এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > সংগঠনের ফাক ভর্তি করতে একাধিক বড় পদক্ষেপ তৃণমূল নেত্রীর, কাজে আসবে কি? উঠছে প্রশ্ন

সংগঠনের ফাক ভর্তি করতে একাধিক বড় পদক্ষেপ তৃণমূল নেত্রীর, কাজে আসবে কি? উঠছে প্রশ্ন

লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূল ব্যাপক পরিমাণে ধাক্কা খেয়েছে। গত 2014 সালে 42 টির মধ্যে 34 টি আসনে জয়লাভ করলেও 2019 এ এসে তা 22 টিতে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে বিজেপি 18 টি আসন নিজেদের দখলে রেখেছে‌। যা নিঃসন্দেহে তৃণমূলের কাছে চিন্তার কারণ। আর দলের এই খারাপ ফলাফলের পরই জনসংযোগে যে যথেষ্ট ত্রুটি এবং খামতি রয়েছে, তা তৃনমূলের ফলাফল পর্যালোচনার বৈঠকে উঠে আসে।

কিন্তু সামনেই যে 2021 এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে যেন-তেন প্রকারেণ দলকে ঘুরে দাঁড় করাতে হবে, আর তাইতো ভোটগুরু হিসেবে পরিচিত প্রশান্ত কিশোরকে নিজের দলের রণনীতিকার হিসেবে কিছুদিন আগেই নিয়োগ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সিদ্ধান্ত চমক দিয়েছিল সকলকেই। এমনকি অনেকে মনে করেছিল, এর পেছনে সেই প্রশান্ত কিশোরেরই হাত রয়েছে। অবশেষে ফের আরও এক চমক এল তৃণমূলে।

বস্তুত, দলের খারাপ ফলাফলের পরই সদ্যসমাপ্ত তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের শহীদ সমাবেশ থেকে সাধারণ মানুষের সাথে আরও নেতা-নেত্রীদের বেশি করে মেশার পরামর্শ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এবার সোমবার নজরুল মঞ্চে দলের বিধায়ক, সাংসদ এবং ব্লকস্তরের নেতাদের নিয়ে বৈঠকে দলের পরবর্তী পরিকল্পনার কথা জানালেন তৃণমূল নেত্রী। যেখানে দলের প্রায় এক হাজার জনপ্রতিনিধিদের আগামী 100 দিনের 10 হাজারটি গ্রাম এবং শহর এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ করার পরামর্শ দিলেন তিনি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

শুধু তাই নয়, এক একটি গ্রামে গিয়ে মানুষের সাথে মিশে গিয়ে তাদের অভাব অভিযোগ শুনতে হবে। এমনকি তাদের বাড়িতে রাত্রি যাপন করার পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়াও করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর সবশেষে সেই এলাকা ছাড়ার আগে তৃণমূলের দলীয় পতাকা উত্তোলন করার কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই শেষ নয়, সাধারণ মানুষ যদি তাদের কোনো অভাব এবং অভিযোগ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাতে চান, তাহলেও তার সুযোগ রয়েছে।

যেক্ষেত্রে “দিদিকে বলো” নামে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করে সেখানে সমস্ত অভাব, অভিযোগ সবাই জমা করতে পারেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে একটি ফোন নম্বরও। যা হল, 9137091370। এদিন এই সমস্ত প্রকল্পের কথা নজরুল মঞ্চের বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু হঠাৎ দলীয় নেতাদের এইভাবে জনসংযোগে শামিল হওয়ার নির্দেশ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত! নাকি এর পেছনেও রয়েছে সেই ভোটগুরু প্রশান্ত কিশোরের হাত! বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল যে জনসম্পর্ক তৈরি করার কথা ভাবছে, তা আদতে বিজেপিকেই নকল করার শামিল।

কেননা এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে বিজেপি নেতারা খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন, এমনকি অনেকে রাত্রিযাপনও করেছেন সেখানে। তখন এই গোটা ঘটনাটিকে নিয়ে তৃণমূল নেতাদের মুখে কম কটাক্ষের সুর শোনা যায়নি। আর এবার সেই তৃণমূলই বিজেপিকে নকল করায় তাদের প্রবল কটাক্ষ করতে শুরু করেছে গেরুয়া শিবির।

এদিন এই প্রসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, “তৃণমূলের নতুন মাস্টারমশাই বিজেপির বিদ্যা চুরি করে তৃণমূলকে পরীক্ষায় পাশ করাতে পারবেন না। কারণ ছাত্রটাই অযোগ্য। মাত্র 8 বছরে কিভাবে তৃণমূলের জনসংযোগে এত বড় গহ্বর তৈরি হল! এর জবাব তৃণমূল নেত্রীকে দিতে হবে। আর বিজেপি নেতারা যখন মানুষের বাড়িতে গিয়ে থাকছিলেন, খাওয়া-দাওয়া করছিলেন, তখন তো তৃণমূল বিরোধিতা করত। এখন বিজেপি সেই বিরোধিতা ফিরিয়ে দিলে কেমন লাগবে!” একইভাবে এই গোটা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বাম এবং কংগ্রেসও।

এদিন এই প্রসঙ্গে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “তৃণমূলের ফাটল গহবরে পরিণত হয়েছে বলেই সবাইকে ডেকে ডেকে এখন বলতে হচ্ছে দিদিকে বলো। কিন্তু দিদিকে বললে তিনি কতটা শোনেন, তা তৃণমূলের বড় নেতারা ভালোই জানেন।” অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে বিধানসভার কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, “এই ধরনের নাটক এবং চমকে কোনো লাভ হবে না। কাটমানি কিভাবে নেওয়া হয়েছে, পঞ্চায়েত, পৌরসভার ভোট কিভাবে লুট হয়েছে! তা কি দিদিমণি জানেন না! তাই ওনাকে আর নতুন করে বলার কী আছে!”

এদিকে বিরোধীদের পক্ষ থেকে তৃণমূলের এই জনসংযোগ কর্মসূচি ও দিদিকে বলো প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ করা হলে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, ক্ষমতায় আসার অনেক আগেই তৃণমূলকে দলের সংগঠন চাঙ্গা করার জন্য এই ধরনের কথা ভাবা উচিত ছিল। কিন্তু এখন যে মমতার মস্তিষ্কে তৃণমূল চলত, তা থেকে প্রশান্ত কিশোরের প্ল্যানে এই জনসংযোগ কর্মসূচি মমতা বন্দোপাধ্যায় ঘোষণা করলে আদৌ তা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!