এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > আট বছর তৃণমূল করার পর সঙ্ঘের প্রতি আস্থা দেখিয়ে দল ছাড়লেন হেভিওয়েট নেতা

আট বছর তৃণমূল করার পর সঙ্ঘের প্রতি আস্থা দেখিয়ে দল ছাড়লেন হেভিওয়েট নেতা

আট বছর ঘর করার পর ঠিক লোকসভা ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল ছাড়লেন কর্নেল সব্যসাচী বাগচি। গত জুলাই মাসেই রাজ্য সরকারের ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। আর এবার দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও অবসর নিলেন তিনি। সপ্তাহ দুয়েক আগে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা পত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে।

কেন দল ছাড়ছেন সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো মতামত রাখতে দেখা গেল না তাকে। ‘ব্যক্তিগত কারণ’-কেই হাইলাইট করলেন কেবল। তবে পুরানো দল বিজেপিতে ফেরার ইচ্ছে নেই, এমনটা সাফ জানিয়েছেন তিনি। তবে সঙ্ঘের প্রতি এখনো আস্থা অব্যাহত তাঁর। এখনো নিজেকে সঙ্ঘ পরিবারের অংশ বলেই গর্ব অনুভব করেন সব্যসাচী বাবু।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে,সত্যব্রত মুখোপাধ্যায় (জলু) বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর রাহুল সিনহা তাঁর স্থলে এলে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসেছিলেন সব্যসাচী বাগচি। মুখ্যমন্ত্রীও নতুন সদস্যকে দলে স্বাগত জানিয়ে একইসঙ্গে রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (আরটিএ) ভাইস চেয়ারম্যান ও রাজ্য ক্ষুদ্রশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের (ডব্লুবিএসএসআইডিসি) চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করেন।

পরে আরটিওর পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে কাউন্সিলার সন্দীপ বক্সিকে বসানো হয় বেলতলার মোটর ভেহিকেলস দপ্তরে। যদিও গত জুলাই পর্যন্ত ডব্লুবিএসএসআইডিসির পদে বহাল ছিলেন সব্যসাচী বাবু। চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই ওই চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে চেয়ে চিঠি দেন মুখ্যমন্ত্রীকে। নেত্রী তাঁর ইস্তফা গ্রহন করার পর ওই স্থলে দায়িত্বে আনেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক বিপ্লব রায়চৌধুরীকে।

দাবীতে সব্যসাচী বাবু জানিয়েছেন,তাঁর সময়ে ক্ষুদ্রশিল্প উন্নয়ন নিগম মাত্রাছাড়া লাভের মুখ দেখেছিল। ১১৫ কোটি টাকার তহবিল তৈরি করেছিল নিগম। বিগত আর্থিক বছরেও ১১ কোটি টাকার লাভ করেছে নিগম। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষুদ্রশিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন বলেই নিগমের ভীত শক্ত করার প্রয়াস করে গিয়েছেন তিনি। এই প্রেক্ষিতে স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠেছে। তাহলে তিনি নিগমের পদ ছাড়লেন কেন? পারিবারিক কারণে ব্যস্ত বলেই তাঁর সময়ের অভাব। যে দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী তাকে ভরসা করে দিয়েছিলেন,সে কাজ অবহেলা করতে চাইছেন না তিনি। তাই আগেভাগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।

তবে আরএসএসের নাগপুরের প্রশিক্ষিত স্বয়ংসেবক তৃণমূল করলেও সঙ্ঘের সঙ্গে সম্পর্ক তাঁর অটুট রয়েছে বলেই জানান সব্যসাচীবাবু। হাতে এখন প্রচুর সময়। তাই কেশব ভবনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ আগের থেকে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। তবে সক্রিয় রাজনীতিতে তিনি থাকবেন কিনা সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে জানালেন কিছু জানালেন না এদিন।

তবে সংঘের প্রতি তাঁর আস্থা নিয়ে কোনো দ্বিধায় পড়তে দেখা গেল না তাকে। বললেন,বিজেপি ছেড়ে একসময় তৃনমূল করেছেন বলে যেমন কোনো আক্ষেপ নেই তাঁর, তেমনি স্বয়ংসেবক হিসাবেও তিনি যথেষ্ট গর্বিত তিনি। সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন কিনা সে ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে না বলতে পারলেও আগামীতে আরএসএসের মতাদর্শেই যে তিনি কাজ করবেন,সেটা সাফ বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূলত্যাগী এই নেতা।

উল্লেখ্য,তবে সত্যিই কি ব্যক্তিগত কারণে আট বছরের পুরানো দল ছাড়লেন এই নেতা? নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ উঁকি দিচ্ছে? এই নিয়ে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে দলীয় অন্দরে। সম্প্রতি নেত্রীর স্নেহভাজন এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত শোভন চট্টোপাধ্যায় মন্ত্রীত্ব এবং মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল শিবিরে চাপানউতোর তুঙ্গে রয়েছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তারপর অন্য এক আট বছরের পুরানো সহযোদ্ধা ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে দল থেকে সরে যাওয়ার স্বাভাবিকভাবেই দলীয় সংগঠনের শক্তির উপর প্রশ্ন চিহ্ন রাখছে। লোকসভা ভোটে জয়ের অঙ্গিকার নিয়েছে যে দল,তাঁদের কপালেই আজ চিন্তার ভাঁজ। তৃণমূলের ‘অতি নাটকীয়’ খবরগুলো রাজ্যরাজনীতির সবথেকে চর্চিত বিষয় বর্তমানে সমালোচক মহলে,এমনটাই মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!