এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শিক্ষকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের বিজেপি-বাম-কংগ্রেসের বৃহত্তর মঞ্চে পদার্পন তৃণমূল কংগ্রেসেরও

শিক্ষকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের বিজেপি-বাম-কংগ্রেসের বৃহত্তর মঞ্চে পদার্পন তৃণমূল কংগ্রেসেরও

আগামী ২৯-৩০ শে অক্টোবর কলকাতার শহীদ মিনারের পাদদেশে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকদের পিআরটি স্কেলের দাবিতে এ যাবৎকালের বৃহত্তম আন্দোলনে নামছেন শিক্ষক সমাজ। বৃহত্তম আন্দোলন তো বটেই – এক অর্থে দেখতে গেলে এই আন্দোলন ঐতিহাসিকও বটে। কারণ, প্রিয় বন্ধু বাংলায় সর্বপ্রথম জানিয়েছিল যে – বৃহত্তর শিক্ষক স্বার্থে এবার মিলে গিয়ে এক ছাতার তলায় আসতে চলেছে রাজ্যের প্রধান তিন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। এমনকি সেই প্রতিবেদনেই আমরা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিই – এই আন্দোলনে সমর্থন জানাতে পারেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ত্বও।

আর প্রিয় বন্ধু বাংলার সেই খবরকে মান্যতা দিয়ে সত্যি সত্যিই এবার রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের বিজেপি-বাম-কংগ্রেসের বৃহত্তর মঞ্চে পদার্পন করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসেও। রাজ্য-রাজনীতিতে হেভিওয়েট বলে পরিচিত একের পর এক বিরোধী নেতাদের পর এবার প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা ইউইউপিটিডব্লুএর পিআরটি স্কেলের দাবিতে আন্দোলনের আমন্ত্রণ পৌছালো তৃণমূল কংগ্রেসের তিন হেভিওয়েট নেতার কাছে। সংগঠনের তরফে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছেছে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও সিঙ্গুরের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও বিধায়ক ও প্রাথমিক শিক্ষক উমাপদ বাউরির কাছে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

সূত্রের খবর, প্রাথমিক শিক্ষকদের এই আন্দোলন মূলত রাজ্য সরকারের কাছে নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য হলেও – তিন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী শুধু আন্দোলনের সমর্থনে আমন্ত্রণপত্র গ্রহণই করেননি – আন্দোলন-মঞ্চে উপস্থিত থেকে প্রকাশ্যে সমর্থনের কথাও জানিয়েছেন। ফলে, মান্যতা ও পরিপূর্ণতা পেল সংগঠনের তরফে যে দাবি পূর্বে করা হয়েছিল তার। সংগঠনের তরফে উদ্যোক্তারা জানিয়েছিলেন – এই আন্দোলন অত্যন্ত মানবিক এবং এখানে শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষা করাই একমাত্র লক্ষ্য – তাই, রাজ্য-রাজনীতির সমস্ত হেভিওয়েট নেতা, গণ-সংগঠন ও বুদ্ধিজীবী মহলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এই মানবিক আন্দোলনে – আমরা সমস্ত রাজনৈতিক রঙ ভুলে সমাজের সমস্ত শ্রেণীর মানুষকে সমর্থনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

এই প্রসঙ্গে, প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন বা ইউইউপিটিডব্লুএর এই আন্দোলন কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক চন্দন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উস্থি তার অরাজনৈতিকতার সত্ত্বা বজায় রেখে সমস্ত রাজনৈতিক দলের শিক্ষকদের, সমাজের সমস্ত সুশীল-ব্যক্তিত্ত্ব, বিশিষ্ট-মানুষ এবং সমস্ত জন-প্রতিনিধিদের আন্দোলনের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ওনারাও শিক্ষকদের এই মানবিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে সেই মঞ্চে যোগদানের কথা জানিয়েছেন। আমাদের আন্দোলন ও দাবি যে অত্যন্ত বাস্তবিক ও মানবিক – তা রাজ্যের বিভিন্ন বিরোধীদলের শীর্ষনেতাদের পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী ও বিধায়কদের আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ ও এই আন্দোলনকে সমর্থনের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত।

প্রসঙ্গত, এর আগে দল-মত-রাজনৈতিক মতাদর্শ ভুলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষার্থে এই আন্দোলনের পাশে থাকার অঙ্গীকার রাজ্যের যে সমস্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত্ব ও বুদ্ধিজীবী জানিয়েছেন, তা রীতিমত চোখ ধাঁধানো। এই ধর্ণা ও আন্দোলন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ও পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়ের। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত থাকার কথা ছিল প্রখ্যাত চিত্র-পরিচালক তরুণ মজুমদারের, কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি আন্দোলনের মঞ্চে থাকতে পারছেন না – তবে তিনি এই আন্দোলনের প্রতি তাঁর অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়াও, সব শিক্ষক সংগঠনের জেলা কমিটির পাশাপাশি, যেসব বিশিষ্টজনেরা এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন বলে সম্মতি জানিয়েছেন, তাঁরা হলেন –

১. সূর্যকান্ত মিশ্র, প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সিপিএমের রাজ্য-সম্পাদক
২. মুকুল রায়, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী
৩. সৌমেন মিত্র, প্রাক্তন সাংসদ ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি
৪. আব্দুল মান্নান, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা
৫. সুজন চক্রবর্তী, বিধানসভার বামপরিষদীয় দলনেতা

৬. অধীররঞ্জন চৌধুরী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদ
৭. নেপাল মাহাতো, বিধায়ক ও চেয়ারম্যান, আইন সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি, বিধানসভা
৮. বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও প্রখ্যাত আইনজীবী
৯. আমজাদ আলি হোসেন, প্রাক্তন বিধায়ক
১০. বিজ্ঞানী অশোকনাথ বসু, প্রাক্তন উপাচার্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়

১১. আনন্দদেব মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন উপাচার্য, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়
১২. সিদ্ধার্থ বসু, প্রাক্তন সভাপতি, জয়েন্ট এন্ট্রাস বোর্ড
১৩. সমীর আইচ, চিত্রশিল্পী
১৪. মন্দাক্রান্তা সেন. জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত কবি
১৫. আজিজুল হক, সাহিত্যিক
১৬. অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র, শিক্ষাবিদ

১৭. অরুনাভ গাঙ্গুলি, চিত্র-পরিচালক
১৮. অধ্যাপক ভাস্করচন্দ্র দাস, শিক্ষাবিদ
১৯. ডঃ হরপ্রসাদ সমাদ্দর, প্রাক্তন সভাপতি, মধ্য শিক্ষা পর্ষদ
২০. অমিতাভ মিশ্র, জাতীয় শিক্ষক, ২০১৭
২১. শরৎ পরামানিক, জাতীয় শিক্ষক
২২. নির্মলা মাহাতো, জাতীয় শিক্ষিকা
২৩. বাদশা মৈত্র, চিত্রাভিনেতা

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!