এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজনীতির নোংরা লড়াইয়ে ভাঙা হলো মূর্তি,দায় কার? চাপানউতোর বিজেপি তৃণমূলের

রাজনীতির নোংরা লড়াইয়ে ভাঙা হলো মূর্তি,দায় কার? চাপানউতোর বিজেপি তৃণমূলের

আজ রাজনীতির নোংরা লড়াইয়ে বিদ্যাসাগরের মুক্তি ভাঙা হলো। যা নিয়ে নিন্দার ঝড় সর্বত্র ,জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত আজ অমিত শাহ এর রোড শো হয় কলকাতায়। বিশাল আয়োজন। কাতারে কাতারে লোক। কর্মী সমর্থকদের মাঝে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তাঁর সাথে একদিকে বর্তমান রাজ্য বিজেপি সভাপতি অন্যদিকে প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সহ অন্যান্য হেভিওয়েট নেতারা গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন।

শুরু থেকে সব ঠিক থাকলেও ঝামেলার সূত্রপাত শুরু হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে। তখন অমিত শাহের কার্নিভাল আস্তে দেরি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে অপেক্ষায় থাকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছাত্র ছাত্রীরা। যদিও প্রথমে তারা নিজেদের আসাফাই বলে দাবি করে তার পর বামেদের সমর্থনে স্লোগান দিলেও পরে পরিচয় প্রকাশ হয়ে গেলে তৃণমূল কংগ্রেসের স্লোগান দিতে থাকে। হাতে ‘গো ব্যাক’লেখা সাদা প্লাকাড ও কালো পতাকা নিয়ে তারা অপেক্ষায় থাকে অমিত শাহের কার্নিভাল আসার। আগে থেকেই পুলিশ অশান্তির আশঙ্কা করে ব্যারিকেট দিয়ে রাখে।

কিছুক্ষন পরে কৰ্মনিভালের সামনে থাকা বিজেপি কর্মী সমর্থকরা এসে পড়লে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছাত্রছাত্রীরা – ‘অমিত শাহ গো ব্যাক’, ‘অমিত শাহ চোর হ্যায়’, চৌকিদার চোর হ্যায় ‘ বলে স্লোগান দিতে থাকে। বিজেপি কর্মীরা তাদের আড়াল করার চেষ্টা করতে থাকে। এইসময় পরিস্থিতি উতপ্ত হতে শুরু করলেও দেবজিৎ সরকার সমেত যুব নেতারা সেখানে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং তাঁদের নেতৃত্বে বিজেপির বড় বড় প্ল্যাকার্ড দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ ডেকে দেয় বিজেপি কর্মীরা । সাথেই DJ চালিয়ে দেওয়া হয় ,সাথে মোদি-অমিত শাহের জয়ধ্বনি দিতে থাকে।

এই সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয় যে বিজেপি কর্মীরা তাদের দিকে ইঁট ও জলের বোতল ছুঁড়ছে। যার ফলে তাদের কয়েকজন আহত হয়েছে। এর পরেই অমিত শাহের কার্নিভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তরফ থেকে পাল্টা জলের বোতল, ও ইঁট ছোঁড়া শুরু হয় ও বলে বিজেপির অভিযোগ। আর তার পরেই প্ল্যাকার্ড টেনে ছিঁড়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ‘অমিত শাহ গো ব্যাক’, ‘অমিত শাহ চোর হ্যায়’, চৌকিদার চোর হ্যায় ‘ বলে স্লোগান দিতে থাকে। বিজেপি কর্মীরা উতপ্ত হয়ে পাল্টা তৃণমূলের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।পুলিশ তৃণমূল ছাত্র ছাত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপরে ভেতর থেকে ইঁট ছুড়তে শুরু করে তৃণমূল ছাত্র ছাত্রীরা আর এরপর বিজেপি কর্মীরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। উতপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। অবশ্য ততখনে অমিত শাহের কার্নিভাল এগিয়ে গেছে।

হাতের মুঠোয় আরও সহজে প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে যোগ দিন –

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

এখানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই খবর পাওয়া যায় বিদ্যাসাগর কলেজের সামনে জোর অশান্তি ছড়িয়েছে অমিত শাহ এর রোড শো নিয়ে। জানা যাচ্ছে, এখানে গেটের বাইরে ছাত্র ছাত্রীরা দাঁড়িয়েছিল তারা অবশ্য নিজেদেরকে সাধারণ ,প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী বলে দাবি করছেন। তারাও একই ভাবে স্লোগান দিতে শুরু করা মাত্র রোড শো লক্ষ্য করে বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে উড়ে আসে ইট, কাঠের চেলা। বিজেপির দাবি এটা তৃণমূলই করেছে। তৃণমূল এই অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, তাঁরা কালো পতাকা দেখিয়েছেন, কিন্তু ইট ছোড়েননি।

