এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > রাজকুমার রায়ের মৃত্যুকে সামনে রেখে ‘বাঁচতে চেয়ে’ আদালতের কাছে বড়সড় দাবী জানানোর পথে রাজ্যের শিক্ষকরা

রাজকুমার রায়ের মৃত্যুকে সামনে রেখে ‘বাঁচতে চেয়ে’ আদালতের কাছে বড়সড় দাবী জানানোর পথে রাজ্যের শিক্ষকরা

শীতের আমেজ ভালো করে কাটতে না কাটতেই – লোকসভা নির্বাচনের প্রহর গোনা শুরু হয়ে গেল। আজ, রাজ্যের প্রায় সমস্ত ব্লকে শিক্ষকদের ‘ইলেকশন আরজেন্ট’ বলে একটি ফর্ম পাঠানো হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে এবং তা যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফর্মটিতে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে – শিক্ষকদের নাম-ধাম-ঠিকানার সঙ্গে বেতন থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস – সবই জানাতে হবে।

এই ফর্মটি হাতে আসার সাথে সাথে – শিক্ষকরা নিশ্চিত এটি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ব্যাপারে শিক্ষকদের অন্যতম সংগঠন শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের শীর্ষনেতা তথা প্রতিবাদী শিক্ষক মইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ব্যাপারে সহমত হন। এর সাথেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন – এই ব্যাপারে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন।

মইদুলবাবুর বক্তব্য, আমরা ডিও, বিএলও বা সুপারভাইজারের ডিউটি থেকে অব্যাহতি চাওয়ার সময় বলেছিলাম – সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী শিক্ষকরা শিক্ষা-বহির্ভূত কাজ করবেন না। কিন্তু, এই নির্বাচনী ডিউটি শিক্ষকদের করণীয়র মধ্যেই পড়ে এবং আমরা সেই দায়িত্ত্ব সম্পর্কে সচেতন। তাই আমরা অবশ্যই করতে চাই – কিন্তু, কোনোমতেই তা আমাদের জীবনের মূল্যে নয়। এই প্রসঙ্গে মইদুলবাবু বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন ও সেই নির্বাচনে মৃত্যু হওয়া শিক্ষক রাজকুমার রায়ের প্রসঙ্গ তোলেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

মইদুলবাবু বলেন, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মাননীয় দেবাশিস শীলবাবু কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য আবেদন জানান। কিন্তু রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে জানিয়ে দেয় – পঞ্চায়েত নির্বাচন লাঠিধারী, সিভিক পুলিশ, আবগারী দপ্তরের কর্মী বা বনকর্মী দিয়েই যথেষ্ট নিরাপত্তা দেওয়া যাবে। কিন্তু, বাস্তবে আমরা দেখি, রেললাইনের উপর রাজকুমার রায়ের তিন টুকরো হওয়া মৃতদেহ!

মইদুলবাবু আরও বলেন, এই তো সম্প্রতি বাইরের পাঁচ-পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভার মত সাধারণ নির্বাচন হয়ে গেল। কোথাও তো একটি রাজনৈতিক মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায় নি! অর্থাৎ রাজ্য সরকার, রাজ্যের প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ইচ্ছা করলেই – ভোটকর্মী ও ভোটারদের উপযুক্ত নিরাপত্তা দিতে পারেন। তাই অন্যরাজ্যে তা সম্ভব হলে বাংলাতেও তা সম্ভব। আর তাই, নির্বাচনের সময় আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আদালতের কাছে আবেদন জানাতে চলেছি।

মইদুলবাবুর বক্তব্য, ‘আক্রান্ত আমরা’ সংগঠনের তরফে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে এই ব্যাপারে নিজেদের মতামত স্পষ্ট জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী জানুয়ারী মাসে ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা, অবাধ ও শান্তিপূর্ন নির্বাচনের দাবিতে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনারের কাছে ডেপুটেশনও জমা দেওয়া হবে। কিন্তু, আজকের এই ফর্ম পাঠানো যেহেতু নির্বাচনের কাজের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ – তাই, আর কোন ঝুঁকি না নিয়ে আমরা আদালতে যাচ্ছি আমাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেতে। যতক্ষন পর্যন্ত না আমরা আদালতের কাছ থেকে তা পাচ্ছি – আমরা এই ফর্ম ফিলআপ করব না এবং রাজ্যের সমস্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে সেই ফর্ম ফিলআপ না করতে অনুরোধ করব। আমরা জাতীয় কর্তব্য পালনে অবশ্যই রাজি – কিন্তু, কোনো সময়েই তা নিজের প্রাণের মূল্যে নয়!

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!