এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > উত্তরবঙ্গ > কংগ্রেসের বড় জয়ের দিনই -কংগ্রেসের সন্ত্রাস তুলে ধরতে বড়সড় জনসভা শুভেন্দু অধিকারীর

কংগ্রেসের বড় জয়ের দিনই -কংগ্রেসের সন্ত্রাস তুলে ধরতে বড়সড় জনসভা শুভেন্দু অধিকারীর

দেশের পাঁচ রাজ্যের মধ্যে প্রায় তিন রাজ্যেই আশানুরূপ ফল করেছেন কংগ্রেস। আর যার জেরে এই রাজ্যের বিধান ভবনের অনেক কংগ্রেস নেতাই প্রবল উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন। নতুন করে এই রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য তৎপর হচ্ছেন তাঁরা।

বিশেষ সূত্রের খবর, বাংলার মাটিতে কংগ্রেসকে যে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবেন না রাজ্যের শাসকদল, সেই জন্যেই পাল্টা কংগ্রেসের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই এদিন দুপুরে চোপড়া থানার দাসপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে শাসক-বিরোধীর রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া। আর যেই সংঘর্ষের জেরে ইতিমধ্যেই এখানে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন।

এদিকে এলাকায় এহেন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে গত ১৫ ই নভেম্বর দাসপাড়ার ফুটবল মাঠে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে কংগ্রেস। যেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্র ও রাজ্যের নেতারা। জানা যায়, এদিকে কংগ্রেসের প্রতিবাদ সভার পাল্টা ঘিরনিগাঁওয়ের প্রাথমিক স্কুলের মাঠে গত ১ ডিসেম্বর একটি প্রতিবাদ সভা করেছে শাসক দল। আর যেই সভা থেকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ উগরে দেয় রাজ্যের শাসকদলের বিধায়ক-মন্ত্রীরা।

চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান, ইটাহারের বিধায়ক অমল আচার্যরা বললেন, “আমরা চাইলে ওরা ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। এখন থেকে অভিষেক, শুভেন্দুদা সবাই এখানে আসবেন। আমরা দেখব এখানে কত মস্তান রয়েছে”। এদিকে শাসকদলের এই সভার একদিন যেতে না যেতেই ফের লক্ষ্মীপুরে প্রবল রাজনৈতিক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

কংগ্রেস কর্মীদের গ্রেফতার করার প্রতিবাদে কংগ্রেসের প্রদেশ ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বরা চোপড়া থানায় পুলিশের সঙ্গে দেখা করে এলাকায় শান্তি ফেরানোর দাবি জানান। আর তাই এবার পাল্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকে চোপড়া থানার দাসপাড়াতেই একটি প্রতিবাদ সভা সংগঠিত করা হয়েছে। আর যা ঘিরে বর্তমানে উত্তর দিনাজপুর জেলা রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি।

তাছাড়া, কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচির পাল্টাই কি তৃণমূলের এহেন রাজনৈতিক প্রতিবাদ সভা? এদিন এই প্রসঙ্গে চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান বললেন, “কংগ্রেসের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই আজ দুপুরে দাসপাড়ায় আমাদের প্রতিবাদ সভা হবে। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকবেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই কংগ্রেস এলাকায় সন্ত্রাস করছে, আর আমাদের নামে বদনাম করছে। তবে আমরা কোনো পাল্টা সভা করছি না। আগে থেকেই কর্মসূচি নেওয়া ছিল”।

একই কথা বলেছেন দাসপাড়ার বাসিন্দা তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা যুব তৃনমূলের সম্পাদক জিয়াউল হকও। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে করা এহেন অভিযোগের পাল্টা মুখ খুলেছে কংগ্রেসও। এদিন এই প্রসঙ্গে, চোপড়া ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি অশোক রায় বলেন, “তৃণমূল নিজেই সন্ত্রাস করছে, আবার ওরাই সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সভা করছে। পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ওরাই এলাকায় প্রবল সন্ত্রাস চালাচ্ছে। পুলিশ আমাদের দলের কর্মীদের গ্রেফতার করছে। কোনো অভিযোগ না পেয়ে গাঁজা পাচারের কেস দেওয়া হচ্ছে”।

সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপিকে কেন্দ্র থেকে সড়াতে ক্রমশ এক ছাতার তলায় আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন সোনিয়া গান্ধী-রাহুল গান্ধী বা মমতা বান্দ্যোপাধ্যায়রা। এমনকি, গো-বলয়ে বিজেপিকে রুখে দিয়ে কংগ্রেস জয় ছিনিয়ে নিতেই তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী, এমনকি শুভেন্দু অধিকারীও। কিন্তু, রাজ্যের ক্ষেত্রে – আবার সেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসের অভিযোগে সরব তৃণমূল। সব মিলিয়ে – লোকসভা নির্বাচনের আগে এই রাজ্যে কিভাবে বিজেপি-বিরোধী ঐক্য হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!