এখন পড়ছেন
হোম > জাতীয় > ২০১৯ তো বটেই ২০২১ এর লক্ষ্যে এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিল ‘টীম’ অমিত শাহ

২০১৯ তো বটেই ২০২১ এর লক্ষ্যে এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিল ‘টীম’ অমিত শাহ

সদ্য সদ্য সামনে এসেছে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ফলাফল, গোটা রাজ্যজুড়েই ঘাসফুলের রমরমা। কিন্তু তার মাঝেও কংগ্রেস ও বামফ্রন্টকে পিছনে ফেলে রাজ্যের প্রধান বিরোধী হওয়ার দৌড়ে বিজেপির চমকপ্রদ উত্থান নজর কেড়েছে সবার। কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচন ও সরকার গঠন নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, কিন্তু তার মাঝেই বাংলার পঞ্চায়েত নিয়ে খোঁজখবর রাখতে ভোলেননি তিনি। বঙ্গ-বিজেপির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, শাসকশিবিরের ‘লাগামহীন সন্ত্রাসের’ ফলে বহু আসনে প্রার্থী দেওয়া যায় নি, এমনকি ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনকে কার্যত ‘প্রহসনে’ পরিণত করা হয়েছিল, তা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্বের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় – এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কি ফলাফল হচ্ছে তা গুরুত্ত্বপূর্ন, কেননা মানুষের কাছে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা কত তা বোঝা যাবে।

পঞ্চায়েতের ফলাফল বেরোতেই তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রায় ৬ হাজারের কাছাকাছি, পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রায় ৮০০ এর কাছাকছি এবং সর্বোপরি জেলা পরিষদে ২৫ টি আসন জয় নিয়ে অত্যন্ত খুশি শীর্ষনেতৃত্ত্ব বলেই জানা গেছে। বিশেষ করে যেখানে অন্যান্য বিরোধী বামেরা ১ টি ও কংগ্রেস ৩ টি আসন পেয়েছে সেখানে বিজেপির যেটা ২৫ টি আসন অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ন বলে মনে করছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্ব। কেননা গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির ভোটে বেশিরভাগ সময়েই প্রতীকের থেকেও ব্যক্তি বড় হয়ে ওঠেন, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনসংযোগ ছোট ছোট এলাকার ভোটে মাপকাঠি হয়ে যায়। কিন্তু জেলা পরিষদের ভোট হয় অপেক্ষাকৃত বড় অঞ্চলে, যেখানে মানুষ ভোট দেন অনেকটা প্রতীক দেখেই। সেখানে বিজেপির এই ফল নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অভিমত রাজ্যে প্রবল গেরুয়া হাওয়া আছে – যা ২০১৯ বা ২০২১ এ রাজ্যে বিজেপিকে বড় সাফল্য দেওয়ার জন্য অনুকূল।

আর তাই ২০১৯ তো বটেই ২০২১ এর প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করে দিতে চায় গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় গেরুয়া উত্থানের জন্য যে মঞ্চ প্রস্তুত তা মেনে নিয়ে এখন থেকেই নিজের ‘টিমকে’ কাজে লাগাচ্ছেন অমিত শাহ। এতদিন বিভিন্ন রাজ্যে গেরুয়া সংগঠন সামলানো একঝাঁক বাঙালি মুখকে নিয়ে একটি কোর টীম করা হয়েছে – যারা ইতিমধ্যেই গুজরাটের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায়, ত্রিপুরা নির্বাচনে ও কর্ণাটকের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় নির্বাচনের কাজ ও সংগঠন বাড়ানোর কাজ হাতে-কলমে করেছেন। এইবার সেই টিমটিকেই ‘মিশন-বাংলায়’ কাজে লাগাতে চলেছে বিজেপি। তার সঙ্গে সঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভার প্রতিটি আসন ধরে ধরে ৩ জন করে প্রার্থীর নাম পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বঙ্গ-বিজেপিকে, কিন্তু অমিত শাহের নিজস্ব টীম আলাদা করে প্রতিটা জায়গায় সমীক্ষা করে দেখবে সঠিক প্রার্থীর নাম পাঠানো হয়েছে কিনা। যদি দেখা যায়, রাজ্যের তরফে পাঠানো নামের থেকেও বেশি সম্ভাবনাময় নাম উঠে আসছে, সেক্ষত্রে তিনিই প্রার্থী হবেন। সবমিলিয়ে পঞ্চায়েতে অক্সিজেন পেতেই বাংলায় ‘পরিবর্তনের পরিবর্তন’ করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইছে গেরুয়া শিবির।

Top
error: Content is protected !!