যাই হোক এর পর বিজেপি কর্মীরা ক্যাম্পাসে ঢোকে ও তিনটি বাইক জ্বলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি দেখা যায় কলেজ ক্যাম্পাসে ভাংচুরের পাশাপাশি বিদ্যাসাগরের মুটি ভেঙে অবস্থায় পরে আছে। তৃণমূলের দাবি বিজেপির দুষ্কৃতীরায় এই কাজ করেছে ,অন্যদিকে বিজেপির দাবি তৃণমূল এই কাজ করে তাদের নামে বদনাম করছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি বিজেপি হারবে বলে এই নোংরা কাজ করেছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি বিজেপিকে আটকাতে পারবে না বলে তৃণমূল সুপরিলকল্পিতভাবে এই কাজ করেছে। আর তাদেরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে।

মুখমন্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছেছেন আর কলেজ কতৃপক্ষের সাথে বৈঠক করেন।তিনি বলেন, ”খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। কলেজ ভেঙে তছনছ করা হয়েছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। আগুন জ্বালানো হয়েছে। টুকরো টুকরো তুলে যেখানে মূর্তি ছিল সেখানে রেখে এসেছি”।

তিনি আরো বলেন যে, ”এমন দাঙ্গা, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের দাঙ্গা, এতদিন কলকাতায় আছি, আমি কখনও দেখিনি এত লজ্জাজনক ঘটনা! বাইরে থেকে গুন্ডা আমদানি করেছে বিজেপি। কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। কোটি কোটি টাকার কাটআউট লাগানো হয়েছে। দুবরাজপুরের লোক মারা গিয়েছে। তার মানে বাইরে থেকে লোক এনেছে। বাইরে থেকে গুন্ডা নিয়ে এসেছে”।

তাঁর কথায় , ”গণতান্ত্রিক অধিকার সকলের রয়েছে। অমিত শাহ ভগবানের বাবা নাকি যে প্রতিবাদ করতে পারবে না। আমাকেও তো পোস্টার লাগিয়ে বলে দিদি এটা দেখুন, কখনও মাইন্ড করি না”।

অমিত শাহকে নিশানা করে মমতা বলেন, ”প্ররোচনা দিয়ে নেতা পালিয়ে গিয়েছে। বাংলার মানুষ এসব টলারেট করবে না। কাল মিছিল আছে। শান্তিপূর্ণভাবে যোগদান করুন। নিন্দার কোনও ভাষা নেই। এসব নেতারা দেশের নেতা হবেন! মনীষীদের সম্মান দিতে পারে না। সাহস থাকা ভাল, দুঃসাহস নয়”।

এদিকে অমিত শাহ দাবি করেন যে তাঁর রোড শো ভণ্ডুল করতে তৃণমূলের গুন্ডারা হিংসা ছড়িয়েছে । তাঁর দাবি, পদপৃষ্ট করিয়ে মানুষ মারতে চেয়েছিল শাসক দল।

অমিত শাহ বলেন,”কলেজের ভিতর থেকে কালো ঝান্ডা নিয়ে বেরিয়ে আসে তৃণমূলের গুন্ডারা। কিন্তু পুলিস নীরব দর্শক ছিল। তৃণমূলের গুন্ডা ও আমাদের কর্মীদের মধ্যে ঝামেলা বাঁধে”। তিনি আরো বলেন, ”কলকাতায় বিজেপির রোড শো দারুণ সাড়া পেয়েছে। বহু মানুষ অংশ নিয়েছেন। এটা দেখে তৃণমূলের গুন্ডারা মরিয়া হয়ে উঠেছিল। সে জন্যই হামলা চালিয়েছে। মানুষকে পদপৃষ্ট করে মারার পরিকল্পনা করেছিল। প্ররোচনা সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে রোড শো। এজন্য বিজেপি কর্মীদের অভিনন্দন জানাচ্ছি”।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির বার্তা, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল যে ধরনের হিংসার রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। শেষ দফায় হিংসার জবাব দিন। রাজ্যে হিংসার রাজনীতি শেষ করতে হলে তৃণমূলকে সরাতেই হবে”।

 

 

Top
error: Content is protected !!