এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় একাধিক বেনিয়ম, পথে নেমে আন্দোলনে তৃনমূলীরাই

তৃণমূল পরিচালিত পুরসভায় একাধিক বেনিয়ম, পথে নেমে আন্দোলনে তৃনমূলীরাই

রাজ্যের শাসক দলের গোষ্ঠী কোন্দল নতুন কিছু নয়। বারবারই তৃণমূলের এক গোষ্ঠীর সঙ্গে আরেক গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে বিভিন্ন প্রকারের বড় ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায়। কিন্তু নিজের দলের বিরুদ্ধে নিজের দলের কর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভের সাক্ষী হয়ে থাকল ঝালদা পৌরসভা। এখানে তৃণমূল পরিচালিত পৌরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পথে নেমে আন্দোলন করতে দেখা গেল তৃণমূল কর্মীদেরকে।

আর শুধুমাত্র প্রতিবাদ নয়, পৌরসভা ভবন ঘেরাও করে পৌরবোর্ডের বিরুদ্ধে বিরোধ প্রদর্শন করেন ঝালদা পৌরসভার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা। যার জেরে বর্তমানে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদলের নেতৃত্ব। বিক্ষোভকারী তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের অভিযোগ মূলত পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ কর্মকারের বিরুদ্ধে। যদিও বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছে, এই যে ঘেরাও এবং প্রতিবাদ আসলে পুরপ্রধান প্রদীপ কর্মকার বনাম প্রাক্তন পৌরপ্রধান সুরেশ আগরওয়ালের গোষ্ঠী কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ।

এদিন গ্রীন সিটি প্রকল্পের অর্থনৈতিক দুর্নীতি নিয়ে সরব হতে দেখা যায় বিক্ষোভকারী তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদেরকে। তাদের প্রশ্ন, এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ 70 লক্ষ টাকার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও ওই প্রকল্পেরই তিন লক্ষ 67 হাজার টাকা দুই বার করে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। যার জেরে আন্দোলনমুখী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের একাংশ।

শুধু আন্দোলন বা পৌরসভা ভবন ঘেরাও নয়, নিজের দলের পুর প্রধানের বিরুদ্ধে রীতিমত পোস্টারিং করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারী তৃণমূল নেতাদেরকে। আর সেই পোস্টারে পৌরসভার আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের দাবি করা হয়েছে। যা রীতিমত বেকায়দায় ফেলেছে রাজ্যের শাসক দলের নেতা, নেত্রীদেরকে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

এদিন এই বিষয়ে ঝালদা শহর তৃণমূলের আহ্বায়ক দেবাশিস সেন রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা বিনিময়ে তদন্ত চেয়েছি। তদন্ত না হলে পুজোর পরে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করব। পুরপ্রধানকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দলের কেউ জড়িত থাকলে তাকেও যেন রেয়াত না করা হয়।” তবে গোটা বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পৌরসভার চেয়ারপার্সন প্রদীপবাবু বলেন, “যে সমস্ত বেনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা আমরা খতিয়ে দেখব। তবে যে অভিযোগগুলি উঠেছে, সেই কাজগুলির কোনটাই আমার আমলে হয়নি। তখন সুরেশ আগারওয়াল পৌরপ্রধান ছিলেন।”

তবে এই ব্যাপারে পুরসভার 10 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুরেশ আগরওয়াল দাবি করেন, কোনো তদন্তে ভয় পাই না। তবে আমি পুরো প্রধানের পদ ছেড়ে আসার পরে টেন্ডার ছাড়াই তিন কোটি টাকার কাজ হলো সেটারও যেন তদন্ত হয়। তবে ঝালদা পৌরসভা নিয়ে বিশেষ সূত্রের খবর মোতাবেক, এদিন যারা পৌরপ্রধানকে রীতিমত ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, তারা আদতে পৌরপ্রধান প্রদীপবাবুরই অনুগামী।

প্রাক্তন পৌরপ্রধানকে চাপে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রদর্শিত করা হয়েছে। যাতে করে প্রাক্তন পৌরপ্রধানের উপরে চাপ সৃষ্টি হয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি করা নিয়ে সম্প্রতি বর্তমান পৌরপ্রধান এবং প্রাক্তন পৌর প্রধানের মধ্যে রীতিমতো তীব্র হয়ে ওঠে কলহ। সুরেশবাবু রীতিমতো অভিযোগ করেন, তার ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে বাসিন্দারা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বাড়ি তৈরীর কিস্তির টাকা পাচ্ছে না। বিতর্কের মুখ অন্যদিকে ঘোরাতেই আমার বিরুদ্ধে এইসব করা হচ্ছে।”

কিন্তু বর্তমান এবং প্রাক্তন পৌরপ্রধানকে কেন্দ্র করে যে ধরনের রাজনৈতিক চাপানউতোর সৃষ্টি হয়েছে ঝালদা পৌরসভায়, রাজ্যের শাসক দলের পক্ষে কিন্তু যথেষ্ট শুভকর বিষয় নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন রাজ্যের শাসকের উপরে রীতিমত চাপ সৃষ্টি করছে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি, সেই সময় নিজের দলের নেতারা যদি এইভাবে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে বিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে তৃণমূল সামলাবে কি করে! তা নিয়েই রীতিমতো প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।

অপরদিকে তৃণমূলের অভিযোগ ছাড়াও পৌরসভার বিষয়ে বেশ কিছু অভিযোগ তুলে কংগ্রেস এবং সিপিএম স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন পুরপ্রধানের কাছে। কিন্তু দলীয় কোনো সমস্যা থাকলে তা দলের অভ্যন্তরে সমাধান না করে কেন বিক্ষোভ কর্মসূচির মাধ্যমে এই ধরনের ঘটনাগুলোকে সার্বজনীন করতে চাইছে রাজ্যের শাসক দলের নেতারা! এরকম ঘটনা প্রকাশ্যে আসলে আদতে শাসক দলের ভাবমূর্তি কি নষ্ট হবে না! এখন সেই প্রশ্নই দানা বাধতে শুরু করেছে ওয়াকিবহাল মহলের অন্দরে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!