এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > বিরোধ মিটিয়ে কি কাছাকাছি হেভিওয়েট তৃণমূল মন্ত্রী ও সাংসদ? প্রকাশ্যে ‘প্রণামের’ ঘনঘটায় বাড়ছে জল্পনা

বিরোধ মিটিয়ে কি কাছাকাছি হেভিওয়েট তৃণমূল মন্ত্রী ও সাংসদ? প্রকাশ্যে ‘প্রণামের’ ঘনঘটায় বাড়ছে জল্পনা

অতীতের ঘটনা হাইলাইট করছে তাঁদের পারস্পরিক মনোমালিন্যকে৷ তারপর হঠাৎ করে কী হল যে সম্পর্ক মসৃণ হয়ে গেল? এই প্রশ্ন নিয়ে সম্প্রতি জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্যরাজনৈতিক মহলে। আর এই জল্পনার মূলে রয়েছে দিন দু’য়েক আগের ঘটনা। সম্প্রতি কোচবিহারের প্রশাসনিক কাজকর্মের হালচাল জানার জন্যে জেলা সফরে গিয়েছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সেখানে দিনহাটার নাজিরহাটে সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের পাট্টা প্রদানের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রবীন্দ্রনাথ বাবু।

প্রকাশ্যেই তাকে ‘কাকা’ বলে সম্বোধন করে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলেন কোচবিহার সাংসদ তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। এ প্রসঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে পার্থপ্রতীম বাবু জানান “বছরের প্রথম দিনে কাকাকে পাইনি। তাই এদিন কাকাকে পেয়ে প্রণাম করলাম।” তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি রবীন্দ্রনাথ বাবুকে। প্রকাশ্যেই এদিনের এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেখে অনেকেরই চক্ষু ছানাবড়া হয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জনও শুরু হয়েছে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে,এমনটাই জানা গিয়েছে।

 

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

দলীয় সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে,উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ‘কাকা’ বলেই ডাকেন কোচবিহারের সাংসদ তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। রবীন্দ্রনাথ বাবুর হাত ধরেই রাজনীতির জগতে প্রবেশ তাঁর। একসময় রবীন্দ্রনাথ বাবুর সুপারিশেই কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের টিকিট পেয়ে সাংসদ হয়েছিলেন পার্থপ্রতীম বাবু৷ তখন থেকেই কাকা-ভাইপোর সম্পর্ক ছিল তাঁদের মধ্যে।

কিন্তু বছর খানেক আগে এলাকায় ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের যুব সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতির জেরে পঞ্চায়েত নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়। পার্থপ্রতীম বাবুর বৌদি ভোটে দাঁড়িয়ে হেরে যাওয়ায় অভিযোগের আঙুল ওঠে রবীন্দ্রনাথ বাবুর গোষ্ঠীর দিকে।

অন্যদিকে, পার্থপ্রতিম বাবুর অনুগামীদের বিরুদ্ধে দেওয়ানহাটে রবীন্দ্রনাথ বাবুকে হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে। উক্ত ঘটনায় পার্থপ্রতিম বাবুর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ বাবু। এবং তাঁর নামোল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে জানিয়েছিলেন,এবার থেকে তাঁকে (রবীন্দ্রনাথ ঘোষ) -কে যেন আর কাকা না ডাকা হয়।

এর পরবর্তী পরিস্থিতি এতোটাই জটিল হয়ে যায় যে দুজনের মুখ দেখাদেখিই বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রেক্ষিতে গতকালের অনুষ্ঠানে হঠাৎ করেই জনসমক্ষে রবীন্দ্রনাথ বাবুকে প্রণাম করে সকলকে চমকে দেন কোচবিহারের সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়। রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলে দেন উন্নয়ন মন্ত্রীকে। কেন হঠাৎ করে পার্থপ্রতিম বাবু এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটালেন তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে৷

আসলে শিয়রে লোকসভা ভোট। তাই নির্বাচনের টিকিট পাওয়া এবং ভোটে জেতার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ বাবুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে,এটা বলাবাহুল্য। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই কাকাকে খুশি করতে ভাইপোর এই প্রণাম। এমনটাই অভিমত বিশ্লেষকদের। তবে কাকা আদৌ খুশি হয়েছেন কিনা সেটা সাফ বোঝা যায় নি। কারণ উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বাবুকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রতিক্রিয়ায় কিছুই জানাননি।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!