ে ত্বর কটাক্ষের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন বিরোধীরা। প্রসঙ্গত, বিরোধীদের তরফে অভিযোগ উঠেছে ভোট টানতে তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়কে নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তৃণমূলে তরফ থেকে। এমনকি শুধু মুখেই নয় এবার দেওয়াল লিখনের দাবি করা হচ্ছে তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায় নাকি ‘ভারতরত্ন’ পদকপ্রাপ্ত। আর যা নিয়ে করিমপুর তো বটেই, রীতিমত শোরগোল পরে গেছে গোটা রাজ্য রাজনীতিতেই।

অভিযোগ আগেও ছিল যে, একথা জেলা তৃণমূল নেতৃত্বর মৌখিক প্রচারে শোনা গিয়েছিল। আর এবার তো দেওয়াল লিখনের প্রচারে জ্বলজ্বল করছে ‘ভারতরত্ন বিমলেন্দু সিংহ রায়’! যা নিয়ে রীতিমত সরব হয়েছেন বিরোধীরা। আর সেই অভিযোগ সত্যি করে, এখন সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও শেয়ার হলো। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই দেওয়াল লিখনের ছবিও ভাইরাল হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন এ কথা সত্যি কিন্তু তিনি ভারতরত্ন পদক পেয়েছেন একথা কোন অংশে সত্য নয়।

তবুও কেন তৃণমূলে তরফ থেকে এই দাবি করা হচ্ছে? এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীরা দাবি করছেন, আগে থেকেই এখানকার তৃণমূলের প্রচারের দায়িত্বে থাকা নেতারা দাবি করছিলেন যে করিমপুরের তৃণমূল প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায় নাকি ভারতরত্ন পেয়েছেন। আর এরপর তো দেওয়ালে পরিষ্কার লিখে দেওয়া হয়েছে যে তিনি ভারতরত্ন পদক পেয়েছেন। আর এই খবর ভাইরাল হয়ে যেতেই – তাড়াতাড়ি তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে – ওটা ভুল হয়ে গেছে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এমনকি, করিমপুরের দায়িত্বে থাকা ‘টীম প্রশান্ত কিশোর’ও জানিয়েছে, ওই ভুল চোখে আসতেই – তা শুধরে নেওয়া হয়েছে। শাসকদলের মোটামুটি যে স্তরেই কথা বলা হোক – এই ‘ভুলের দায়’ কার্যত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের উপরেই। আর স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, ভুলবশত ওটা লেখা হয়ে গেছে! তৃণমূল প্রার্থী ‘ভারতরত্ন’ নয়, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছেন। তা গুলিয়ে ফেলে, যারা দেওয়াল লিখতে গিয়েছিলো, ভারতরত্ন লিখে ফেলেছে! মুছে দেওয়া হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, আর তাছাড়া বড়সড় একটা পুরস্কার তো পেয়েছেন – ‘রাষ্ট্রপতি পুরস্কার’ পাওয়াও তো মুখের কথা নয়! আর আমরা কি জানি? প্রার্থী বাছাই থেকে প্রচারের রণকৌশল ঠিক – যা করছেন সব তো পিকে! আমাদের কাছে যা তথ্য এসেছে, তার ভিত্তিতেই প্রাথমিকভাবে ‘ভারতরত্ন’ বলে প্রচারে ঝড় তোলার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তীকালে, নির্দেশ এসেছে ওই তথ্য ভুল – এখন তো তা বদলেও দেওয়া হবে! এই নিয়ে এত বিতর্কের তো কিছু নেই!

করিমপুর ঘুরে – চায়ের দোকান থেকে পার্টি অফিস, এই নিয়ে আলোচনা হলেই মোটামুটি এই উত্তরই আসছে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের মুখে। বেশি চেপে ধরলে উত্তর আমি ছোটখাটো সংগঠনে আছি, দলকে ভালোবেসে দলের কাজ করি! আমি কি জানি – এইসব বড় বড় বিষয়ে! যাঁরা এই তথ্য দিয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গে গিয়ে কথা বলুন! আর এইখানেই উঠছে প্রশ্ন উঠছে – যেখানে দলীয় কর্মীরাই, নিজেদের প্রার্থীর সম্পর্কে সমস্ত তথ্য ঠিকঠাক জানেন না! তাহলে, প্রচারে গিয়ে সাধারণ মানুষকে তাঁরা ঠিক কি বলছেন? সেখানে কি রয়েছে আরও ভুলভ্রান্তি?

এইরকম একটি ‘হাতে গরম’ ইস্যু পেয়ে ছাড়তে রাজি নয় বিরোধীরাও! প্রচারে গিয়ে তাঁদের স্পষ্ট দাবি, মানুষকে তৃণমূল প্রার্থীকে নিয়ে ভুল বোঝানো হচ্ছে। তৃণমূলের অবস্থা এখন এমনই হয়েছে – মুখে বললেও সংগঠনে জোড় তেমন আর নেই! নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত বলেই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জেতার চেষ্টা করছে! এখনও যাঁরা তৃণমূল করছেন, তাঁরা সকলেই জল মাপছেন! তৃণমূলের ‘নিজস্ব’ বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই, সবটাই প্রশান্ত কিশোর হয়ে গেছে! এই তৃণমূলকে জেতানোর আগে দুবার ভাবুন!

কিন্তু, কেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে সেই প্রচারে? গেরুয়া শিবিরের প্রচারের দায়িত্বে থাকা এক নেতার কথায়, তৃণমূলের ‘গড়’ বলে পরিচিত এলাকাতে গিয়েও যখন এইসব কথা তুলে ধরা হচ্ছে, বিরোধিতা কেউই করছেন না! কেননা এটাই তো সত্যি, এটাই তো বাস্তব! কেননা নিজেদের দলের বিধানসভার যিনি প্রার্থী হচ্ছেন, তাঁর সম্পর্কে সাধারণ তথ্যটাও দলীয় কর্মীদের কাছে নেই! ফলে, এইসব উল্টোপাল্টা লিখে মুখ পুড়ছে, যা আগামীদিনে নিশ্চিতভাবেই ভোটবাক্সে বড় প্রভাব ফেলবেই! আর যদি ‘জেনে বুঝে’ এটা লেখা-প্রচার হয়ে থাকে – তাহলে তো নিজেদের উপর আর যে আস্থা নেই তৃণমূলের, তা মানুষের কাছে জলের মত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে!

রাজনৈতিকমহলের মতে, এই খবর সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা হলেও তৃণমূল ব্যাকফুটে চলে গেছে, আর অ্যাডভান্টেজ পেতে চলেছে বিজেপি। কেননা একদা বামেদের গড় হলেও, এখানে মূল লড়াইটা তৃণমূল বনাম বিজেপিই হতে চলেছে। আর লোকসভা নির্বাচনে এখানে পিছিয়ে থাকলেও, প্রচারে কোনো কসুরই ছাড়ছেন না গেরুয়া শিবিরের নেতারা। আর তার মাঝেই ‘ভারতরত্নের’ ব্রম্ভাস্ত্র হাতে এসে যাওয়ায়, দ্বিগুন উৎসাহ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে দলের তরুণ ব্রিগেড। এখন দেখার এই ইস্যু ভোটবাক্সকে কিভাবে, কোনদিকে আন্দোলিত করে।

আপনার মতামত জানান -
Top