এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > স্কুল শিক্ষিকাকে স্কুলে ঢুকতে বাধা, হাইকোর্টের নির্দেশে চাপে রাজ্য সরকার

স্কুল শিক্ষিকাকে স্কুলে ঢুকতে বাধা, হাইকোর্টের নির্দেশে চাপে রাজ্য সরকার

রাজ্য সরকারকে চাপে ফেলে কলকাতা হাইকোর্ট এদিন বরানগরের স্কুল শিক্ষিকা তনুজা সামন্তকে কেনও বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে ঢূকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে সেই বিষয়ে জবাব চেয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তার রিপোর্ট পেশ করতে নির্দেশ দিলো। এই ঘটনার সূচনা হয় চলতি বছর মার্চ মাসে । এইসময়ে একদিন আকষ্মিকভাবে স্কুল পরিচালন সমিতির প্রধান স্বপন চক্রবর্তী তাঁকে স্কুলে আসতে নিষেধ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে স্বপন চক্রবর্তী স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা হিসেবেই পরিচিত। ঐ এলাকায় অনেকের কাছে তিনি আবার মোটা স্বপন নামেই পরিচিত। আরো জানা গেছে স্বপন চক্রবর্তীর স্ত্রী হলেন ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। এখন অভিযোগ উঠছে পরিচালন সমিতির প্রধান স্বপন চক্রবর্তী এবং তাঁর প্রধান শিক্ষিকা স্ত্রীর যৌথ উদ্যোগেই সহকারী প্রধান শিক্ষিকার স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই প্রসঙ্গে অভিযোগকারী শিক্ষিকা বললেন , “চিঠি পাঠিয়ে স্বপন বলে দেন, আপনার আর স্কুলে আসার দরকার নেই। এলে ক্ষতি হবে।” হার না মেনে শুরুর দিকে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তনুজা দেবী স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করেন । কিন্তু তাঁকে ভয় দেখানো হলেও এই বিষয়ে অভিযোগ জানাতে নিকটবর্তী বরাহনগর থানার অভিযোগ জানাতে যান কিন্তু সেখানে “মোটাবাবুর” নাম শোনা মাত্রই পুলিশ নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। কোথাও কোনো সুরাহা না হতে দেখে দু মাস আগে তনুজা দেবী হাইকোর্টে বিচারের জন্যে আবেদন করেন। এদিন আদালতে ঐ মামলার শুনানি হয় বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে ।

আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

মামলার শুনানি চলাকালীন অনুজা দেবীর দুই উদয়শঙ্কর ও অনুপম ভট্টাচার্য জোর সওয়াল করলেন। সরকারী আইনজীবি বললেন “এই ঘটনার ইতিমধ্যে তদন্ত করছে বরানগর থানা।” বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় তখনই তাঁকে পালটা প্রশ্ন করে বললেন “তাহলে পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিল না কেন ? পুলিশি তদন্তের রিপোর্ট কোথায় ?” বিচারপতির সেই প্রশ্ন শুনে সরকারী আইনজীবি আদালতে একটি রিপোর্ট পেশ করেন যা দেখে বিচারপতি আশ্বস্ত হতে পারেননি। জানা যাচ্ছে এই সওয়াল জবাবের মাঝে তনুজা দেবীর আইনজীবি তাঁর মক্কেলের নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে বিচারপতি তনুজাদেবীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এদিন আদালতে তনুজা দেবী নিজের বয়ান জানিয়ে বিচারপতিকে বললেন, “আমাকে কোনও সাসপেনশন লেটার দেয়নি। অথচ বলা হচ্ছে আমি সাসপেন্ডেড শিক্ষক। কোনও প্রমাণ নেই। আমাকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে না। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কাটা হচ্ছে না। সাসপেনশনের কাগজ দেয়নি। ” এমনকি বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সচিব স্বপন চক্রবর্তী প্রসঙ্গে তিনি বললেন , “আমি একজন মহিলা। আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে জানেন? অশ্রাব্য কথা। ওনার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা। তিনিও আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। অকারণে আমার পেছনে পড়ে গেছেন দু’জনে।”

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!