এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > পুরুলিয়া-ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া > জঙ্গলমহলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে সুপারিশ তালিকা উড়িয়ে অভিনব পদক্ষেপ তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

জঙ্গলমহলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে সুপারিশ তালিকা উড়িয়ে অভিনব পদক্ষেপ তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

জঙ্গলমহলের গোষ্ঠীকোন্দল মেটাতে নয়া পরিকল্পনা শাসকদলের। তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতেই পদ্মের উত্থান ঘটেছে এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে। তাই আগামী লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের মাটিতে ফের নিজেদের দাপট বোঝাতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই, এসব এলাকায় শাসকদলের সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে আসরে নেমেছে তৃণমূলের রথী-মহারথীরা। সুপারিশ তালিকা বাদ দিয়েই কিছুদিন আগে সর্বসম্মতিতে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন করলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

ঝাড়গ্রামে জেলা প্রাথমিক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজবাড়ি ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্সে সমস্ত জেলা পরিষদের সদস্য, দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মিটিং করেন পার্থবাবু। সেই আলোচনা সভায় দলীয় নেতাদের কাছে নামের তালিকা চান পার্থবাবু। সেই মতে দুটো তালিকা জমা পড়ে মন্ত্রীর কাছে। একদিকে ঝাড়গ্রামের বিধায়ক সুকুমার হাঁসদা, সংসদ সদস্য উমা সরেন, নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু, ঝাড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রেখা সরেন মিলে একটি তালিকা তৈরি করেন।

অন্যদিকে, পুরসভার চেয়ারম্যান দুর্গেশ মল্লদেব ও বিধায়ক চূড়ামণি মাহাত মিলে অন্য একটি তালিকা তৈরি করেন। উল্লেখ্য, এই প্রথম তালিকায়, জেলা পরিষদের সদস্য উজ্জ্বল দত্তকে কর্মাধ্যক্ষ হিসাবে রাখা যায়নি এবং জেলা পরিষদের সদস্য মনোরমা পাত্র শারীরিক অসুস্থতার কারণে এই মিটিং-এ আসতে পারেননি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের মহাসচিব কোনো তালিকা দেখেই কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন করেননি। পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিলেন কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন জেলা পরিষদের সদস্যদের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই হবে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

পাশাপাশি পার্থবাবু নিজে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে উজ্জ্বল দত্ত, তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভ্রা মাহাত – এই তিনজনের নাম ঘোষণা করেন। তারপর এই তিনজনের নামে ভোটাভুটি হয়। তবে এর আগেই উজ্জ্বল দত্ত নিজের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার আপত্তির কথা জানিয়ে দেন। কিন্তু পার্থবাবু সে আবেদন খারিজ করে ভোটাভুটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ভোটাভুটির পর দেখা যায়, ৬টি ভোট পেয়েছেন শুভ্রা মাহাত, তপন বন্দ্যোপাধ্যায় ৩টি ভোট, উজ্জ্বল দত্তের দখলে আসে ১টি ভোট।

স্বাভাবিকভাবেই পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্বটি দেওয়া হয় শুভ্রা মাহাতোকে। তারপরই পার্থবাবু আধিকারিকদের সম্মতি নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ উজ্জ্বল দত্ত, কৃষি-সেচ ও সমবায় কর্মাধ্যবক্ষ তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, শিক্ষা-সংস্কৃতি-তথ্য ও ক্রীড়া কর্মাধ্যক্ষ শান্তি টুডু, খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ দেবনাথ হাঁসাদা, নারী-শিশু উন্নয়ন-ত্রাণ ও জনকল্যাণ কর্মাধ্যক্ষ মনোরমা পাত্র, বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মামনি মুর্মু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ সুপ্রিয়া মাহাত এবং ক্ষুদ্রশিল্প-বিদ্যুৎ ও অচিরাচিত কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে সুজলা তরাইয়ের নাম ঘোষণা করেন।

জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ স্বপন পাত্র ও টুকটুকি হাঁসদা সহ-অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং উজ্জ্বল দত্তকে জেলা পরিষদের দলনেতার দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের মোট ১৬ টি আসনের মধ্যে ১৩ টি আসে তৃণমূলের দখলে আর মাত্র ৩ টি পায় বিজেপি। মাধবী বিশ্বাস জেলা পরিষদের সভাধিপতি হয়েছেন এবং সহ-সভাধিপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মধুসূদন সরেনকে। এ প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সুকুমার হাঁসদা বলেন, ‘তৃণমূলের মহাসচিব সর্বসম্মতি ক্রমেই কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন করেছেন’। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানি জানান, ‘নির্বাচিত সদস্যদের ট্রেনিং চলছে এবং এই ট্রেনিং পর্ব শেষ হলেই কর্মাধ্যক্ষ গঠন হবে’।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!