এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ত্রাণের ঘরে তালা, সুবিধা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ -বাড়ছে ক্ষোভ

তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ত্রাণের ঘরে তালা, সুবিধা থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ -বাড়ছে ক্ষোভ

কিছুদিন আগেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি বিপ্লব মিত্র তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। আর তারপর থেকেই গঙ্গারামপুর পৌরসভায় তীব্র অচলাবস্থা তৈরী হয়। কেননা বিপ্লব মিত্রের ভাই প্রশান্ত মিত্র এই গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান। দাদা বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগ দিলেও ভাই প্রশান্ত মিত্রের গেরুয়া শিবিরে যোগদানের সম্ভাবনা থাকলেও তিনি বিজেপিতে নাম লেখাননি।

তবে তার সঙ্গে বিজেপির গোপন সমঝোতা রয়েছে এই আঁচ করে তড়িঘড়ি তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানিয়ে দেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী অর্পিতা ঘোষ। পাশাপাশি চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রকে সরাতে তৃণমূলের তরফে অনাস্থা আনা হবে বলেও জানিয়ে দেয় ঘাসফুল শিবির।

তবে তার সাথেই সমস্ত দলীয় কাউন্সিলর রয়েছেন বলে পাল্টা জানিয়ে দেন সেই প্রশান্ত মিত্র। আর এরপরই ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে অমলেন্দু সরকারকে সরিয়ে দিয়ে গঙ্গারামপুর পৌরসভা চালাতে থাকেন প্রশান্ত বাবু। আর এমতাবস্তায় যখন গঙ্গারামপুর পৌরসভা নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই এবার ত্রাণ বিলিকে কেন্দ্র করে সেখানে প্রবল দ্বন্দ্ব শুরু হল।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহ পর্যন্ত গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরবঙ্গের বহু এলাকার পাশাপাশি গঙ্গারামপুর পুর এলাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডেও জল জমতে শুরু করেছিল। যার জেরে সেখানকার মানুষেরা নিজের বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দুর্গতদের ত্রাণ বিলি করার সিদ্ধান্ত নেন গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

সেইমতো মঙ্গলবার সেই দুর্গতরা গঙ্গারামপুর পৌরসভায় এসে জমায়েত হলে সেই ত্রাণ বিলিতে বাধা দেন গঙ্গারামপুর পৌরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু সরকার। আর এতেই তৈরি হয় বিপত্তি। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ শুরু হলে এই গন্ডগোলের খবর পেয়ে বালুরঘাট থেকে জেলা ত্রাণ আধিকারিকরা গঙ্গারামপুরে গিয়ে পৌঁছয়। আর এরপরই সেই ত্রাণের ঘরে তালা দিয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু যেখানে এখনও পর্যন্ত গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান রয়েছেন প্রশান্ত মিত্র, সেখানেই তিনি বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ত্রাণ দিতে আসলেও কেন তাকে বাধা দেওয়া হল! কেন সেখানে বাধা দান করলেন প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান অমলেন্দু সরকার! তা নিয়েই এখন উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।

এদিন এই প্রসঙ্গে অমলেন্দু সরকার বলেন, “চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছে। অধিকাংশ কাউন্সিলার তার সাথে নেই। তবু কাউকে না জানিয়ে জনগণের সমবেদনা কুড়োতে চেয়ারম্যান ত্রাণ বিলির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এটা অনৈতিক। সেই কারণেই বাধা দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে এই প্রসঙ্গে গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র বলেন, “পৌরসভা একটি স্ব-শাসিত সংস্থা। এখনও আমি এখানকার চেয়ারম্যান। তাই ত্রাণ বিলির অধিকার এবং ক্ষমতা আমার রয়েছে। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এখানে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষকে ত্রাণ না দেওয়াতেই দুর্গত সাধারন মানুষরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।”

এদিকে এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি শুভেন্দু সরকার বলেন, “আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি‌।” কিন্তু দিনের শেষে একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, পৌরসভায় চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্রের বিরুদ্ধে তৃণমূল কাউন্সিলর অনাস্থা আনবে কি আনবে না! সেটা তাদের একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার।

কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষ যদি বিপদে পড়ে, সেই ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান তাদের পাশে দাঁড়ালে কেন প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তাতে বাধা দেবেন! তাহলে কিসের জন্য ক্ষমতায় আসা! পুর পরিষেবার ক্ষেত্রেই যদি বাধা দেন কাউন্সিলররা, তাহলে রাজনীতি কি শুধুই ক্ষমতার জন্য! প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

Top
error: Content is protected !!