এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > দলীয় নেতা-কর্মীদের সাধারণ মানুষকে বসিয়ে-চা খাইয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি অনুব্রত মণ্ডলের

দলীয় নেতা-কর্মীদের সাধারণ মানুষকে বসিয়ে-চা খাইয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি অনুব্রত মণ্ডলের

তৃণমূল মানুষের দল- দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তাকেই পাথেয় করে চলা বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে “কেষ্ট” ফের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করার নির্দেশ দিলেন।

সূত্রের খবর, গতকাল সাঁইথিয়ায় বিলশা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি জনসভা করেন তিনি। যেখানে অনুব্রত মণ্ডল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায় চৌধুরী, বিধায়ক নীলবতী সাহা, সাঁইথিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিপ্লব দত্ত, জেলা তৃণমূলের সম্পাদক দেবাশীষ সাহা, ব্লক সভাপতি সাবের আলী সহ অন্যান্যরা।

আর এদিনের এই সভা থেকেই ফের পঞ্চায়েতের দলের প্রধান, উপপ্রধানদের সতর্ক করে দেন বীরভূমের জেলা তৃণমূলের সভাপতি। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির অফিসে কোনো অসুবিধা নিয়ে গেলে তাদের বসতে বলবেন। চা দিয়ে সম্মান জানাবেন। মানুষকে অসম্মান করলে আমি কিন্তু কাউকে ছেড়ে কথা বলবো না।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বর্তমানে জেলার প্রায় প্রতিটি সভাতে গিয়েই দলীয় নেতাকর্মীরা যাতে দুর্নীতি না করেন সেই ব্যাপারে সকলকে সতর্ক করে দিচ্ছেন অনুব্রত মণ্ডল। এদিনের সভা থেকেও সেই নেতা কর্মীদেরকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সরকারি বাড়ির ক্ষেত্রে কোনো প্রধান বা নেতা টাকা চাইলে তাকে লকআপে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।”

এদিকে এদিন তিনি যখন সাঁইথিয়ায় সভা করছেন ঠিক তখনই বামেদের পক্ষ থেকে তারাপীঠ থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত একটি সম্প্রীতি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।

জানা যায়, এদিনের এই সভা থেকে বিমানবাবু তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রবল তোপ দাগেন। এদিন সিপিএম ও বিমান বসুকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “সিপিএমের অত্যাচারের কথা মনে পড়লে মাথার ঠিক থাকে না। বিমানবাবুর বয়স 72-75। যাওয়ার দিন হয়ে গিয়েছে। তাই আর মস্তিষ্কের ঠিক থাকে না। ওনার হয়তো রাত্রিবেলা তারামাকে মনে পড়েছিল, তাই উনি দেখতে এসেছেন।”

এদিকে এদিনের সিপিএমের সভা থেকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঁতাতের অভিযোগ তুললে তার পাল্টা জবাব দিয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, “উনি হয়ত রাতে কোনো নেশা করেছেন। বুড়ো হলে নেশার রেশ কাটতে সময় লাগে।”

এদিনের এই সাঁইথিয়ার সভাতেও ফের সাঁইথিয়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বীরভূম জেলা তৃনমূলের সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের হাতে একটি 25 ভরি রুপোর পাচন এবং একটি প্রতীকী লাঙ্গল তুলে দেওয়া হয়।

অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “সামনেই উনিশ সালের লোকসভা ভোট। আমি বুথ মিটিং করে বলে দেব, কি করে পাচনের বাড়ি দিয়ে উর্বর জমি চাষ করতে হয়। চিন্তা করবেন না, আমি সবসময় আছি।”

অন্যদিকে সাঁইথিয়ায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সাবের আলী ও ব্লক তৃণমূলের যুব সভাপতি অরবিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বন্দ্ব আটকাতেও এদিন মুখ খোলেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি। মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, টম (অরবিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়) আমার ওপর হয়তো অভিমান করেছে। আমি যদি ভুল করি, তাহলে তা মিটিয়ে নেব।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে সিপিএমকে কটাক্ষ আর অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মীদের সংযত হওয়ার বার্তা দিয়ে আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে পাচনের বারি দিয়ে ঠিক কিভাবে জেলার রাজনৈতিক জমি উর্বর করতে হয় সেই বার্তাই এদিন নেতাকর্মীদের দিলেন অনুব্রত মণ্ডল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!