এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > মোদির সাথে বৈঠকে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী – দলের নেতাদের বিজেপি সংস্পর্শে সো-কজ ঘিরে এবার সাবধানী তৃণমূল

মোদির সাথে বৈঠকে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী – দলের নেতাদের বিজেপি সংস্পর্শে সো-কজ ঘিরে এবার সাবধানী তৃণমূল

দলের নেতাদের বিজেপি সংস্পর্শ ঘিরে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিলো তৃণমূলের অন্দরে। জেলার তৃণমূল নেতা,জনপ্রতিনিধিরা এই নিয়ে বেজায় আশঙ্কায় ছিলেন। কখন কোন বিজেপি নেতার সাথে দেখা হয়ে যায় আর তাদেরকে সো কজের মুখে পড়তে হয়। অবশ্য এই ভয়ের কারণও আছে। তা হলো বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষের সঙ্গে মেলার অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে দেখা যাওয়ায় শো-কজের মুখে পপড়তে হয়েছিল এগরার তৃণমূল বিধায়ক সমরেশ দাসকে।

সেই রেশ এখনো মেটেনি। প্রকাশ্যে এসেছে সাংসদ শিশির অধিকারীর সঙ্গে তাঁর চাপানউতোর। এদিকে তার মাঝেই একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে ঝাড়গ্রামের বিজেপি সাংসদ কুনার হেমব্রমের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যাওয়ায় শো-কজের মুখে পড়েন শালবনির তৃণমূল বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো। বিজেপি নেতাদের কাছাকাছি হওয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলের তরফে শো-কজ করা হয় দুই বিধায়ককে। যা ঘিরে বেজায় আতঙ্ক ছড়ায় তৃণমূলের অন্দরেই।

এর মধ্যেই রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে একমঞ্চে বসাই শুধু নয়, রাজভবনে তাঁকে বৈঠক করতে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।আর এই নিয়েই বিজেপির কথাককের মুখে পরে সো কাউসে নিয়ে কিছুটা হলেও সাবধানী হয়েছে তৃণমূল। এই নিয়ে বিজেপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি শমিত দাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসায় তৃণমূল নেত্রীকে তো তাহলে নিজেকেই শো-কজ করতে হবে। তৃণমূলের উচিত যাঁদের ইতিমধ্যে দল শো-কজ করেছে, তাঁদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’

যা নিয়েই টনক কিছুটা হলেও নড়েছে শাসকশিবিরের। কেননা গত শুক্রবার রেলের বৈঠকে খড়্গপুরের বিজেপি নেতা, উপ-নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রেমচাঁদ ঝা-এর সঙ্গে খড়্গপুরের তৃণমূল বিধায়ক প্রদীপ সরকারকে দেখা যায়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত দল কোনো বাব্থা নেয়নি। পাঠানো হয়নি কোনো শো – কজের নোটিশও।

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর আরও সহজে হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের যে কোনও এক্সক্লুসিভ সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপে। ক্লিক করুন এখানে – টেলিগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, ফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউবফেসবুক পেজ

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

 

যদিও এই নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে এখন কান পাতলেই সোনা যাচ্ছে, নেতা নেত্রীদের বক্তব্য – খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার দু’-দু’বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাশে বসেছেন। এখন আর কী করে বিজেপি-র ‘ছোঁয়া’য় ব্যবস্থা নেবে দল!

যদিও এই নিয়ে অন্য দাবি করেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। তিনি বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ওটা অনুষ্ঠান মঞ্চ ছিল না। রেল সর্বদলের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ডেকেছিল। সেখানে কার সঙ্গে কার দেখা হল সেটা এখনও আমাদের দল বিচার করে দেখেনি। এখনও পর্যন্ত এই ব্যপারে দল থেকে কোনও নির্দেশ আসেনি।’

অবশ্য প্রেমচাঁদ ঝাঁ এর সাথে বৈঠক ঘিরে মুখ খুলেছেন প্রদীপ সরকারও। তার দাবি তিনি কোনো অন্যায় করেন নি। এই নিয়ে বলছেন, ‘এটা দলবিরোধী কার্যকলাপ নয় যে দল ব্যবস্থা নেবে। মানুষের স্বার্থেই রেলের জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করেছি। সেখানে কে থাকবে আমার জানার কথা নয়। আর একজন নাগরিকের সঙ্গে দেখা হলে বিধায়ক হিসাবে সৌজন্য দেখানো উচিত বলেই মনে করি।’

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এবার কি সাবধানী হচ্ছে তৃণমূল , নাকি ফের বিজেপি সংস্পর্শে এলেই শো কজের মুখে পড়তে হবে তৃণমূল নেতা নেত্রীদের। আর যদি তা হয় তবে দলের অন্দরে যে চাপা ক্ষোভ বাড়বে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!