এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > তৃণমূল নেত্রী আন্তরিক হলেও বাম-শরিকরা কি ব্রাত্যই করে রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে?

তৃণমূল নেত্রী আন্তরিক হলেও বাম-শরিকরা কি ব্রাত্যই করে রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে?

১৯’ এর মঞ্চ থেকেই ১৯’এর লোকসভা ভোটে কেন্দ্র থেকে বিজেপি উৎখাতের শেষ মুহূর্তে ডাক দেবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার তলায় আনার প্রয়াসও শুরু করে দিয়েছেন নেত্রী।

সোনিয়া, রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রভাবশালী বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আমন্ত্রন জানিয়েছেন। নীতিগতভাবে বিপরীত মেরুতে অবস্থান করা বাম শরিকদল গুলোকে সমাবেশে হাজির হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নেত্রী।

তবে মার্কসবাদী দল সিপিএমের সঙ্গে তৃণমূলের ‘আদায় কাঁচকলায়’ সম্পর্কের জন্যে তাঁদেরকে এই বৃহত্তর বিজেপি বিরোধী সমাবেশের আমন্ত্রণ থেকে ব্রাত্য রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। শুধু তাই নয়,মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের আলাপ থাকা সত্ত্বেও সিপিএম-এর রাজ্যসম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির দপ্তরেও পৌছায় নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণ বার্তা।

ওদিকে আবার কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তথা পলিটব্যুরো সদস্য পিনারাই বিজয়নকে বিগ্রেডে আসার আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়ে আলিমুদ্দিন কর্তাদের চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলেছেন নেত্রী। জল্পনা,সিপিএম-এর কেরল এবং বঙ্গবিগ্রেডের মধ্যে বিস্তর মতের ফারাকটাকেই রণকৌশল হিসাবে কাজে লাগাতে চাইছেন বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

এই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কতোটা সফল হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত৷ সংশয় তৈরি হয়েছে। আরএসপি,সিপিআই ১৯ জানুয়ারির ওই সমাবেশে না যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। উল্লেখ্য,সিপিআই-এর রাজ্যদপ্তরে কোনো আমন্ত্রণ পত্র না গেলেও দলের সাধারণ সম্পাদক সুধাকর রেড্ডি এবং সাংসদ ডি রাজা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি পেয়েছেন।

আনুনিক ঘোষণা না করলেও সিপিআই নেতৃত্ব বিগ্রেডে অংশগ্রহনে আপত্তি জানিয়েছে। বক্তব্যে জানিয়েছেন,’মুখে ও কাজে বিরোধীশূন্য বাংলার কথা বলে তৃণমূল। তারাই আবার বিরোধী জোট করার উদ্যোগ নিচ্ছে। সেই উদ্যোগের মঞ্চ ভাগ করার কোনও বাসনা তাদের নেই।’ অন্যদিকে, আরএসপিও তৃণমূল বিগ্রেডে যাওয়ার সমস্ত সম্ভাবনা খারিজ করেছে।

সিপিএমের কেন্দ্রীয় ও বঙ্গ নেতারা ইতিমধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করেছেন বিজয়ন সহ দলের কোনো প্রতিনিধিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিগ্রেডে অংশ নেবে না। যুক্তি,তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর বামেদের উপর যেভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে সেই প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি বিরোধীতায় হলেও তৃণমূল নেত্রীর এই আমন্ত্রণ রক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রসঙ্গে তুলে ধরলেন তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির জোট বাঁধার অতীত ইতিহাসের উদাহরণটি।

ফ্রন্টের বাকিরা মমতার বিগ্রেডে না যাওয়ার বিরুদ্ধে সওয়াল তুললেও ফরওয়ার্ড ব্লক কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো তাঁদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণ পাওয়া এই বাম শরিক দল কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতায় আসার সিপিএম-এর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। শুধু তাই নয়, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে ভবিষ্যৎ -এ এর জেরে ‘চরম সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার হুঁসিয়ারীও দিয়ে রেখেছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তবুও যেহেতু অন্যান্য বাম শরিক দলগুলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণ থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে,সেজন্য মনে করা হচ্ছে শুধু মাত্র বিজেপি বিরোধীতার ইস্যুকে সামনে রেখে ফরওয়ার্ড ব্লক বিগ্রেডে মমতার সঙ্গী হবে না। এ ব্যাপারে ফরওয়ার্ড ব্লকের অবস্থান কী হবে,তা নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনৈতিকমহলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!