এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > পিকের নির্দেশে নতুন স্ট্র্যাটেজি তৃণমূল বিধায়কদের, সোশ্যাল মিডিয়া হতে চলেছে বড়সড় অস্ত্র!

পিকের নির্দেশে নতুন স্ট্র্যাটেজি তৃণমূল বিধায়কদের, সোশ্যাল মিডিয়া হতে চলেছে বড়সড় অস্ত্র!

তৃণমূলের থেকে বিজেপি যে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকটাই এগিয়ে, তা অনেক জায়গাতেই স্বীকার করে নেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কিন্তু বর্তমান মোবাইল, ইন্টারনেটের যুগে রাজনীতি যে সেই সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর অনেকটাই নির্ভর, তা বুঝতে পেরেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের মধ্যে যেমন দলীয় নেতাদের স্বজনপোষণ, দুর্নীতি দায়ী, ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা উন্নয়ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোমতো প্রচার না করার জন্যই যে ফল ভালো হয়নি, তাতে নিশ্চিত একাংশ।

আর তাই এবার লোকসভার ফলাফলে ভরাডুবির পর দলের বিধায়কদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন প্রশান্ত কিশোর। কেননা সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়া জেলায় তৃণমূলের হারের পেছনে দলের বিধায়কদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ফলোয়ারের সংখ্যা যে নামমাত্র, তা দেখে নিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের টিম। আর তাই সম্প্রতি তৃণমূল ভবনে এক বৈঠক সেই বিধায়কদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তারা।

জানা গেছে, রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ মত ইতিমধ্যেই জেলার অনেক তৃণমূল বিধায়ক সোশ্যাল মিডিয়া সেলের কর্মীদের মাধ্যমে নিজের ফেসবুক পেজকে শক্তিশালী করতে চাইছে। যার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত স্ট্যাটাস দিয়ে ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়াতে চাইছেন তারা। এদিন এই প্রসঙ্গে মানবাজারের তৃণমূল বিধায়িকা তথা মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের নিজেদের তৎপরতা কয়েকগুণ বেড়েছে, একথা সত্য। আমাদের ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়ছে। এতে দলের কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিরোধীদের অপপ্রচার, সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিকে এই প্রসঙ্গে পুরুলিয়ার কো-অর্ডিনেটর তথা জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ গুরুপদ টুডু বলেন, “আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা পিছিয়েছিলাম, একথা মানতেই হয়। সেই সময় বিজেপির অপপ্রচারের জবাব ঠিকমতো দেওয়া সম্ভব হয়ে উঠত না। তবে বর্তমানে পুরুলিয়া জেলাতে দলের সোশাল মিডিয়া টিমের মাধ্যমে বিজেপির প্রতিটি অপপ্রচারের জবাব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। দলের পরামর্শ মত প্রতিটি বুথ থেকে পাঁচজন করে সোশ্যাল মিডিয়ার কর্মী কাজ করে চলেছেন।”

তিনি আরও জানান, “অঞ্চল, ব্লক এবং‌ জেলাস্তরে সোশ্যাল মিডিয়ার কর্মীরা কাজ করছেন। বিভিন্ন স্তরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।” অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে বান্দোয়ানের তৃণমূল বিধায়ক রাজীব লোচন সোরেন বলেন, “বিধায়ক হিসেবে নিজে এখন ফেসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যান্য মাধ্যমে অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছি। অনেক সময় বিধায়ক হিসেবে নিজের অপপ্রচারের পাল্টা জবাব দিয়ে তথ্য দেওয়ার আগেই এলাকার যুব কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়টি ভালোভাবে সামলাচ্ছেন।”

তাঁর মতে, “তবে গ্রামীণ এলাকায় অনেক সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল থাকলেও, তারা এই সোশ্যাল মিডিয়ার বিষয়ে সড়গড় নন।” তবে এই প্রসঙ্গে কাশীপুরের তৃণমূল বিধায়ক স্বপন বেলথরিয়া বলেন, “আগে আমরা শুধু মাঠে কাজ করেছি। ঠিকমত প্রচার করতে পারিনি। কিন্তু বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিটি বুথে দুজন করে সোশ্যাল মিডিয়ার কর্মী আমাদের সঙ্গে যাচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে উন্নয়নের কাজের পাশাপাশি বিজেপির অপপ্রচারের জবাব দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা নিজেদের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছি।”

সব মিলিয়ে পিকের টিমের নির্দেশমতো এবার যে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তৃণমূল বিধায়করা দ্রুত গতিতে ছুটছেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত প্রায় প্রত্যেকেই। তবে বিধায়করা অভিনব প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজেদের প্রচার চালালেও, তা কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। বিশেষ করে বারেবারেই যেখানে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ উঠেছে, বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া সেল নিয়ে। কিন্তু, এবার সেই বিজেপির অস্ত্রেই গেরুয়া শিবিরকে মাত দিতে উঠে পরে লাগল ঘাসফুল শিবির।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!