এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > বহু জায়গায় এখনও বেতন পাননি শিক্ষকরা – ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ, কি বলছে প্রশাসন?

বহু জায়গায় এখনও বেতন পাননি শিক্ষকরা – ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ, কি বলছে প্রশাসন?

এ যেন,একই জেলায় দুই চিত্র। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মহুকুমায় প্রায় প্রতিটি স্কুলের শিক্ষকেরা বেতন পেয়ে গেলেও এখনও নিজেদের হাতে বেতন পাননি ইসলামপুর মহকুমার শিক্ষকরা। আর এই ঘটনায় চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন ইসলামপুরের সিংহভাগ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি মাসেই এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। কিন্তু যেখানে নভেম্বর মাসের বেতন হাতে পেয়ে গেছেন জেলার অন্যান্য মহকুমার শিক্ষকেরা। সেখানে কেন ব্রাত্য রয়ে গেছে এই ইসলামপুর?

এই প্রশ্ন তুলে এবং এই ব্যাপারে স্থায়ী সমস্যার সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই ইসলামপুরে মহকুমা শিক্ষামঞ্চ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ইসলামপুরে এডিআই অফিস না থাকার জন্যই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বাস্তব সমস্যাটা কি কোথায়?

সূত্রের খবর, এই ইসলামপুর মহকুমার শিক্ষকদের বেতন ট্রেজারি থেকে হয়। আর এই বেতনের জন্য প্রতিমাসে ডিআই অফিস থেকে বিল হওয়ার পরে তা ইসলামপুরের এআই অফিসে নিয়ে গিয়ে ট্রেজারিতে জমা করা হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই এআই অফিস থেকে ট্রেজারিতে সেই বিল জমা দেওয়াই হয়নি। ফলে শিক্ষকদের হাতেও বেতন আসেনি।

কিন্তু শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, এটা নতুন নয়, এর আগেও প্রায় অনেক মাসেই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তারা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষকদের মাস পয়লা বেতনের কথা ঘোষণা করলেও কেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার শিক্ষক-শিক্ষিকারা তা পাচ্ছেন না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন এমনটা হচ্ছে?

এদিন এই প্রসঙ্গে উত্তর দিনাজপুর জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত মাইতি বলেন, “শুক্রবারই সমস্ত বিল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলামপুরের শিক্ষকরা কেন তা পাননি সেটা খোঁজ নিয়ে দেখছি।” অন্যদিকে মঙ্গলবার ট্রেজারিতে বিল জমা করার পরই তা শিক্ষকেরা পেয়ে যাবেন বলে এদিন আশ্বাস দিয়েছেন ইসলামপুরের সরকারি বিদ্যালয় পরিদর্শক রঞ্জন সাঁতরা।

এদিকে এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক বিপুল মৈত্র। তবে জেলা তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতা ব্যোমকেশ বর্মন এই প্রসঙ্গে বলেন, “এবার অ্যালটমেন্ট একটু দেরিতে এসেছে। শনিবার রায়গঞ্জ মহকুমার সমস্ত শিক্ষকদের বেতন হয়েছে। তবে ইসলামপুরে কেন হয়নি সেটা খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

এদিকে ইসলামপুরে যখন বেতন নিয়ে সংকটে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা, ঠিক তখনই সোমবার পর্যন্ত কোচবিহার জেলার সিংহভাগ প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারাও তাদের বেতন পাননি। ইতিমধ্যেই বেতনের দাবিতে সরব হয়েছে বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

 

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিন এই প্রসঙ্গে সংগঠনের জেলা সম্পাদক পার্থপ্রতীম ভট্টাচার্য্য বলেন, “মাস পাঁচেক আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবারও আমরা এখনও বেতন পাইনি।” তবে বেতন চলে এসেছে। কিন্তু সার্ভারের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান কোচবিহার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) নৃপেন সিনহা। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এখনও অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকারা বেতন না পাওয়ায় প্রবল ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে শিক্ষামহলে।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!