এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > তৃণমূলের ব্রিগেড – একনজরে কে কিভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়লেন

তৃণমূলের ব্রিগেড – একনজরে কে কিভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছাড়লেন

৪১ বছর আগের বামফ্রন্টের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে চেষ্টায় কোনো খামতি রাখেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঢাকঢোল পিটিয়ে ১৯’এর ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল মাস কয়েকআগেই। পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতো দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিজেপির বিরোধী রাজনৈতিক হেভিওয়েটদের এক ছাতার তলায় এনে চাঁদের হাট বসিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ১৯’এর ব্রিগেডের মঞ্চে উঠে এসেছিল ‘এক টুকরো ভারত’। এই মঞ্চ থেকেই বিভিন্ন প্রান্তের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে টার্গেট করে বিজেপিমুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গতকালের ব্রিগেডের সভায় জাতীয় স্তরের নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরা। মঞ্চে দেখা গিয়েছে,ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা এবং জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা এবং তাঁর ছেলে ওমর আবদুল্লা, তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন, প্রাক্তন বিজেপি নেতা অরুণ শৌরি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতা হেমন্ত সোরেন, এনসিপি নেতা শরদ পওয়ার, কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এবং মল্লিকার্জুন খড়গে, বহুজন সমাজ পার্টির প্রতিনিধি সতীশ মিশ্র, সমাজবাদী পার্টি নেতা এবং উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব এবং দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা এবং লালুপ্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব। এছাড়া ছিলেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা শত্রুঘ্ন সিন্হাও।

এঁরা প্রত্যেকেই বক্তব্যের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কড়া ভাষায় মোদী সরকারকে আক্রমণ করেন।হটলিস্টে ছিল নোটবন্দি,জিএসটি,সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,রিজার্ভব্যাঙ্ক,সিবিআই,বেকারত্ব,মূল্যবৃদ্ধির মতো বিভিন্ন ইস্যু। বিজেপি সরকারকে তুলোধনা করার পর প্রত্যেকেই মোদীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার কথা বলেন। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ঐতিহাসিক ব্রিগেড সমাবেশে কে কী বললেন?

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং তেলেগু দেশম নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু মঞ্চে উঠেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন,উন্নয়নের নিরিখে কেন্দ্রের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। এরপর ইভিএম অর্থাৎ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিষোদগার করেন তিনি।

পাশাপাশি দেশ জুড়ে ঘৃণামিশ্রিত অপরাধে মদত দেওয়ার জন্যে মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিজেপি সরকারের পতন ঘটানোর জন্য লোকসভা ভোটে সঙ্ঘবদ্ধভাবে লড়াই করার বার্তা দেন তিনি। এবং এটাও আগাম জানিয়েদেন,২০১৯-এ দিল্লির মসনদে নতুন প্রধানমন্ত্রী দেখবে ভারত।

একইরকমভাবে ইভিএম নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা এবং জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা। পাশাপাশি দেশের এই সংকটকালীন অবস্থায় কেন্দ্রবিরোধী শক্তিগুলির একজোট হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এই বিজেপি বিরোধী মহাজোটের বিরদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে গেরুয়াশিবির কর্তারা বহুবার বলেছেন,জোটের কোনো নির্দিষ্ট মুখ নেই। খামোখাই মোদীর বিরুদ্ধে তর্জনগর্জন করে। এর জবাব দিতে গিয়েই ফারুক আবদুল্লা জানালেন,‘‘কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা পরেও ঠিক করা যেতে পারে। কারণ দেশ জুড়ে ধর্মের নামে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।’’

সমাজবাদী পার্টি নেতা এবং উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের বক্তব্য- বিজেপি সরকার গোটা দেশে সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে। তাই বিজেপি হটাতে সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই প্রয়োজন। প্রসঙ্গে আরো জানালেন,’আমাদের জোট মানুষের সঙ্গে, সেখানে মোদী-অমিত শাহের জোট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং সিবিআইয়ের সঙ্গে।’

একইরকমভাবে জোটবদ্ধ ভাবে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের স্বপক্ষে সওয়াল তুললেন জনতা দল (সেকুলার) নেতা এবং দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া। বললেন,হাতে সময় একদমই কম। আর মাত্র কয়েকমাস পরেই লোকসভা ভোট। তাই আর সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হতে হবে। বিজেপিকে হারাতে যেখানে যেমন আসনরফা প্রয়োজন তা করে ফেলতে হবে।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

অন্যদিকে,মঞ্চ থেকেই মোদীকে কটাক্ষ করলেন কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়গে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য প্রশ্ন ছুঁড়ে বললেন ‘‘আপনি বলতেন খাবেন না, খাওয়াবেন না। আপনি খাচ্ছেন কি না জানি না, কিন্তু আদানি-অম্বানিকে তো খাইয়ে দিচ্ছেন। কোথায় গেল ২ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি?’’

ওদিকে তামিল ভাষায় বক্তব্য রেখে সকলের নজর কাড়লেন তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন। তাঁর বক্তব্য অনুবাদ করে দেওয়া হচ্ছিল বাংলায়। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ১৯’এর লোকসভা নির্বাচনকে ভারতবর্ষের দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করে বিজেপি সরকার উৎখাতের ডাক দিলেন। বললেন,দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন মোদী। কালো টাকা উদ্ধার করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ করে টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন মোদী। কোথায় গেল সেই প্রতিশ্রুতি?প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি এটাও দাবী করলেন,বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভয় পান মোদী। সেজন্যে বাংলায় আসতে সাহস পাননা অমিত শাহ আর নরেন্দ্র মোদী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক আগেই বক্তব্য রাখতে মঞ্চে আসেন বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা শত্রুঘ্ন সিনহা। বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে সকলকে চমকে দেন এই ‘বিহারী বাবু’। মোদীকে কটাক্ষ করে বলেন,‘‘দেশের জনতা আওয়াজ তুলেছে, ‘চৌকিদারই চোর হ্যায়’। জিএসটি কীভাবে দেশের ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ীদের ক্ষতি করেছে সে খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। নোটবন্দি নিয়ে মোদী সরকারের তুঘলকি নীতির কড়া সমালোচনা করেন এই বিজেপি বিদ্রোহী নেতা। একইসঙ্গে এটাও জানান,বাংলার জনদরদী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাক পাওয়া মাত্রই তিনি ছুটে এসেছেন ব্রিগেডে।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এবং আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও বিজেপিকে হঠাতে সঙ্ঘবদ্ধভাবে লড়াই গড়ে তোলার কথা জানান। ব্রিগেডে তাঁর মন্তব্য,‘‘৭০ বছরে পাকিস্তান যেই ক্ষতি করতে পারেনি, গত চার বছরে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ জুটি তাই করে দেখিয়েছে।’’ একইরকম সুরে বিজেপি সরকারকে তুলোধনা করেন বহুজন সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো মায়াবতীর প্রতিনিধি সতীশ মিশ্র। তাঁর বক্তব্য,বাবাসাহেব অম্বেডকরের বানানো সংবিধান ধ্বংস করে দেশের ক্ষতি করছে বিজেপি এবং এনডিএ।

তাই দেশের স্বার্থে এই সরকারকে অবিলম্বে কেন্দ্র থেকে উৎখাত করা প্রয়োজন। বিজেপি বিরোধী নেতা হেমন্ত সরেনও ব্রিগেডের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন গতকাল। তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইতে আঞ্চলিক শক্তিগুলির জোটবদ্ধতা কতোটা প্রয়োজন তার স্বপক্ষে সওয়াল করেন। উল্লেখ্য,গত কালই ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা নেতা হেমন্ত সরেনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!