এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নেত্রীর বিধান মেনে কাজ করতে গিয়ে বড়সড় বিপাকে তৃণমূল নেতা, জেনে নিন

নেত্রীর বিধান মেনে কাজ করতে গিয়ে বড়সড় বিপাকে তৃণমূল নেতা, জেনে নিন

দল শাসন ক্ষমতায় থাকলেও নিচুস্তরের কর্মীদের বা সাধারণ মানুষদের অভাব-অভিযোগ যে ঠিকমতো শোনা হয়নি তা লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরেই টের পেয়েছে তৃণমূল। কেননা এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য পূর্ণ হয়নি। 42 এ 42 এর স্লোগান দিয়ে 22 এই আটকে যেতে হয়েছে তাদের। আর দলের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যাতে না থাকে, তার জন্য সম্প্রতি “দিদিকে বলো” নামে প্রকল্প চালু করেছে তৃণমূল।

যেখানে একটি ফোন নম্বর দেওয়ার পাশাপাশি একটি ওয়েবসাইট দেওয়া হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ তাদের সমস্ত অভাব, অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিতে পারবে। শুধু তাই নয়, নজরুল মঞ্চে সম্প্রতি এই ব্যাপারে সাংবাদিক বৈঠকে দলের সমস্ত নেতা, মন্ত্রীদের নির্দিষ্ট গ্রামে গিয়ে জনসংযোগ করা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও বেশি করে মেশার নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর তারপরই নেত্রীর নির্দেশ পাওয়ার সাথে সাথেই মঙ্গলবার চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার তার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিভিন্ন গ্রামে পৌঁছে যান। কিন্তু সাধারণ মানুষের যে ক্ষোভ তৃণমূলের প্রতি রয়েছে, তা চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক এদিন হাতেনাতে টের পেলেন।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেলে দলের কর্মীদের নিয়ে চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পোলবার গৌলো গ্রাম থেকে সারাংপুর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের অভাব অভিযোগের কথা শোনেন চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। এদিকে সাধারণ মানুষের কাছে বিধায়ক অভাব অভিযোগ শুনতে গেলে, এলাকার মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাকে। যেখানে গৌলো গ্রামের এক বাসিন্দা মালতি মান্ডি বলেন, “আমাদের কথা কেউ ভাবে না। এখনও মাটির বাড়িতে থাকি। শুধু হবে হবে শুনেই বুড়ি হয়ে গেলাম।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

অন্যদিকে গোলাম সিদ্দিকী নামে এক বৃদ্ধ বলেন, “রাস্তাঘাট পাকা হয়েছে। কিন্তু গরিবের দুর্দশা ঘোচেনি। আমরা কর্মসংস্থান চাই।” তবে নেত্রীর নির্দেশ পেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সমস্ত অভাব, অভিযোগ বিধায়ক নিজে শুনতে গেলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ায় এতদিন যে শুধু নামেই উন্নয়ন হয়েছে, বাস্তবে যে তার কোনো কাজ হয়নি, তা পরিষ্কার হয়ে গেল বলে মনে করছে সমালোচকরা।

এদিকে গ্রামবাসীরাদের সুবিধা, অসুবিধার কথা শোনার পর চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার বলেন, “কিছু মানুষ ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।” এদিকে এই ব্যাপারে জেলা তৃণমূল সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, “দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিবিড় জনসংযোগ গড়ে তুলবেন। এতদিন কিছু ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের পাশে থেকে আমরা সবাই কাজ করব।”

সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করার জন্য তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা, বিধায়কদের নির্দেশ দিলেও গ্রামে গিয়ে সেই সাধারণ মানুষদের অভাব অভিযোগ নিয়ে রীতিমত ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের।

Top
error: Content is protected !!