এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ফের বড়সড় ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলেন – জেনে নিন

ফের বড়সড় ধাক্কা গেরুয়া শিবিরে, ঘরের ছেলে ঘরে ফিরলেন – জেনে নিন

রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বর্তমানে দলবদল আর ঘর ওয়াপসি এই দুটোই অত্যন্ত পরিচিত শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় প্রত্যেক দিনই হয় তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কেউ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে, না হয় বিজেপিতে যোগ দেওয়া কোনো তৃণমূল নেতা পুনরায় নিজের ঘরে ফিরে আসছেন। আর নিত্যনৈমিত্তিক এই ঘটনায় এবার ফের ধাক্কা খেলেন ভারতীয় জনতা পার্টি।

শনিবার বিকেলে বিজেপির সংসর্গ ত্যাগ করে ফের নিজের পুরনো রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে এলেন গাড়ুলিয়া পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত মুখোপাধ্যায়। দিন কয়েক আগেই গাড়ুলিয়া পৌরসভা বিজেপির চেয়ারপার্সন সুনীল সিংহের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন 12 জন তৃণমূল কাউন্সিলর। আর শনিবার সুব্রতবাবুর ঘর ওয়াপসিতে 12 জনের সংখ্যা বেড়ে 13 জন হয়ে দাঁড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ।

অপরদিকে সংখ্যায় ঘাটতি পড়ল গেরুয়া শিবিরের খাতায়। তাদের সদস্য সংখ্যা কমে তাহলে 7 এ এসে দাঁড়াল। কাজেই গাড়ুলিয়া পৌরসভাতে পুনরায় ঘাসফুল ফোটা এখন যে শুধু সময়ের অপেক্ষা, সে বিষয়ে কার্যত নিশ্চিত সকলেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রায় মাস দুয়েক আগে নোয়াপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক সুনীল সিং গাড়ুলিয়া পৌরসভার 12 জন কাউন্সিলরকে নিয়ে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির সদর দপ্তরে দলবদল করে হাতে তুলে নেন গেরুয়া ঝান্ডা।

কিন্তু দিল্লি থেকে ফেরার পরে সেই 12 জনের মধ্যে চারজন কাউন্সিলর পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেস ফিরে আসেন। আর তারপরেই স্পষ্ট হতে থাকে দলবদল করা সুনীল সিংকে আর কোনোমতেই গারুলিয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকতে দেবে না রাজ্যের শাসক দল। 21 আসন বিশিষ্ট গারুলিয়া পৌরসভার বর্তমান অঙ্ক অনুযায়ী 13 জন তৃণমূল কাউন্সিলর, 7 জন বিজেপি কাউন্সিলর এবং একজন ফরওয়ার্ড ব্লক কাউন্সিলর।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

তাই এই সংখ্যার মাধ্যমে কার্যত স্পষ্ট যে সম্পূর্ণরূপে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলেছে চেয়ারম্যান সুনীল সিং। এদিন হালিশহরে তৃণমূল কার্যালয়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায় নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিকের হাত থেকে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন। সূত্রের খবর, শনিবার দুপুরে এক অনুষ্ঠান বাড়িতে গিয়ে পার্থ ভৌমিকের হাত ধরেই তৃণমূলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন গাড়ুলিয়া পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

এদিন এই প্রসঙ্গে সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “এনআরসি ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করতে এবং ঘরে ফেরার তাগিদ অনুভব করেই আমি তৃণমূলে ফিরলাম। বিজেপিতে আমি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি দেখিনি। ওই দলে এখনও যারা তৃণমূল কংগ্রেস দল থেকে গেছেন, তারা কেউই ভালো নেই। বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তথা গাড়ুলিয়া পৌরসভার পৌরপ্রধান সুনিল সিংও ঘরে ফিরে আসুক আমি চাই। ওর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গেই দল করেছি।”

অপরদিকে সুব্রতবাবুকে দলে স্বাগত জানিয়ে নৈহাটির তৃণমূল বিধায়ক পার্থ ভৌমিক বলেন, “আমি আমার দলের পুরোনো সহকর্মীকে দলে ফেরত নিলাম। এর ফলে আমরা সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হব। আগামী দিনে বিভিন্ন ইস্যুতে আমরা একজোট হয়ে লড়াই করব। মমতা বন্দোপাধ্যায় বেঁচে থাকতে বাংলায় এনআরসি হবে না।”

কিন্তু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গোটা রাজ্যজুড়ে যেভাবে বিজেপিতে যাওয়া পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে কাউন্সিলর, জেলা পরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পুনরায় নিজের পুরনো দলে ফিরে আসছেন, তাতে গেরুয়া শিবিরের রাশ কিছুটা হলেও যে হালকা হচ্ছে, সেই বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!