এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > তৃণমূল নেত্রী দলে শুভেন্দুর গুরুত্ব বাড়াতেই কি এবার আসরে অবতীর্ন যুবরাজ? বাড়ছে জল্পনা

তৃণমূল নেত্রী দলে শুভেন্দুর গুরুত্ব বাড়াতেই কি এবার আসরে অবতীর্ন যুবরাজ? বাড়ছে জল্পনা

দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে শুভেন্দু অধিকারী বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কের চোরাস্রোত বইছে বলে শুনতে পাওয়া যায়। একাংশ অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের শীর্ষস্থানে বসিয়ে দিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীকে ব্রাত্য করে রাখা হয়েছে। যার জেরে দীর্ঘ বাম আমলে লড়াই আন্দোলন করে আসা শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে সওয়াল করতেও দেখা যায় একাংশকে।

কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অপেক্ষা শুভেন্দু অধিকারীর ওপরই বেশি দায়িত্ব দিতে শুরু করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সম্প্রতি, চন্দ্রকোনায় তৃণমূলের জনসংযোগ যাত্রায় সেই জেলার দায়িত্বে থাকা শুভেন্দু অধিকারীর বদলে সেইখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গেল নেতৃত্ব দিতে।মিছিলের পুরোভাগে রয়েছেন তিনি তাঁকে ঘিরে দলের অন্য নেতারা।

আর চারিদিকে দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড করা পাহারায় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীরা।কিন্তু কোথাও দেখা গেলো না ‘জঙ্গলমহলের নয়নের মনি’ শুভেন্দু অধিকারীকে। লোকসভা ভোটের ফলাফল খারাপ হতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা অভিষেক বান্দ্যোপাধ্যাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেই জায়গায় শুভেন্দু অধিকারীকে দ্বায়িত্ত্ব দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একপ্রকার কোনঠাসা করে শুভেন্দু অধিকারীকে দলে অনেক গুরুত্ত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব দিয়েছেন নেত্রী।

যা নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি রাজনৈতিকমহলে, কয়েকদিন প্রকাশ্যেই দেখা যায়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যিনি দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই অঘোষিত দুনম্বর মুখ ছিলেন, বিধাননগরেও সভা করতে গেলে দলের তরফে কালীঘাট থেকে হেলিকপ্টার পেতেন, তাঁকেই কিনা দলনেত্রী দিয়েছিলেন ঘরে বসে ভোটার তালিকা দেখার কাজ! ফলে, সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে গুঞ্জন উঠেছিল – দলের যুবরাজের ‘ডানা ছাঁটা’ হল বলে।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এদিকে লোকসভা ভোটে ১৮ টি আসন পেয়েই বিজেপি একের পর এক পার্টি অফিস দখল করেছে। বাদ যায়নি ‘শুভেন্দু-গড়’ বলে পরিচিত মেদিনীপুরও। কিন্তু, তারপরেই দলনেত্রী দায়িত্ব দেওয়ার পর, বিজেপির হাত থেকে পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করেছেন সেই শুভেন্দু অধিকারীই। তখন অবশ্য আসরে দেখা যায়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে সম্পর্কের চোরা স্র্রোত যে অন্দরে বইছে তা অনেকবার অনেক মন্তব্যে উঠে এসেছে। যেমন, কয়েকদিন আগেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন যে তাঁর কাছে আসতে গেলে দাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড পার হতে হবে না!

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি ছিল, সাধারণ মানুষের কাছেই তিনি থাকেন, থাকবেন। নাম না নিলেও যে ইঙ্গিতটা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না বলেই অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। কেননা আজ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানেই যান না কেন রাস্তা জুড়ে দড়ির ব্যারিকেড থাকে তাঁর অগমনের ঘন্টা দুয়েক আগে থেকেই। আর এই দড়ির ব্যারিকেড খোলা নিয়ে বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র সাথে বর্ধমানের শক্তিগড়ে ঝামেলাও হয় রাজ্য পুলিশের।

ফলে, এই ব্যারিকেড নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে থেকেই মন্তব্য করায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছিল তীব্র জল্পনা! একই সঙ্গে জল্পনা শুরু হয়েছিল শুভেন্দু-অভিষেকের মধ্যে মতপার্থক্য নিয়েও। আর এদিন চন্দ্রকোনায় তৃণমূলের জনসংযোগ যাত্রায় সেই জেলার দায়িত্বে থাকা শুভেন্দু অধিকারীর বদলে, সেইখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাঁটতে দেখে ফের সেই মতবিরোধ নিয়েই জলঘোলা হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও এই নিয়ে মুখ খোলেননি শুভেন্দু অধিকারী বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় – কেউই।

কিন্তু, এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে শুরু করেছেন দলেরই একাংশ। অনেকে বলছেন, “পতাকা বাঁধবেন শুভেন্দু, সংগঠন তৈরি করবেন শুভেন্দু, আর মিছিল করার সময় সামনের সারিতে থাকবে অন্যজন, এটা মেনে নেওয়া যায় না।” আর এই ঘটনার পরই পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলেছেন, তাহলে কি এবার তৃনমূলে শুভেন্দু বনাম অভিষেকের দ্বন্দ্ব আরও জোরালোভাবে ফুটে উঠতে শুরু করল। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পক্ষের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী দলের দুর্দিনের নেতা – বিগত বাম আমলে তিনি একাই লড়াই, আন্দোলন করে দলকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ফলে দলের দুর্দিনে তিনি লড়াই করবেন আর সুদিনে অন্য কোন নেতা এসে তার ফল ভোগ করবেন, এটা হতে পারে না। যদিও আরেক পক্ষের দাবি, দলে সবাই সমান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যুবর সর্বভারতীয় সভাপতি। তাই তিনি কোনো মিছিলে হাঁটলে দ্বন্দ্বের কিছু নেই। হয়তো কাজ ছিল তাই শুভেন্দু অধিকারী আসতে পারেননি। কিন্তু এখানেই রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন – অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসতেই পারেন, কিন্তু তাতে শুভেন্দু অধিকারী গরহাজির কেন?

রাজনৈতিক মহলের আরও প্রশ্ন – কাজ থাকলে অনুপস্থিত থাকতেই পারেন, কিন্তু সেই বার্তা তো কর্মীদের কাছে থাকবে! কিন্তু বাস্তবে তো তা হয় নি! তাহলে এই অনুপস্থিতি কি ‘ক্ষোভের’ বহিঃপ্রকাশ? একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পঞ্চায়েত বা লোকসভা নির্বাচনে যেখানেই দায়িত্ব পেয়েছেন, সেখানেই তৃণমূলের ফল খারাপ। আর লোকসভা মিটতেই, তাঁকে ভোটার তালিকার দায়িত্ব দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষমতা সবদিক দিয়েই বাড়িয়েছেন নেত্রী। তাই কি আর ঘরে বসে না থেকে, এইভাবে আসরে অবতীর্ন হচ্ছেন তিনি? ঘটনা যাই হোক – দুই নেতার তরফে এই নিয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা প্রকাশ্যে না আসায়, এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিন্তু দুই শিবিরের সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে তীব্র দ্বন্দ্ব!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!