এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নদীয়া-২৪ পরগনা > পোস্ট অফিস থেকে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড বিলি শুরু হতেই চড়াও হলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি, হুমকি পোস্টমাস্টারকে

পোস্ট অফিস থেকে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড বিলি শুরু হতেই চড়াও হলেন তৃণমূল জেলা সভাপতি, হুমকি পোস্টমাস্টারকে

এবার পোষ্ট অফিস থেকে আয়ুষ্মান কার্ড বিলি করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো কৃষ্ণনগরে। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা পেতে আয়ুষ্মান কার্ড বিলি হচ্ছে শুনে সঙ্গে সঙ্গেই জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌরীশঙ্কর দত্তের নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান।

ঘটনাস্থলে এসে নরেন্দ্র মোদীর ছবি এবং পদ্মচিহ্নে ছাপ দেওয়া কার্ড এলাকাবাসীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। কাউকে কিছু না বলেই সরাসরি ঢুকে যান পোস্ট অফিসের মধ্যে। এরপর কড়া হুঁসিয়ারী দিয়ে পোস্টমাস্টারকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়,ওই কার্ড বিলি করা হলে পোস্ট অফিসে তালা লাগিয়ে দেওয়া হবে।

এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে ঘাবড়ে যান কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার। থতমত খেয়ে কী করবেন বুঝে উঠতে না পেরে তখনকার মতো পরিস্থিতি সামলে দিলেও এই ঘটনায় বেজায় চটে যান পোস্ট মাস্টার প্রমোদ কুমার বাগ। এবং গোটা ঘটনাটাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর হুঁসিয়ারী দেন তিনি। বলেন,এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেবেন,তাঁরা সেটাই করবেন বলে স্থির করেন।

 

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

প্রসঙ্গত,গত বৃহস্পতিবারই কৃষ্ণনগরে একটি সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে এসে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মোদীসরকারের সমস্ত প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করার বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি সাফ কথায় হুঁসিয়ারী দিয়ে জানিয়েছিলেন,কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা পেতে আয়ুষ্মান কার্ড নেওয়ার কোনো দরকার নেই।

এই বিমার বেশিরভাগ টাকাই রাজ্যসরকারকে দিতে হয়। কেন্দ্র শুধু প্রকল্পের নাম করে নিজের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করছে। অথচ কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ শানিয়ে বলেন,’সব কাজ আমরা করব। তুমি নরেন্দ্র মোদি দালালি করবে? তা চলবে না।’

কারণ হিসাবে তিনি জানান,কেন্দ্র আয়ুষ্মান কার্ড বলে স্বাস্থ্যবিমার যে কার্ড বিলি করছে তাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ আয়ুষ্মান প্রকল্পের সঙ্গে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সংযুক্তির এই চুক্তি সাক্ষর হয়েছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী যৌথপ্রকল্পের নাম ভারত স্বাস্থ্যসাথী হওয়ার কথা ছিল। কেন্দ্র সরকার সে কথা না রেখে চুক্তির শর্ত উলঙ্ঘন করেছ,এমনটাই অভিযোগ তুলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে রাজ্যকে সরে আসার আসার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু তারপরও নদীয়ার হেড পোস্ট অফিস থেকে বিভিন্ন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌছে দেওয়া হয় এই আয়ুষ্মান কার্ড। পোস্ট অফিস গুলো কেন্দ্রীয় সরকারের আওতায় হওয়ায় কার্ড বিতরণ বন্ধ করেননি তাঁরা।

এরপর মুখ্যমন্ত্রী জেলার প্রশাসনিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখার প্রয়োজনে কৃষ্ণনগরের সভা করতে এসে ফের সেই আয়ুষ্মান কার্ডের প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন। উপচে পড়া ভীড়ের সামনে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠে বলেন,কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা পেতে আয়ুষ্মান কার্ড নেওয়ার কোনো প্রয়োজন।

এই বিমার সিংহভাগ যখন রাজ্যকেই বহন করতে হচ্ছে,বাকিটুকুও রাজ্যসরকার দিতে পারবে। এই ঘোষণার এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই মুখ্যমন্ত্রীর কথা যে প্রভাব ফেলেছে কৃষ্ণনগরে সেটা প্রমাণ হয়ে গেল। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমার কার্ড বিলির কর্মসূচিই বানচাল করে হয়ে গেল কৃষ্ণনগরে। এ প্রসঙ্গে জেলা গৌরীশংকর দত্ত কটাক্ষ করে বললেন,”এরপরও যদি কার্ড বিলি হয়, তাহলে বাইরে পোস্ট অফিসের বদলে বিজেপি অফিস হোর্ডিং দিয়ে তবেই বিলি হবে। নয়তো পোস্ট অফিসের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য,নদীয়ায় তৃণমূলের ঘাঁটি এখনো নড়বড়ে। সু্যোগ বুঝে এই জেলায় সংগঠন পোক্ত করেছে বিজেপি। তার প্রমাণ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেই এই জেলা থেকে ভালো ফল করেছে বিজেপি। নদীয়ার মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তৃণমূলের থেকে। তাই দুদিন আগেই লোকসভা ভোটের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দলের হৃত গৌরব ফিরে পেতে কোমর বেঁধে কর্মযজ্ঞে নামার নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কীভাবে দলীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যাবে,জনসংযোগ বাড়ানো যাবে,কর্মীদের তারও সঠিক দিশা দিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দলনেত্রীর নির্দেশ পেতেই নড়েচড়ে বসেছে জেলার জোড়াফুল শিবির। নদীয়া জেলা থেকে রেকর্ড পরিমান ব্যবধানে বিরোধীদের হারাতে সক্রিয় হয়ে উঠছে নদীয়া জেলার তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন তারই প্রমাণ মিলল,এমনটাই অভিমত অভিজ্ঞমহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top