এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের আসল মাস্টারমাইন্ড প্রাক্তন টিএমসিপি নেতাই – একপ্রকার নিশ্চিত তদন্তকারীরা

সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের আসল মাস্টারমাইন্ড প্রাক্তন টিএমসিপি নেতাই – একপ্রকার নিশ্চিত তদন্তকারীরা

বাগদেবীর আরাধনায় যখন গোটা রাজ্য উৎসবে মত্ত হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই শনিবার নিজের বাড়ির কাছে সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠান চলাকালীন গুলি করে খুন করা হয় কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তথা নদীয়া জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি সত্যজিৎ বিশ্বাসকে। আর এই ঘটনায় সেই তৃণমূল বিধায়ক গুলি চলাকালীন মাটিতে লুটিয়ে পড়ার সাথে সাথেই প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখতে পান যে, এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন একদা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা হিসেবে পরিচিত অভিজিৎ পুন্ডারী।

আর এই ঘটনায় একাংশেরই সন্দেহ হয় যে, তাহলে কি বিধায়ক খুনের মূল ষড়যন্ত্রী সেই অভিজিৎ পুন্ডারী! আর এই জল্পনাকে সত্যি করে কৃষ্ণগঞ্জের নিহত তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসকে খুনে অভিযুক্ত সুজিত মন্ডলকে জেরা করে সেই অভিজিৎ পুন্ডারীর নাম পেয়েছেন গোয়েন্দারাও।

কিন্তু কেন এই অভিজিৎ পুন্ডারী খুন করতে গেল সেই সত্যজিৎ বিশ্বাসকে? তাহলে কি এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল? ধৃত সুজিত মন্ডলকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে পলাতক মূল অভিযুক্ত অভিজিৎ পুন্ডারী বগুড়া কলেজের প্রাক্তন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা ছিলেন।

বগুড়া কলেজের ছাত্র সংসদের সাথে যুক্ত থাকার সময়ে ছাত্র ভর্তিতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠলে স্থানীয় বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার দ্বন্দ্ব বাঁধে। এমনকি নিহত তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস তাঁকে চড় থাপ্পড়ও মারেন বলে জানা যায়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

গোয়েন্দাদের ধারণা, এই ঘটনা থেকেই সত্যজিৎ বাবুর প্রতি ক্ষোভ জন্মায় সেই অভিজিৎ পুন্ডারীর। আর তারপরই সে স্থির করে নেয় যে, পথের কাঁটাকে সরাতে হবে। জানা গেছে, গত 2018 সালের শুরুর দিকে বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি পাওয়ার কথা বাড়িতে জানিয়ে কলকাতার সল্টলেকে একটি ডেরা বাঁধে সেই অভিজিৎ পুন্ডারী। আর এরপরই তিন মাস পর ফের নিজের বাড়িতে ফিরে আসে সে। এদিকে সকলে তাঁকে অভিজিৎ পুন্ডারী বললেও পাড়ার লোকেরা বেশির ভাগই তাঁকে কালো জিরে বলে ডাকত। কেননা তার গায়ের রং অনেকটাই কালো ছিল।

এদিকে সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে ধৃত সুজিত মন্ডল জেরায় গোয়েন্দাদের জানিয়েছে যে, কলকাতা থেকে ফিরেই বিধায়কের গতিবিধির ওপর নজর রাখত সেই অভিজিৎ পুন্ডারী। আর সরস্বতী পুজোর দিন সুযোগ পেয়েই সে বিধায়ককে গুলি করেছে। তবে বিধায়কের সাথে সবসময় ঘুরলেও দাদার এহেন টার্গেট ছিল বলে জানতেন না সেই বিধায়ক খুঁড়ে মূল অভিযুক্ত পলাতক অভিজিৎ পুন্ডারীর ভাই প্রসেনজিৎ পুন্ডারী।

এদিকে কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে অভিযোগের তীর একদা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা অভিজিৎ পুন্ডারীর দিকে উঠলেও এই নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজা। এদিন বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে নদীয়া জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্ত বলেন, “সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় বিজেপি যে জড়িত রয়েছে তা দিনকে দিন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই ষড়যন্ত্রে হাত রয়েছে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের। অভিযুক্ত বিজেপিই করত।”

অন্যদিকে সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে মূল অভিযুক্ত পলাতক অভিজিৎ পুন্ডারীর সাথে বিজেপির কোন যোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপির নদীয়া জেলার সভাপতি জগন্নাথ সরকার। তবে রাজনৈতিক তরজা যে পর্যায়ে পৌছক না কেন, নদীয়ায় কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে এখন মূল অভিযুক্ত তথা চর্চার চর্চিত বিষয় অভিজিৎ পুন্ডারীকে ঠিক কবে গ্রেফতার করতে পারেন গোয়েন্দারা এখন সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!