এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > চা বাগানের ভোটব্যাঙ্কেই আলিপুরদুয়ারে বাজিমাত করতে চান তৃণমূল প্রার্থী দশরথ তিরকে

চা বাগানের ভোটব্যাঙ্কেই আলিপুরদুয়ারে বাজিমাত করতে চান তৃণমূল প্রার্থী দশরথ তিরকে

চা বাগানের ভোটব্যাঙ্ককে করায়ত্ত্ব করেই আলিপুরদুয়ারে ফতেহ হাসিল করতে চান তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ভূমিপুত্র দশরথ তিরকি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করায় খুশির জোয়ারে ভাসছেন মাদারিহাটের বান্দাপানি থেকে কুমারগ্রামের সংকোশ চা বাগানের শ্রমিকরা। মহল্লায় ইতিমধ্যে রব উঠতে শুরু করেছে ‘রাউরি মনকর দশরথ’ অর্থাৎ আমাদের দশরথ। ভোটযুদ্ধের ময়দানে দশরথ বাবুর রেকর্ড খুবই ভালো।

তিনবারের বিধায়ক এবং একবারের সংসদ সদস্য দশরথবাবু এখনো কোনো ভোটে পরাজিত হননি। মাদল বাজাতে যেমন তিনি দক্ষ তেমনি করম উৎসবে চা শ্রমিকদের কাঁধ করে অনায়াসে কোমর দোলানোতেও তাঁর জুরি মেলা ভার। তাছাড়া তাকে কখনো কখনো চা বাগানের মাঠে স্থানীয় ছেলেদের সঙ্গে অনায়াসে ফুটবল খেলতেও দেখা গিয়েছে।

দশরথবাবু যে চা বাগানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন তা নজর এড়ায়নি তৃনমূলনেত্রীর। আর তারপরই ২০১৪ সালে তৃণমূল তাকে প্রার্থী করে লোকসভা ভোটে জেতায়। এরপর আরএসপিতে থাকার সময় চা বাগানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরো বেড়েছে দশরথের। গত লোকসভা ভোটে জেতার পর পাঁচ বছরে মেটেলির নাগেশ্বরী, নাগরাকাটার গ্রাসমোড়, মাদারিহাটের ডিমডিমা থেকে কুমারগ্রামের সংকোশ প্রতিটি চা বাগানে তিনি গিয়েছেন

সংসদ সদস্য হিসাবে বাগানগুলির পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে নজর দিয়েছেন। সংসদ সদস্য তহবিলের টাকা খরচের ক্ষেত্রেও দশরথবাবু অবদান উল্লেখযোগ্য । তাঁর সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ দিক দলের সব গোষ্ঠীর মধ্যেই তাঁর জনপ্রিয়তা। দলে যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতোটা রয়েছে সেটার প্রমান মিলেছে গত লোকসভা৷ নির্বাচনেই।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এখানে

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

গত লোকসভা ভোটে দশরথ বাবু বামফ্রন্ট প্রার্থী আরএসপি’র মনোহর তিরকির সঙ্গে সেয়ানে সেয়ানে লড়াই করে ২১ হাজার ৩৯৭ ভোটের ব্যবধানে হারান। দশরথবাবুর প্রাপ্ত ভোট ৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৫৩টি। অন্যদিকে মনোহরবাবু ভোট পান ৩ লক্ষ ৪১ হাজার ৫৬টি।

তৃতীয় স্থানে থাকা বিজেপি প্রার্থী বীরেন্দ্র বড়া ভোট পান ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯৫৭টি। তবে ২০১৪ সালের ভোটের পর জেলায় বামপন্থীদের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়। তার প্রমাণ মিলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। বামেদের টেক্কা দিয়ে সগৌরবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। তবে বিজেপি যদি এবার ওজনদার কাউকে প্রার্থী করে তৃণমূলের লড়াইটা সোজা হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রসঙ্গত,আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের অধীনস্থ ৮২টি চা বাগান রয়েছে। আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে এবার মোট ভোটারের সংখ্যা ১১ লক্ষ ৯১ হাজার ৮৩৪। এই মোট ভোটের ৪৪ শতাংশ ভোটই চা বাগানের। চা বাগানের ভোটাররাই আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে কার্যত জয় পরাজয়ে মুখ্য ভুমিকা নিয়ে থাকেন,তা বলাবাহুল্য। অন্যান্য দলের আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ায় প্রচারের প্রথম দফায় এমনিতেই এগিয়ে রয়েছে শাসক দল।

সেদিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে বিজেপি। কারণ এখনো তাঁদের প্রার্থীর নামই এখনও ঘোষিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে বিজেপি’র জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা অবশ্য বলেন,’বুথস্তরে আমাদের সংগঠন গোছানোর কাজ শেষ। ময়নাগুড়িতে প্রধানমন্ত্রী সভা করে যাওয়ার পর চা বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে বিজেপি’র প্রতি ভরসা বেড়েছে। অপেক্ষা করুন তৃণমূল প্রার্থীকে হারাতে আমরাও জবরদস্ত প্রার্থীই দাঁড় করাব।’

আপনার মতামত জানান -
Top