এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে রাজ্যের বিশেষ দল! বাড়ছে জল্পনা

হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে রাজ্যের বিশেষ দল! বাড়ছে জল্পনা

কিছুদিন আগেই মালদহ জেলার ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে অনাস্থা এনেছিলেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। তবে কোনো রকমে তা আটকেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু তার ফলে অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। ঘরে-বাইরে ইংরেজবাজার পৌরসভা নিয়ে চরম চাপে রয়েছে রাজ্যের শাসক দল।

কেননা দলের কাউন্সিলররা প্রতিনিয়তই এই পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছেন। আর এবার সেইইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করতে শীঘ্রই রাজ্য থেকে বিশেষ দল মালদা জেলায় আসছে।

সূত্রের খবর, শনিবার দলীয় বৈঠক শেষে মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মৌসম নুর এবং জেলার দলীয় পর্যবেক্ষক গোলাম রব্বানি সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা ঘোষণা করেন। জানা যায়, এদিন জেলা সভানেত্রীর পার্টি অফিসে দুজনে ইংলিশবাজার পুরসভার দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। আর সেই বৈঠক শেষে মৌসমদেবী এবং রব্বানি সাহেব যৌথভাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হন।

তারা বলেন, “পুরসভা পরিচালনায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান সহ অন্যান্যদের নিয়ে পাঁচজনের কমিটি গড়ে দেওয়া হবে। ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে পুরসভা চলবে। পুরভোটের আগে নাগরিক পরিষেবা প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।” আর জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী এবং জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষকের এই সিদ্ধান্তের ফলে নীহার ঘোষের ক্ষমতা খর্ব হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

এদিকে এদিনের এই বৈঠকে প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী সহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলারের অনুপস্থিতি নিয়েও তীব্র জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। দলের নির্দেশ অমান্য করে বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব ভালোভাবে দেখছে না। যদিও এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে রব্বানি সাহেব বলেন, “কৃষ্ণেন্দুবাবু ব্যক্তিগত কারণে এদিনের বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। আমাকে তাঁর অসুবিধার কথা ফোনে জানিয়েছেন। আমরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করব।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সিংহভাগ তৃণমূল কাউন্সিলার সম্প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। আর তারপরই গত ২৮ আগস্ট ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল সরকার (বাবলা) সহ ১৫ জন তৃণমূল কাউন্সিলার নীহারবাবুর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। এর পরদিন দুই সিআইসি সদস্য পদত্যাগ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যার জেরে প্রবল চাপে পড়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। দফায় দফায় কাউন্সিলারদের নিয়ে আলোচনায় বসেও কোনও সমাধানসূত্র বের করতে পারা যায়নি।

এদিকে পরিস্থিতিকে নিজেদের বাগে আনতে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে কলকাতায় ইংরেজবাজার পৌরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যা সমাধান হয়নি। পরে অবশ্য তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি সেই ইংরেজবাজার পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বাবলা সরকারকে ফোন করে আশ্বাস দিলে অবস্থার পরিবর্তন হয়। কিন্তু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন এই ইংরেজবাজার পৌরসভার তৃণমূলের কাউন্সিলরররা।

জানা গেছে, এদিনের এই বৈঠকে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলাররা তাঁরা চেয়ারম্যানের আর্থিক ক্ষমতা খর্ব করার দাবিতে সরব হন। নিজের মর্জিমতো নীহারবাবু যাতে কোনও সিদ্ধান্ত না নিতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য দলের কাছে কাউন্সিলাররা তদ্বির করেন। আর তখনই জেলা নেতৃত্ব পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন একটি কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন।

সূত্রের খবর, পুজোর আগেই ওই কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কমিটিতে নীহার ঘোষ এবং বাবলা সরকারের থাকার ব্যাপারটি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। তবে আর কারা কারা এই কমিটিতে থাকবেন তা নিয়ে এবার তৈরি হয়েছে জল্পনা। তবে এতদিন চেয়ারম্যানের ক্ষমতাবলে নীহার ঘোষ যে সিদ্ধান্তগুলো নিতেন, এবার এই কমিটি গঠন করায় তার ক্ষমতা কিছুটা হলেও কমতে শুরু করল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিন এই প্রসঙ্গে নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, “চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলারের (সিআইসি) ধাঁচে পাঁচ সদস্যর কমিটি গঠন করা হবে। আগেও আমি সিআইসিকে নিয়ে কাজ করেছি। ফলে এতে ক্ষমতা খর্ব হওয়ার কিছু নেই। কাউন্সিলারদের দাবিদাওয়া বা সমস্যার কথা কমিটির সামনে তুলে ধরা হবে। এরফলে আমার চাপ আরও কমবে। কাউন্সিলারদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য পুরমন্ত্রী লোক পাঠাচ্ছেন। তাঁদের সব রকমভাবে আমি সহযোগিতা করব।”

অন্যদিকে নীহারবাবুর ঘোর বিরোধী তথা এই পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী এই বৈঠকে না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কৃষ্ণেন্দুবাবু বলেন, “বৈঠকে না যাওয়ার ব্যাপারে যা জানানোর দলকে জানিয়েছি।” সবমিলিয়ে এবার জটিলতা কাটাতে ইংরেজবাজার পৌরসভা নিয়ে নয়া সিদ্ধান্ত তৃণমূল নেতৃত্বের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!