এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বর্ধমান > বিজেপি-গড়ে ঘাসফুলের দাপট ফেরাতে বিধানসভা ধরে ধরে বড়সড় পদক্ষেপ শুরু শাসকদলের

বিজেপি-গড়ে ঘাসফুলের দাপট ফেরাতে বিধানসভা ধরে ধরে বড়সড় পদক্ষেপ শুরু শাসকদলের

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিনি মহাকরন নিয়ে ছুটে গিয়েছেন রাজ্যের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত। প্রশাসনিক বৈঠকের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখেছেন। রিভিউ মিটিং করে রাজ্যে চলতে থাকা উন্নয়নমূলক কাজের স্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। আর এবার সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের কায়দাতেই বিধানসভা ভিত্তিক রিভিউ মিটিংয়ের মাধ্যমে জেলায় ভেঙে পড়া সংগঠনকে চাঙ্গা করতে উদ্যোগ নিতে দেখা গেল পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসকে।

জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার কুলটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এই দলীয় রিভিউ কর্মসূচি শুরু হবে। যে মিটিংয়ে জেলার প্রথমসারির তৃণমূল নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা নেতাকর্মীরা। বিগত লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির থেকে রীতিমত পিছিয়ে রয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

আর সেই কারণেই বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে শাসক দলকে পুনরায় শক্তিশালী করতে জেলা নেতৃত্ব তরফ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খবর। শুধুমাত্র বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতেই দলীয় কর্মসূচি নয়, বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন রীতিমতো ভেঙে পড়েছে। তাই শ্রমিক সংগঠনের পুনরায় শাসক দলের আধিপত্য কায়েম করতে “দিদিকে বলো” কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠন সাজাতে উদ্যোগী হয়েছে তৃণমূল।

সেই কর্মসূচি মোতাবেক আজ বৃহস্পতিবার ডিএসপিতে কার্ড বিলি করে দিদিকে বলো কর্মসূচি পালন করবেন শ্রমিকনেতারা। ইতিমধ্যেই গত মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের ব্লক থেকে শুরু করে জেলার সমস্ত স্তরে নেতাদেরকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের উর্দ্ধতন নেতৃত্ব। জানা গেছে, সেই বৈঠকে উল্লেখযোগ্য ভাবে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিযুক্ত বিশিষ্ট নির্বাচনী রণনীতিকার প্রশান্ত কিশোর।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

নিজে বৈঠক থেকে জেলার সমস্তস্তরে নিজেদের সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি গ্রহণ এবং জনসংযোগ বৃদ্ধির দিকে নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে। এই বিষয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “জেলা কো-অর্ডিনেটর সহ জেলা নেতাদের নিয়ে আমরা বিধানসভা ভিত্তিক রিভিউ মিটিং শুরু করেছি। কুলটি বিধানসভা এলাকা থেকে সেই বৈঠক শুরু হয়েছে। এক মাসের মধ্যে নয়টি বিধানসভা এলাকায় রিভিউ মিটিং করা হবে।”

এদিন “দিদিকে বলো” কর্মসূচি সম্পর্কে বলতে গিয়ে জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “দিদিকে বলো কর্মসূচি কতটা সফল, তা উপনির্বাচনের ফলাফলেই বোঝা গেছে। নেতারা শ্রমিকদের কার্ড বিতরণ করতেই পারে।” উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিম বর্ধমান জেলা থেকে দুর্গাপুর এবং এবং বর্ধমান আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর থেকে অনেক বেশি ভোট পেয়ে জয়যুক্ত হয়েছিলেন এস এস আলুওয়ালিয়া।

এই হারের পিছনে দেশজুড়ে প্রবল মোদি হাওয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটা যে একটি বড় কারণ, সেই বিষয়ে সংশয় নেই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে। তাই এবার দলের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান থেকে শুরু করে আসানসোল, দুর্গাপুর থেকে শুরু করে অন্যান্য শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শ্রমিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজেদের দলের প্রতিপত্তি বিস্তার করতে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা নেতৃত্বকে।

আর সেই কারণেই এবার “দিদিকে বলো” কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে উদ্যত হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিষয়ে ডিএসপি কর্মচারি এবং দুর্গাপুর 1 নম্বর ব্লকের যুগ্ম আহ্বায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ন্ত রক্ষিত বলেন, “আমরা আজ থেকে দিদিকে বলোর কার্ড শ্রমিকদেরকে দেব। তাদেরও অনেক সমস্যা আছে। তারা সরাসরি দিদিকে জানাবে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রণনীতিকার প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মত “দিদিকে বলো” কর্মসূচির মাধ্যমে উপনির্বাচনে যথেষ্ট সাফল্য পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

সেই কারণে পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ব্লক এবং জেলা নেতৃত্বের মিটিংয়ে যখন সেই প্রশান্ত কিশোর নিজে উপস্থিত ছিলেন, তখন বলাই বাহুল্য, জেলাভিত্তিক এই কর্মসূচিতে তার মস্তিষ্ক অনেকটাই কাজ করছে রাজ্যজুড়ে। তৃণমূল কংগ্রেস বর্তমানে প্রশান্ত কিশোরের নীতির উপরেই নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়েছেন বলে মত একাধিক বিশেষজ্ঞদের। এখন সেই রণনীতি দলের পক্ষে কতটা কার্যকর হয়! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে ওয়াকিবহাল মহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!