এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূলের “দিদিকে বলো” প্রকল্পকে হাতিয়ার করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ বাড়িয়ে দিতে পথে বামেরা

তৃণমূলের “দিদিকে বলো” প্রকল্পকে হাতিয়ার করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ বাড়িয়ে দিতে পথে বামেরা

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দলের নেতা, মন্ত্রীদের সাথে যে সাধারণ মানুষের জনসংযোগ অতটা নেই এবং তার জন্যেই যে দলের এই খারাপ ফলাফল, তা বুঝতে পেরেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাইতো ফলাফল প্রকাশের পরই দলের নেতা, বিধায়কদের আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি “দিদিকে বলো” নামে একটি কর্মসূচি তৈরি করে সেখানে একটি ফোন নম্বর এবং ওয়েবসাইট চালু করে সেখানে সমস্ত অভিযোগ জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তৃণমূল নেত্রীর এই মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে দিয়েই এবার তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে চাইছে বামেরা।

জানা গেছে, রাজ্যের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে “দিদিকেই বলছি” নাম দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে নানা প্রশ্ন তুলে দলের নানা গণসংগঠনকে পথে নামাচ্ছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। জানা গেছে, আগামী 7 আগস্ট সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের পক্ষ থেকে কলকাতা পৌরসভা অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে স্লোগান হিসেবে বলা হবে, “দিদিকে বলো, পৌরসভার 26 হাজার শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ চাই।”

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

অন্যদিকে সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনব কায়দায় “দিদিকে বলো” বলে এইরকম শাসকদলের উদ্দেশ্যে নানা অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু ঠিক কি কি প্রশ্ন থাকবে! সূত্রের খবর, প্রথম ধাপে সিপিএমের তরফে তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে যে সমস্ত প্রশ্ন তোলা হবে, তার মধ্যে যেমন রয়েছে রাজ্যজুড়ে শিল্পনগরী শৃংখলের প্রসঙ্গ, ঠিক তেমনই বেকার ব্যবস্থার কথাও।

সিপিএমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হবে, বাংলায় 450 থেকে গত 8 বছরে বেড়ে আরএসএসের শাখার সংখ্যা 1625 কেন হল! সরকারের 2920 দিন কেটে যাওয়ার পরেও শিল্প কোথায়! কেন এত লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা! আইন-শৃংখলার হাল এমন কেন যে যার জন্য 218 জন বাম কর্মীকে খুন হতে হল! পুলিশকে কেন টেবিলের তলায় লুকোতে হয়! কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তৃণমূল নেতাদের টাকা না দিয়ে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ করে বাঁশবেড়িয়ার প্রসূন দত্ত গায়ে আগুন দেন!

এদিন এই প্রসঙ্গে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “প্রকল্প দলের না সরকারের! প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীকে করতে হবে কিনা! তা বলা হয়নি। অন্য নেতা-মন্ত্রীদের বলে কোনো লাভ নেই। এখন দেখানো হচ্ছে দিদিই সব। কিন্তু দিদি উত্তর দেন কিনা, এখন সেটা দেখার। এইসব প্রশ্ন তো দিদির জন্যই আছে। এবার কি তিনি তার উত্তর দেবেন!”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের নেতা, মন্ত্রীদের আরও বেশি করে জনসংযোগে মেশার জন্য এই “দিদিকে বলো” প্রকল্প তৈরি করলে তাকে ফেল করতে সিপিএমের পক্ষ থেকে সেই শাসকদলের প্রধান ব্যক্তির উদ্দেশ্যে যে সমস্ত অস্বস্তিকর প্রশ্নমালা সাজিয়ে তোলা হয়েছে, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নিজের প্রকল্পে নিজেই বড় বিপাকে পড়তে চলেছেন, সেই ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত বিশেষজ্ঞরা।

Top
error: Content is protected !!