এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > ভোটের মাঝেই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিয়ে তামিলনাড়ু প্রমান করল, ইচ্ছা থাকলে ভোট কোনো বাধা নয়!

ভোটের মাঝেই কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিয়ে তামিলনাড়ু প্রমান করল, ইচ্ছা থাকলে ভোট কোনো বাধা নয়!

বকেয়া ডিএ নিয়ে এ রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন অনুনয়-বিনয় ও আন্দোলনের পথেও যখন তা মেলে নি তখন একপ্রকার বাধ্য হয়েই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনের আশ্রয় নিতে হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের নিয়ম অনুযায়ী, এই নিয়ে প্রথম মামলা যায় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুন্যাল বা স্যাটে। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয় ডিএ হল দয়ার দান, সরকারের যখন যা ইচ্ছা তাই দেওয়া হবে, এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীরা নাকি কিছু দাবি জানাতে পারেন না! স্যাটও রাজ্য সরকারের হ্যাঁতে হ্যাঁ মিলিয়ে সেই রায়ই জানিয়ে দেয়।

কিন্তু এরপরে মরিয়া সরকারি কর্মচারীরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে, সেখানে দীর্ঘ আইনি যুদ্ধের পরে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ডিএ কোনোমতেই সরকারের দয়ার দান নয়, তা সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু, এই ঐতিহাসিক রায়ের পরেও, এই মামলা ঝুলে থাকে, কারণ ডিএর হার কি হবে এবং তা বছরে কতবার দেওয়া হবে এই নিয়ে স্যাটকেই সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু, সেখানে কখনো ‘ফাইল মিসপ্লেসড’ হয়ে গেছে তো কখনো শুনানির জন্য অতিরিক্ত সময় চায় – এই বাহানায় সেই মামলা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।

ফলে স্যাট থেকে সেই মামলা হাইকোর্ট হয়ে আবারো ফিরে এসেছে স্যাটে। হাইকোর্টে বিচারপতিদের কাছে তীব্রভাবে ভর্ৎসিত হয়েও – রাজ্য সরকারের ‘স্টান্স’ একটুও বদলায় নি! সেই তারিখ পে তারিখ! ডিএ নিয়ে বর্তমানে স্যাটে দুটি মামলা চলছে। একটি কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ীজ ও ইউনিটি ফোরামের যৌথভাবে করা, যার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১২ ই জুন। অপর মামলাটি সরকারি কর্মচারী পরিষদের করা, যার শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১৩ ই জুন। দীর্ঘদিন ধরে এইভাবে বিপুল পরিমান বকেয়া বাকি থাকায়, তার ক্ষোভের রেশ এবারের লোকসভা নির্বাচনের বাক্সে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছিল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, এই ক্ষোভের আঁচ পেয়ে শাসকদলের পক্ষে মত পোষণকারীরা নাকি জানিয়েছিলেন, বর্তমনে নির্বাচন চলছে, তাই দেশজোড়া আদর্শ আচরণবিধি। ফলে নাকি, ডিএ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না, ভোট মিটলেই এই নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ নেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু, এহেন মতবাদকে এবার বোধহয় বড়সড় ধাক্কা দিয়ে দিল তামিলনাড়ু রাজ্য সরকার। কেননা, সেখানেও চলছে নির্বাচন – সেখানেও ভোটগণনা আগামীকাল।

অথচ সূত্রের খবর, তামিলনাড়ু সরকার এর মধ্যেই বকেয়া ৩% ডিএ ঘোষণা করে, সেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য কেন্দ্রীয় হারে ডিএ করে দিল। আর এরফলেই সরকারি কর্মচারীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, এই ঘটনাতেই প্রমাণিত, সদিচ্ছা থাকলে নির্বাচন তা কোনো ‘ফ্যাক্টরই’ নয়! পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজ্য সরকারের ডিএ দেওয়ার সদিচ্ছা নিয়েই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন আছে – তাই তো বিপুল পরিমান ডিএ বকেয়া রেখে একবার স্যাট তো একবার হাইকোর্ট করে – মামলা মামলা খেলা করছে!

এই প্রসঙ্গে, সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য আহ্বায়ক দেবাশীষ শীলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নির্বাচনের মাঝেই তামিলনাড়ু সরকার ৩% ডিএ প্রদান করে একেবারে কেন্দ্রের সমান হল। প্রমাণ হয়ে গেল সদিচ্ছা থাকলে কর্মচারীদের দাবী দাওয়া মেটানো যায়, যা এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আদৌ নেই। এই ঘটনায় আর একটা দিকও পরিষ্কার – ডিএ প্রশাসনের রুটিন বিষয়, এটা দিলে নির্বাচনী বিধি কোনোমতেই ভঙ্গ হয় না। রাজ্য সরকারী কর্মচারী, শিক্ষক সমাজ, পেনসনভোগীদের রাগ এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রচন্ড বেগে ধাবিত হয়েছে। আগামী বিধানসভাতে তা আরও প্রবল বেগে আছড়ে পড়বে – এ বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। ফলাফল পর্ব মিটে যাবার পরেই আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু করে দেব।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!