এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > শুভেন্দু-গড়ে বাম-বিজেপি জোটের ধারা অব্যাহত, আরো দুই পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিল শাসকদলের থেকে

শুভেন্দু-গড়ে বাম-বিজেপি জোটের ধারা অব্যাহত, আরো দুই পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিল শাসকদলের থেকে

এবার বাম-বিজেপি এক ছাতার তলায় এসে পূর্ব মেদিনীপুরের শাসকদলের কাছ থেকে দুই গ্রাম পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিল। কাজেই এই জেলায় বিরোধী শূন্য পঞ্চায়েত গড়ার আশা অধারই থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা। গতকাল দুপুরে তমলুকের শ্রীরামপুর ১ এবং রামনগর ১ ব্লকের তালগাছড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতে বাম বিজেপিরা একজোট হয়ে গঠন করে পঞ্চায়েত বোর্ড। পঞ্চায়েত দখলের পর লাল-গেরুয়া আবীর খেলায় মেলে ওঠে দলীয় কর্মী সমর্থকরা।

এ প্রসঙ্গে তৃণমূল জেলা সভাপতি শিশির অধিকারি জানান, উক্ত দুটো গ্রাম পঞ্চায়েতে শাসকদলই বেশি আসনে জিতেছিল। কিন্তু ক্ষমতা দখলের লোভে বিজেপি এবং বামেরা একজোট হয়ে বোর্ড গঠন করল। এরপর কটাক্ষের সুর টেনে তিনি বলেন,’এরা আসলে চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।’

স্থানীয় সূত্রের খবর থেকে জানা গিয়েছে, গত ২০০৮ সাল থেকেই শ্রীরামপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত তৃণমূল কংগ্রেসই আওতায় ছিল। তার আগে এই পঞ্চায়েতে হুকুম চলতো কংগ্রেসীদের। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু আসনে সিপিএম এবং কংগ্রেস জোটবদ্ধ ভাবে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করায়। এছাড়া কয়েকটি আসনে এককভাবেও লড়াই করে। শেষ অব্দি মোট ১৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৫ টি, নির্দল ৫ টি ও বিজেপি ৪ টি আসনে জয়লাভ করে। এই ত্রিশঙ্কু গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন নিয়ে যুযুধান গোষ্ঠীর গুলোর মধ্য ব্যাপক ঝামেলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু এদিন সমস্ত রাজনৈতিক মতবিরোধকে ছাপিয়ে বিজেপি ও নির্দল প্রার্থীরা একজোট হয়ে বোর্ড গঠন করেন। প্রধান নির্বাচিত হন বিজেপির মঞ্জু বেরা ও উপপ্রধান নির্বাচিত হন নির্দলের শঙ্কর বর্মন।

অন্যদিকে, রামনগর ১ ব্লকের তালগাছড়ি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতও গতবার জোড়াফুলের ঝান্ডা উড়েছে । এবার এই গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ১৩টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৬ টি, বিজেপি ৪ টি, সিপিএম সমর্থিত নির্দল ২ টি ও বামেরা ১ টি আসনে জয় হাসিল করে। পঞ্চায়েতের লাগাম কোন দলের হাতে থাকবে, তানিয়ে ভোটের পর থেকেই উত্তেজনা পারদ চড়েছে ক্রমশ। এদিনও পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন নিয়ে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের হাতাহাতি,ধস্তাধস্তির জেরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিসের সক্রিয় প্রয়াসে কোনোমতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ভোটাভুটিতে বাম, বিজেপি ও নির্দল সদস্যরা একজোট হয়ে বোর্ড গঠন করেন। প্রধান নির্বাচিত হন নির্দলের তৃপ্তি বারিক পুষ্টি। অন্যদিকে, ত্রিশঙ্কু হওয়া রামনগর ২ ব্লকের পালধুই গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্দল সদস্যদের সমর্থন নিয়ে বোর্ড গঠন করেছে শাসকদল।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রব্লেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

বোর্ড গঠন প্রসঙ্গে সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন, তালগাছড়িতে বাম প্রস্তাবিত প্রধান ও উপপ্রধানকে কারা সমর্থন করেছে,এ বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই। তৃণমূল, বিজেপি যে কেউ সমর্থন করতে পারে। শ্রীরামপুরের বিষয়টি নিয়েও তিনি কিছু মন্তব্য করলেন না। তবে বিজেপির সঙ্গে জোটের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেই দাবী করলেন তিনি। ওদিকে বিজেপির তমলুক জেলা সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন অধিকারী বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই বিজেপির ছাতার তলায় সমস্ত এলাকাবাসী একজোট হচ্ছেন। তারই প্রতিফলন দেখা গেল পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনের সময়। তৃণমূল বিরোধী সকল মানুষ ও রাজনৈতিক দলের কর্মীদের গেরুয়াশিবিরে স্বাগত জানাতেও ভুললেন না নীলাঞ্জন বাবু এদিন।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!