এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই আজ বিধানসভায় ভাঙতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস

নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই আজ বিধানসভায় ভাঙতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস

দিনটি ছিল ২০১৬র বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিন। ম্যাজিক ফিগার ছুতেই প্রবল উচ্ছাস দেখা গিয়েছিল তৃনমূল কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। সেই উল্লাস কিছুক্ষনের মধ্যেই আরও কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছিল ২১১টি আসনে ঘাসফুলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একক ভাবে ২১১টি আসনে জয় নিঃসন্দেহে তৃনমূল শিবিরের কাছে রেকর্ড। এই রেকর্ড তৃনমূলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক “স্বর্ণ অধ্যায়” সংযোজন।এই ভাষাতেই সেদিন নিজেদের সাফল্য বর্ণনা করেছিল তৃনমূল শিবির।আজ সেই স্বর্ণ অধ্যায়ে এক নতুন পৃষ্ঠা যোগ হতে চলেছে। তৃণমূলের ২১১টি আসনের রেকর্ড ভাঙতে চলছে তৃনমূল শিবির নিজেই ।সবং উপনির্বাচনে মানস পত্নী গীতা রানী ভুঁইয়ার জয়ের পর তৃনমূলের আসন সংখ্যা বেড়ে হল ২১২। তৃনমূল বিধায়ক হিসেবে গীতা দেবীর আজ বিধানসভায় শপথ গ্রহণের সাথে সাথে তৃনমূলের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত হবে।
উল্লেখ্য,বিরোধী শিবির ছেড়ে একাধিক বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিলেও গীতা দেবীই প্রথম,যিনি উপনির্বাচনে বিরোধীদের হাত থেকে আসন ছিনিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করতে চলেছেন। এর আগে মানসবাবু কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হলেও,তিনি তৃনমূলের টিকিটে সদস্যপদ পেয়েছিলেন। সেই দিক থেকে এটাও তৃনমূলের নতুন রেকর্ড ।বিধানসভার নৌসর আলি কক্ষে তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।এই শপথ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।এছাড়াও তৃনমূলের একাধিক বিধায়ক। নিয়মানুসারে এই অনুষ্ঠানে বিরোধী বিধায়ক ও দল নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু মানস ভূঁইয়া দল ছাড়ার সময় কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল ,সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রচারে তা অব্যাহত। বাম-কংগ্রেসকে এক সুরে মানস বাবুর বিরুদ্ধে তীব্র ভর্ৎসনা করতে শোনা গেছে। এরপরেও কি কংগ্রেস এই শপথ বাক্য অনুষ্ঠানে থাকবে নাকি তা বয়কট করবে? সেটাই এখন দেখার।
প্রসঙ্গত,বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী মানস ভূঁইয়া পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং বিধানসভায় জয়লাভ করে বিধায়ক হয়েছিলেন ।কিন্তু তিনি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর রাজ্যসভার সদস্যপদ লাভ করেন তৃণমূলের টিকিট। ফলত,সবং বিধানসভা কেন্দ্রটি বিধায়ক শুণ্য হয়। যার জন্য উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছিল। সেই কেন্দ্র থেকেই তৃনমূল মানস পত্নী গিতারানী ভূঁইয়াকে তৃনমূলের প্রার্থী করেছিল।সবং নির্বাচন কেন্দ্র মানসবাবুর সৌজন্যে কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত হলেও,এই উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভাবে তৃনমূলের এই কেন্দ্রে ১৫শতাংশ ভোট বৃদ্ধি পেয়ে প্রথম স্থান পায়। সবংয়ের মানুষ মানস পরিবারের ওপরই ভরসা রেখেছে। দ্বিতীয় স্থানে বাম প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে গীতাদেবী জয়ী হন ।স্বাভাবিক ভাবেই তৃনমূলের বিধায়ক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১২। যা তৃনমূলের নিজস্ব রেকর্ড ভেঙে দেয় । এই জয়কে তৃনমূল এক অন্যন্য নজির হিসেবে মেনে নিয়েছে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!