এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > গণসংগঠনের পথে নামার ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া, তৃণমূল-বিজেপির লড়াইয়ের মাঝে নতুন করে জায়গা বামেদের

গণসংগঠনের পথে নামার ডাকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া, তৃণমূল-বিজেপির লড়াইয়ের মাঝে নতুন করে জায়গা বামেদের

রাজ্য থেকে জোড়ফুল উৎখাত করে পদ্ম ফোটাতে গনতন্ত্র বাঁচানোর শ্লোগান নিয়ে ডিসেম্বরে রথযাত্রার বৃহত্তর কর্মসূচি রয়েছে বিজেপির। তারপরের দিন বিজেপিকে পাল্টা দিতে ‘পবিত্র যাত্রা’ করে বাংলায় সংহতির বার্তা দিতে পথে নামবে তৃণমূল। তবে এই গনতন্ত্র বাঁচাও প্রচার কর্মসূচির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে চায় না বামফ্রন্ট। যদিও এই বিভেদের রাজনীতির মাঝে পড়ে বামেদের অবস্থা কোনঠাসা কিন্তু তার মধ্যেও নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চান আলিমুদ্দিন কর্তারা।

১৯ এর লোকসভা ভোটকে টার্গেট করে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইটা যোদ্ধার মতোই করতে চায় বামফ্রন্ট। তাই বিজেপি-তৃণমূলের আগেই দল ও গনসংগঠনগুলোকে পথে নামার নির্দেশ দিয়েছিল বাম শিবিরের মাদার গোষ্ঠী সিপিএম। আর সেই নির্দেশ মেনেই রাজ্যের দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য খাদ্য এবং কর্মসংস্থানের দাবীতে সিঙ্গুর থেকে রাজভবন পর্যন্ত দুদিনের লং মার্চের ডাক দিয়েছিল তাঁরা।

গতকাল সেই লং মার্চের শেষ দিনই কোলকাতার রাজপথে নিজেদের ছাপ রেখে গেল বামরা। মিছিলে জনসমাগম দেখে সন্তুষ্ট দলীয় নেতৃত্বরা। কার্যত এদিনের কর্মসূচির মাধ্যমেই আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির বিগ্রেড সমাবেশের প্রস্তুতির দামামা বাজিয়ে দিল বামফ্রন্ট।দলীয় সূত্রের খবর,একটানা ৫২ কিলোমিটার হাঁটার পর হাওড়ার বালিখাল এলাকার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে রাত্রিবাস করেন মিছিলকারীরা। সকালে ফের শুরু হয় পদযাত্রা।

দক্ষিণবঙ্গ থেকে আরো কয়েক হাজার সমর্থক হাওড়া স্টেশান চত্বর থেকে মিছিলে যোগ দেন। বেলা ১ টা নাগাদ হাওড়া পেরিয়ে মিছিল ঢোকে কোলকাতায়। এই সময়ে শিয়ালদা থেকেও একটি ছোট মিছিল এসে পৌছায় ধর্মতলায়। বেলা দু’টো নাগাদ মূল মিছিল ব্রাবোর্ন রোড, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট, জওহরলাল নেহরু রোড ধরে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে যখন,তখন মিছিলের প্রভাবে মধ্য কোলকাতার যান চলাচল স্তব্ধ প্রায়।

মিছিল ও সমাবেশে এতো লোক জমায়েত হতে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শীর্ষস্থানীয় বাম নেতারা। জনসমর্থন নিয়ে দল তাহলে পুরানো ফর্মে ফিরছে এমন ইঙ্গিত পেয়ে যেন বুকে বল ফিরে পান তাঁরা। বাম নেতাদের বক্তব্য রাখার ধরণ আর শরীরী ভাষা সেটারই প্রমাণ রেখে গেল এদিন।

মিছিলে অংশগ্রহনকারীদের উৎসাহ দিতে বুধবার কয়েক ঘন্টা মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল দলীয় রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রকে। এদিন কোলকাতার সমাবেশে প্রধান বক্তার ভূমিকাতেও দেখা গেল তাকে। মঞ্চে ভাষণ দিতে উঠে আগামী বিগ্রেড প্রচারের হাতেখড়িও করে দেন তিনি। বিরোধীদের টার্গেট করে বলেন,’যারা কথায় কথায় বলে যে লালঝান্ডার অস্তিত্ব নাকি এখন দূরবিন দিয়ে খুঁজতে হয়, তারা আমাদের দুই গণসংগঠনের এই কর্মসূচি একবার দেখে যাক।’

এদিনের মঞ্চ থেকেই আগামী ৮-৯ জানুয়ারির দেশজুড়ে ডাকা ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট সফল করার ডাক দেন তিনি। অভিযোগে তুলে ধরেন তৃণমূল-বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি করার প্রসঙ্গকে। রাফাল কেলেঙ্কারির ইস্যু তুলে যেমন কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করেন,তেমন রাজ্যে শিল্পায়নের অধোগতির প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কটাক্ষও করেন এই হেভিওয়েট বামনেতা। তবে এদিনের কর্মসূচি সফল হবে কিনা তা নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন বাম নেতারা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কারণ কিছুদিন আগেই বিভিন্ন বাম গনসংগঠনের যৌথ মঞ্চ বিপিএমও’র সমাপ্তি কর্মসূচি উপলক্ষঢ়ে শহিদ মিনার ময়দানে ডাকা জনসভায় তেমন জনসমাগম দেখা যায় নি। তবে এদিনের কর্মসূচির সফলতা মুখে হাসি ফুটিয়েছে বামেদের।কৃষকসভা-খেতমজুর সংগঠনের নেতা অমল হালদার, অমিয় পাত্র, তুষার ঘোষ’রা অবশ্য গত দেড় মাস ধরে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে এই লং মার্চের জন্য প্রচার চালিয়েছিলেন। সেই কষ্টই সফলতার রং পেল আজ। তবে এই সংগঠিত জনসমাবেশ লোকসভা ভোট ব্যাঙ্কে বামেদের কতোটা সুফল দিতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে রাজনৈতিকমহলের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!