এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > কথা দিয়েও ফেরাচ্ছেন না কাটমানি, দুই তৃনমূল নেতার নামে থানায় এফআইআর

কথা দিয়েও ফেরাচ্ছেন না কাটমানি, দুই তৃনমূল নেতার নামে থানায় এফআইআর

লোকসভা নির্বাচনের পর দলের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ করতে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের কাউন্সিলরদের নিয়ে এক বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কেউ যদি দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকেন, তাহলে তাকেই সেই টাকা ফেরত দিতে হবে।

পরবর্তীতে দেখা গেছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই তৃণমূলের অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতার বাড়ি ঘেরাও করে টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সাধারন মানুষ। কিছু ক্ষেত্রে সেই টাকা পাওয়া গেছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সেই টাকা এখনও পাওয়া যায়নি। আর এমনই এক ঘটনায় কিছুদিন আগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল বীরভূমের মঙ্গলকোটের চানক এলাকায়। তবে মাঝে তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকলেও এবার কাটমানি ফেরত নেওয়ার জন্য 2 স্থানীয় তৃণমূল নেতার নামে থানায় এফআইআর দায়ের করলেন গ্রামবাসীরা।

সূত্রের খবর, এই চানক অঞ্চলের জালপাড়া গ্রামের কিছু বাসিন্দা স্থানীয় তৃণমূল নেতা ভগিরথ হালদার, উৎপল পালের নামে সোমবার মঙ্গলকোট থানায় লিখিতভাবে কাঠমানির টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য অভিযোগ করেন। যেখানে তারা পুলিশের কাছে জানান যে, গ্রামের এই দুই তৃণমূল নেতা তাদের কাছ থেকে বাংলা আবাস যোজনা প্রকল্পে বাড়ি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছেন। আর এরপর সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলেও তারা টাকা পাননি।

তবে পরে চাপে পড়ে কিছুদিন আগেই সেই টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেন ওই দুই তৃণমূল নেতা। কিন্তু তার পরও বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও সেই টাকা আর ফেরত পাওয়া যায়নি। আর বর্তমানে সেই দুই তৃণমূল নেতার কাছে সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে তারা গ্রামবাসীদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর তাই এবার সেই টাকা ফেরতের দাবিতে পুলিশের কাছে এসেই অভিযুক্ত দুই তৃণমূল নেতার নামে এফআইআর করলেন গ্রামবাসীরা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এদিন এই প্রসঙ্গে এই গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, “আমাদের কাছ থেকে থেকে ওই দুই তৃণমূল নেতা ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী কাটমানি ফেরত দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পরেই আমরা ওই দুই নেতার কাছে যাই। তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনও তা আমাদের দেওয়া হয়নি। উল্টে ওনারা আমাদেরকেই হুমকি দিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে ওনাদের নামে থানায় অভিযোগ করেছি।”

তবে এই ব্যাপারে কি বলছেন সেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতারা! এদিন এই প্রসঙ্গে অভিযুক্ত উৎপল পাল বলেন, “আমি টাকা নিয়েছিলাম। কিন্তু তা গ্রামের উন্নতির জন্য দান করে দিতাম। আমি কাউকে হুমকি দিইনি। এইসব আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”

অন্যদিকে এই ব্যাপারে আরেক অভিযুক্ত ভগিরথ হালদার বলেন, “আমি কারোর কাছ থেকে কোনো টাকা নিয়ে নিইনি। কিছু লোক রাজনৈতিকভাবে আমার বিরুদ্ধে এসব চক্রান্ত করছে।” একইভাবে এই গোটা ঘটনায় বিজেপির চক্রান্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করতে দেখা যায় চানক অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি রমজান শেখকে। তিনি বলেন, “আমাদের দলের স্থানীয় নেতা কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়নি। বিজেপির পায়ের তলায় মাটি সরতেই ওরা এসব চক্রান্ত করছে।”

তবে তৃণমূল এই ব্যাপারে যাই বলুক না কেন, এর সঙ্গে তাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়ে দিয়েছেন মঙ্গলকোটের বিজেপি নেতা বুদ্ধদেব মন্ডল। সত্যিই তো তাই। যেখানে গ্রামবাসীরা সমবেত হয়ে কাঠমানি নেওয়ার জন্য তৃণমূলের দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, সেখানে এটাকে বিজেপির চক্রান্ত বলে কেন অভিযোগ করছেন তৃণমূলের সভাপতি! তা নিয়েই এখন উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। সব মিলিয়ে এবার গ্রামবাসীদের টাকা নেওয়ায় দুর্নীতিতে বিদ্ধ হয়ে দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে থানায় দায়ের হল এফআইআর।

Top
error: Content is protected !!