এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যেতেই হেভিওয়েট নেতাদের কালীপুজোও “হাইজ্যাক” হয়ে যাওয়ার পথে!

তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যেতেই হেভিওয়েট নেতাদের কালীপুজোও “হাইজ্যাক” হয়ে যাওয়ার পথে!


সদ্যসমাপ্ত শারদীয় উৎসবে কোন ক্লাবের রাশ বেশি করে নিজেদের হাতে রাখা যায়, তা নিয়ে চরম দড়ি টানাটানির সৃষ্টি হয়েছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে। লোকসভা নির্বাচনের পর বঙ্গ রাজনীতিতে সবসময়কার পরিবর্তনে সবুজ জার্সি পরা নেতারা গেরুয়া জার্সিতে চলে যাওয়ায় সেই প্রাক্তন তৃণমূল নেতাদের হাতে যে সমস্ত ক্লাবগুলো ছিল সেই ক্লাবগুলো তাদের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে শুরু করেছে।

যেমন, রাজারহাট সল্টলেক এলাকায় বিধাননগর পৌরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা বর্তমান বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্ত এক সময় বিভিন্ন ক্লাবের মাথা থাকলেও এবার সেই ক্লাবগুলোই পরিচালনা করতে দেখা যাচ্ছে তারই চরম বিরোধী বলে পরিচিত বিধাননগর পৌরসভার ডেপুটি মেয়র তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায়কে।

জানা গেছে, বর্তমান বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তর ঘনিষ্ঠ দশটি বড় ক্লাবের কালীপুজোর দায়িত্বে রয়েছেন এবার তাপস চট্টোপাধ্যায়। যে ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রগতি সংঘ, জগদীশপুর স্পোর্টিং ক্লাব, পল্লীশ্রী সংঘ, গোপালপুর হাউজ তরুণ সংঘ, আজাদ হিন্দ ক্লাব, সবুজ সংঘ সহ আরও বেশ কয়েকটি পুজো মণ্ডপ।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, বঙ্গ রাজনীতিতে যখন দলবদলের পালা চলছিল, যখন একের পর এক তৃণমূলের নেতা বিজেপিতে যোগদান করছিলেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন, স্থানীয় অনেকেই হয়তো বা সেই দাপুটে নেতাদের হাত ধরে বিজেপিতে নাম লেখাবেন। কিন্তু তখন তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হাত কারো মাথা থেকে সরে গেলে তার আর কোনো গুরুত্ব থাকে না।

WhatsApp-এ প্রিয় বন্ধু মিডিয়ার খবর পেতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রূপের লিঙ্ক – টেলিগ্রামফেসবুক গ্রূপ, ট্যুইটার, ইউটিউব, ফেসবুক পেজ

আমাদের Subscribe করতে নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

এবার থেকে আমাদের খবর পড়ুন DailyHunt-এও। এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ও ‘Follow‘ করুন।



আপনার মতামত জানান -

এক্ষেত্রে কালীপুজোর পুজোমণ্ডপে কার কর্তৃত্ব থাকবে, তা সব্যসাচী দত্ত বিজেপিতে যাওয়াতে সেই সব্যসাচী দত্তের বদলে সেখানকার পুজো মণ্ডপের দায়িত্ব তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায়ের হাতে চলে আসায় তৃণমূলের সেই দাবি আরও প্রকট হয়ে উঠতে শুরু করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

জানা যায়, এতদিন তৃণমূলের সৈনিক হিসেবে থাকা তথা বর্তমান বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্ত স্থানীয় এই ক্লাবগুলোর দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তার সাথে এই ক্লাবগুলোর দায়িত্ব সামলাতে দেখা যেত তারই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ডাম্পি মণ্ডলকে। কিন্তু সব্যসাচীবাবু বিজেপিতে গেলেও ডাম্পিবাবু এখনও দলবদল করেননি। তিনি এখনো তৃণমূলেই রয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাকে যেভাবে বিভিন্ন ক্লাবের কর্তৃত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে সেখানে তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায় রাজ করতে শুরু করেছেন, তা নিয়ে কিছুটা হলেও ক্ষুব্ধ হয়েছেন সেই ডাম্পি মণ্ডলের অনুগামীরা।

এদিন এই প্রসঙ্গে ডাম্পি মণ্ডল বলেন, “আমি কিছু পুজোর সঙ্গে জড়িত। অনেকে হয়তো কিছু বেশি কালীপুজোর সঙ্গে জড়িত। মায়ের কাছে প্রার্থনা মানুষের ভালো হোক। শান্তি ফিরুক। এলাকার সুনাম হোক।” একইভাবে বিজেপিতে চলে গেলেও নিজের পুজো বলে পরিচিত মৈত্রী সংঘের কালীপুজোয় এতদিন যে ব্যাপারে সব থেকে বেশি প্রতিবাদ করতেন সব্যসাচী দত্ত, সেই জলাভূমি রক্ষার বিষয়টি পূজামণ্ডপে তুলে ধরে পক্ষে নিজের প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে চাপ বাড়িয়ে কৌশলী মন্তব্য করতে দেখা গেছে বর্তমান এই বিজেপি নেতাকে।

এদিন তিনি বলেন, “আমি জলাভূমি ভরাট করার বিরুদ্ধে বারবার প্রতিবাদ করেছি। এখানে পুজোয় জলাভূমি রক্ষা করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। যারা এখন পুজো সামলাচ্ছেন, এদের গত নয় বছরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গায়ের জোরে সব কিছু দখল করে নেওয়া হয়েছে।” তবে তৃণমূলের ডাম্পি মন্ডল হোক কিংবা বিজেপির সব্যসাচী দত্ত, তাপস চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পরোক্ষে এই দুই ব্যক্তি অভিযোগের আঙ্গুল তুললেও তা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন তাপসবাবু।

এদিন তিনি বলেন, “মানুষ আমার সঙ্গে রয়েছে। তাই আমি ক্লাবগুলোর সভাপতি হয়েছি। নারায়ণপুরের 49 টি ক্লাবের কালীপুজোর সভাপতি আমি। গত বছর তার মধ্যে কিছু পুজোর সভাপতি অন্য কেউ ছিলেন। সেখানে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছিল। মানুষ চেয়েছেন তাই দায়িত্ব নিয়েছি।” তবে যে যাই বলুন না কেন, রাজনৈতিক আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে যে পুজো মন্ডপের আবহাওয়া অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, তা সল্টলেক- রাজারহাটে কালীপুজোর হাইজ্যাকের ঘটনাতেই নষ্ট হয়ে গেল বলে মত বিশ্লেষকদের।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!