এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > ভাইফোঁটার পর আরও স্পষ্ট চিত্র, তৃণমূলের এই দুই ঘনিষ্ঠ নেতা কি ক্রমশ বৃত্তের বাইরে?

ভাইফোঁটার পর আরও স্পষ্ট চিত্র, তৃণমূলের এই দুই ঘনিষ্ঠ নেতা কি ক্রমশ বৃত্তের বাইরে?

রাজ্যের আট থেকে আশি সকলেই তাকে মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষা দিদি হিসেবেই বেশি চেনেন। আর তাই ভাই ফোটার দিনে সেই কালীঘাটের প্রিয় দিদির কাছ থেকে ভাইফোঁটা না নিলে যেন ঠিকঠাক উৎসব টাকে পালনই করতে পারেন না তৃণমূলের নেতারা। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, দিদি বলতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, গত কাল সেই দিদির কাছ থেকে ফোঁটা নিয়েছেন তৃণমূল মহাসচিব তথা শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ সুব্রত বক্সি, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পূর্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তথ্য সংস্কৃতি ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডে, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, সাংসদ শান্তনু সেন, বিধায়ক নির্মল মাঝি, সমীর চক্রবর্তী, সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন সহ একাধিক নেতারা।

কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে এদিন ফোটা নিতে দিদির কাছে আসেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা প্রিয় রাজ্যের দমকল মন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায় ওরফে কানন, এবং রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী তথা বর্তমান তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। কিন্তু যেই মদন এবং কানন এক সময় দিদি মমতার নয়নের মনি ছিল সেই তারাই ভাইফোঁটার মতো এতো সুন্দর মুহূর্তে সেই দিদির কাছে ফোটা নিতে এলেন না কেন? একাংশের ধারণা, বেশ কিছুদিন ধরেই স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাদের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপছন্দের তালিকায় চলে গিয়েছিলেন এই শোভন চট্টোপাধ্যায়।

ভাইফোঁটার দিন এবং সেই দিদি ভাইয়ের দূরত্বে পারিবারিক বিবাদই কাজ করল বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে সারদাকাণ্ডে জেল খেটে আসার পরও বেশ কিছুদিন দলের মূল স্রোতের থেকে বিরত ছিলেন মদন মিত্র। কিন্তু সম্প্রতি দলের একাধিক মিটিং মিছিলে তাকে দেখা গেলেও দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক উদ্বোধনে সেই মদন মিত্র উপস্থিত থাকলেও তাকে মঞ্চে ডাকা তো দূর অস্ত, তার নামটুকুও উচ্চারণ করেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে দলীয় কর্মসূচিতে থাকলেও এখনও পর্যন্ত সেই মদন মিত্র যে দিদির গুড বুকে নেই তা ফের প্রমাণ হয়ে গেল বলে মত সমালোচক মহলের।

এদিকে মদন এবং কাননকে বাদ দিয়েই কালীঘাটে দিদির কাছ থেকে তৃণমূলের বাকি নেতারা ভাইফোঁটা নিলে রাজ্যের একাধিক শাসকদলের নেতা মন্ত্রীর বাড়িতেও জমজমাট ভাবে পালিত হলো এই ভাতৃদ্বিতীয়ার অনুষ্ঠান। সূত্রের খবর, প্রতিবারের মতো এবারও বোন তনিমা চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে চার বোনের কাছ থেকে ফোঁটা নেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি বোন শ্যামা ভট্টাচার্যের কাছ থেকে ফোটা নেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম,

অন্যদিকে জাঁকজমকভাবে এবারও বোনেদের কাছ থেকে ফোঁটা নিরেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে শুধু ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই নন, পুরো টলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে টালিগঞ্জের নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ভাইফোটার অনুষ্ঠান পালন করেছেন রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

অন্যদিকে বোন পল্লবী চট্টোপাধ্যায়ের কাছে এবারও ফোটা নিয়েছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এদিকে সেলেব মহল বা শাসক দলের অন্দরে যখন ভাইফোঁটাকে ঘিরে উৎসবের তীব্র উদ্দীপনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই রাজ্য সদর দপ্তরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ফোটা দেন রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

সব মিলিয়ে রাজনীতির অন্দরমহল থেকে টলিউড জগৎ ভাইফোঁটাকে ঘিরে উৎসবে ভাসলো গোটা বাংলা। কিন্তু ভাতৃদ্বিতীয়ার এই সুন্দর মুহূর্তে দিদির আশিস থেকে কেন এবার বাদ পড়লেন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়! তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!