এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > বড়সড় অভিযোগ হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়িকার বিরুদ্ধে, জেনে নিন

বড়সড় অভিযোগ হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়িকার বিরুদ্ধে, জেনে নিন

এবার রায়দিঘির বিধায়ক সহ এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগে অভিযুক্ত এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করল নৈহাটি থানার পুলিশ। জানা গেছে, গত রবিবার রাত্রিবেলা সুমন বসু নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয় নৈহাটি থানার পুলিশের তরফ থেকে। এর আগে তার বিরুদ্ধে টালিগঞ্জ থেকে শুরু করে নৈহাটি পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় অর্থনৈতিক প্রতারণা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।

পাশাপাশি ওই ব্যক্তির নামে ই-রিক্সা দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে 80 লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার পরে তার প্রতারণার অনেক তথ্য প্রমাণ মিলেছে। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সুমন বসুর বাড়ি বীজপুর থানা এলাকার কোনা মোড়ে। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে দুইটি গাড়ি পাওয়া গেছে।

এছাড়াও 25 টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে 6 টি ওয়াকিটকি। অন্যদিকে আবার যে দুটি গাড়ি পাওয়া গেছে, তার মধ্যে একটিতে প্রেস স্টিকার লাগানো ছিল। আরেকটিতে আবার এডভোকেট স্টিকার লাগানো ছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তির তরফ থেকে নিজেকে রায়দিঘির তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হয়েছে।

কিন্তু এর আগেই গত নভেম্বর মাসে রায়দিঘির বিধায়িকা তথা প্রখ্যাত অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ের তরফ থেকে টালিগঞ্জ থানায় সুমন বসুর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। এই বিষয়ে বিধায়িকা দেবশ্রীদেবী জানিয়েছেন, ওই লোকটি প্রতারক। আমার সম্মানহানি করেছে। ওর কোনো কথাই বিশ্বাসযোগ্য নয়। নাম ভাঁড়িয়ে’ আমার সংস্থায় টাকা দান করবে বলেছিল।

পাশাপাশি সুমনবাবুর তরফ থেকে নিজেকে দেবশ্রী দেবীর ঘনিষ্ঠ বলার বিষয়ে রায়দিঘির বিধায়িকা জানান, ও কোনো কালে আমার ঘনিষ্ঠ ছিল না। ও আমার টাকাও আত্মসাৎ করেছে। সেটা বড় কথা নয়। আমার নামে গরীবের টাকা মেরে দিয়েছে। এখন আমার নাম বলে রেহাই পেতে চাইছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছর ডিসেম্বর মাসের 3 তারিখে এক ব্যক্তির তরফ থেকে অভিযুক্ত সুমন বসুর নামে নৈহাটি অভিযোগ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, নানা রকম সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে সুমন বসু।

জানা যাচ্ছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নৈহাটি থানার তরফ থেকে সুমন বসুর খোঁজ চালানো হচ্ছিল। রবিবার দিন রাতে বিশেষ সূত্র মারফত খবর পেয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আর্থিক প্রতারণায় অভিযুক্ত সুমন বসুকে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নামে ভুরি ভুরি প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস আগে রায়দিঘি এলাকায় প্রায় কয়েকশো যুবকের কাছ থেকে ই রিক্সা দেওয়ার নাম করে 80 লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে অভিযুক্ত সুমন বসু।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

জানা যায়, এই টাকা সংগ্রহ করার পরেই তিনি বেপাত্তা হন। ই রিক্সার নাম করে টাকা তোলার সময় সুমন বসু নিজেকে রায়দিঘির বিধায়িকা দেবশ্রী রায় ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে মানুষের টাকা নিয়ে লোপাট হওয়ার পরে সাধারন জনগনের মুখে পড়তে হয়েছিল অভিনেত্রী বিধায়িকা দেবশ্রী রায়কে। যদিও পরবর্তীতে দেবশ্রী দেবীর তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, তিনি ওই ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। এরপর টালিগঞ্জ থানায় প্রতারণায় অভিযুক্ত সুমন বসুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন দেবশ্রী রায়।

পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের তরফ থেকেও ওই ব্যক্তির খোঁজ চালানো হচ্ছিল। পুলিশের তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ওই ব্যক্তি কোথাও প্রতিবন্ধীদেরকে জিনিসপত্র দেবে বলে টাকা তুলেছে। কোথাও আবার ডাক্তারের কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের অজুহাতে অর্থনৈতিক দুর্নীতি করেছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, পুলিশের তরফ থেকে প্রাথমিক তদন্তের পরে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই তথ্য অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ধৃত সুমন বসু নিজে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালান। তিনি রায়দিঘির বিধায়িকা দেবশ্রী রায়ের কাছে গিয়েছিলেন। দেবশ্রী দেবীর সংস্থার সঙ্গে একসঙ্গে পথ কুকুরদেরকে নিয়ে কাজ করার জন্য এক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনি টাকা জোগাড় করবেন বলে জানিয়েছিলেন রায়দিঘির বিধায়িকাকে।

শুধু তাই নয়, বর্তমানে ওই ব্যক্তি ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন বিজেপির তরফ থেকে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, দেবশ্রী রায়কে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন দাবি করেছিলেন ধৃত সুমন বসু। এমনকি দেবশ্রী দেবীকে ভারতীয় জনতা পার্টির এক রাজ্য নেতার বাড়িতেও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সমগ্র ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে তদন্তের কাজ চলবে। সুমন বসুর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে টেলিফোনে দেবশ্রী রায় জানান, সুমন নিজেকে তার কাছে পূর্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় নামে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা জোগাড় করে তার সংস্থাকে দেবেন বলেছিলেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য বিমান বাহিনীর একজন পর তার নাম ব্যবহার করেছিল সুমন।

দেবশ্রী রায় বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকে কারও সঙ্গে এমন কাজ করিনি। ওই লোকটা আমার কাছ থেকে পর্যন্ত টাকা নিয়ে সরে পড়েছে। কোথাও আমার সঙ্গে যায়নি।” অন্যদিকে আবার ভারতীয় জনতা পার্টি ইতিমধ্যেই এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগোড়ায় দাঁড় করাতে শুরু করেছে। ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহ বলেন, “বিজেপিতে আমার বয়স তো মোটে সাত মাস। তার মধ্যে আমি আর কত লোককে চিনব। ও নামে আমি কাউকে চিনি না। আমার বড় সন্দেহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ এই ধরনের প্রতারকদের ব্যবহার করে। বিজেপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার চেষ্টা করবে।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে সেই ভাবে নাম জড়িয়ে পড়েছে রায়দিঘির বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের, তাতে করে আগামী দিনে নিজেকে স্বচ্ছ প্রমাণ করতে গেলে রীতিমতো কাঠখড় পোড়াতে হতে পারে অভিনেত্রী বিধায়িকাকে। এখন আগামী দিনে পুলিশের তদন্তে আর কি তথ্য উঠে আসে এবং পরবর্তীতে এই ঘটনার পরিসমাপ্তি কিভাবে হয়! সেদিকেই লক্ষ্য থাকবে সকলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!