এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > শুভেন্দু গড়ে প্রবল মারধর বিজেপি- কর্মীদের, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল পার্টি অফিস!

শুভেন্দু গড়ে প্রবল মারধর বিজেপি- কর্মীদের, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল পার্টি অফিস!

সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ যে শাসক দল 42 এ 42 দখল করার স্বপ্ন দেখেছিল, তাদের মোটে 22 টি আসন পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। অপরদিকে প্রবণ উত্থান ঘটেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দুটি আসন বিশিষ্ট ভারতীয় জনতা পার্টি 2019 সালের নির্বাচনে নিজেদের কলেবর বাড়িয়ে 18 টি আসনে এসে দাঁড়িয়েছে।

তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও শিশির অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একটিও আসনে জয়লাভ করতে পারেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। এখানে অধিকার বাড়ির সাম্রাজ্য আগের মতনই কায়েম রয়েছে। কিন্তু শাসকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ধরিয়ে এবং অধিকারী বাড়িকেও চিন্তার মুখে ফেলে দিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপি প্রবল বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করেছে। এই এলাকায় 39 শতাংশ ভোট পেয়ে রীতিমতো শাসকের দুয়ারে কড়া নাড়ছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

তাই একসময় বাম বনাম তৃণমূলের লড়াইতে প্রেক্ষাপট ছিল যে জেলা, সেই জেলার লড়াইয়ের চিত্র এখন সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। এখন পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আর বাম বনাম তৃণমূলের লড়াই শুনতে পাওয়া যায় না। সেখানে কান পাতলেই এখন শোনা যায় তৃণমূল বনাম বিজেপির লড়াইয়ের কথা। আর এরকমই ঘটনা ক্রমাগত ঘটতে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে। সম্প্রতি ভগবানপুর 2 নম্বর ব্লকের বড়বড়িয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীর বাড়িঘর সহ একাধিক কর্মীদেরকে মারধর করা এবং দলীয় অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠল রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে।

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।


আপনার মতামত জানান -

এলাকায় বোমাবাজি থেকে শুরু করে, বন্দুক উঁচিয়ে ভয় দেখানো ইত্যাদির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হল রাজ্যের শাসক দলকে। জানা গেছে, পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতিকে আয়ত্তে এনেছে। বস্তুত, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই স্বাভাবিক কারণে ভগবানপুর 2 নম্বর ব্লকের তৃণমূল বনাম বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠতে দেখা যায়। গত কিছুদিন আগে পর্যন্ত এলাকার বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা এসে তাদের ওপরে হামলা চালাচ্ছে।তাদের আরও অভিযোগ, এলাকায় রাজনীতিতে নিজেদের দখল কায়েম রাখতেই ঘাসফুল শিবির বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উপর এই অত্যাচার চালাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতা প্রশান্ত পন্ডা বলেন, “রবিবার থেকে এলাকায় তৃণমূল বাহিনীর তান্ডব চলছে। এদিন সকালে রাধাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উড়উড়ি আমাদের একটি পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হয়। বাসুদেববেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়বড়িয়া এবং শিমুলদাড়ি গ্রামেও তৃণমূল কর্মীরা বাইকে চেপে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। বেশ কয়েকজন মহিলার সম্মানহানি করা হয়েছে।” জানা গেছে, বিজেপি কর্মী রতন খাটুয়ার বাড়িতে এদিন ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, বিজেপি কর্মী প্রদ্যুৎ জানা এবং তরুণ দাসকে মারধরের অভিযোগেও বিদ্ধ হতে হয়েছে শাসক শিবিরকে। এদিন এই প্রসঙ্গে কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, “ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ভুপতিনগর থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশ তৃণমূলের অঙ্গুলিহেলনে চলছে। অনেক বিজেপি কর্মী ঘরছাড়া হয়েছেন। তৃণমূল সন্ত্রাস করলে আমরাও ছেড়ে কথা বলব না। রাজনৈতিক পথেই এর উপযুক্ত জবাব দেব।”

তবে বিজেপির এই অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিকে এই প্রসঙ্গে ব্লক তৃণমূল সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সদস্য মানব পড়ুয়া বলেন, “লোকসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির লোকজন ভুল বুঝিয়ে বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে নিজেদের দলে যোগদান করিয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস যেতে না যেতেই বিজেপির প্রতি তাদের মোহভঙ্গ হয়েছে এবং তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই তাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই।”

কিন্তু শাসকদল যাই বলুন না কেন, এর আগেও শাসক বনাম বিরোধী লড়াইয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা অনেক সাক্ষী হয়ে থেকেছে। পূর্বতন সময় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী দশায় সিপিআইএমের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সেই সময় বারবার তৎকালীন শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে দেখা গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে। নিজেদের পার্টি অফিস পোড়ানো থেকে শুরু করে, তৃণমূলের দলীয় কর্মীদেরকে মারধর করার মত অভিযোগ আগে তৃণমূল কংগ্রেসও করেছিল। আর সেই সময়ে একই জবাব দিয়েছিল তদানীন্তন রাজ্যের শাসক দল বামফ্রন্ট।

আর বর্তমানে সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে। যখন বিরোধী দল বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে ঠিক তখনই শাসক দল তৃণমূল নিজেদের দোষকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। তাই পূর্ব মেদিনীপুরের ঘটনাচক্র এখন কোন দিকে গড়ায়, পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকে নাকি আগামী দিনে তাঁর রাজনৈতিক মানচিত্রে কিছু পরিবর্তন আসে, সেদিকেই লক্ষ থাকবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!