এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মালদা-মুর্শিদাবাদ-বীরভূম > মুর্শিদাবাদে শুভেন্দু অধিকারীর জনসভাতে জনস্রোতের মাঝেই দলবিরোধী স্লোগানে তাল কাটল শাসকদলে

মুর্শিদাবাদে শুভেন্দু অধিকারীর জনসভাতে জনস্রোতের মাঝেই দলবিরোধী স্লোগানে তাল কাটল শাসকদলে

তৃণমূলকে অস্বস্তিতে ফেলে মুর্শিদাবাদে পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মিনি ব্রিগেড সভাতেই দলবিরোধী ঢেউ প্রকাশ্যে আসল। চলতি মাসের ১৯ তারিখই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রস্তাবিত সর্ব ভারতীয় ব্রিগেড সমাবেশ। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে হেভিওয়েট বিজেপি বিরোধী নেতাদের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে এই বৃহত্তর সমাবেশে। তার আগেই বিরোধীদের সামনে শাসকদলের শক্তি প্রদর্শন করতে দলনেত্রীর নির্দেশেই জেলায় জেলায় সভা করছেন তৃণমূলের রাজ্য এবং জেলাস্তরের নেতারা।

সেই সূত্রেই এদিন অধীর চৌধুরী গড়ে বহরমপুর এবং জঙ্গিপুরে লক্ষাধিক লোক জমায়েত করে মিনি ব্রিগেড করে ফেললেন শুভেন্দু অধিকারি। কংগ্রেসের শক্তিগড় এদিন তৃণমূল সমর্থকদের জনজোয়ারে ভাসলেও জনসভাতেই শাসকদল বিরোধী মনোভাব প্রকাশ্যে আসলো। যা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন শাসকদল।

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

গতকাল সকাল থেকেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় ভীড় জমাতে শুরু করে দলীয় সমর্থকরা। যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশের সঙ্গে সিভিক ভলেন্টিয়ার সহ অতিরিক্ত বাহিনী নামানো হয়েছিল রাস্তায়। কিন্তু উমরপুর,সাগরদিঘি বা জঙ্গিপুরের দিক থেকে কোনো গাড়ি শহরের ভেতর ঢুকতে পারছিল না,এতোটাই চাপ ছিল রাস্তাঘাটে। বাধ্য হয়ে উমরপুর মোড় থেকে হেঁটেই মিছিল করে জনসভার উদ্দেশ্যে আসতে হয়েছিল মানুষকে। বাসস্ট্যান্ড থপকে খড়খড়ি ব্রিজের কাজ চলায় এই যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছিল বলেই দাবী পুলিশের।

জঙ্গিপুর জনসভাতে দুপুর ১২ টা ৫৫ নাগাদ মঞ্চে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আগে বক্তব্য রাখেন দোলা সেন। এদিন মঞ্চে উঠে যানজট প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মহাকুমা সভাপতি বিকাশ নন্দ। রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লক সভাপতি মুক্তিপদ ধর বলেন,যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের আরো তৎপরতা দরকার ছিল। তবে এদিনের সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরে আসার মতো৷ মঞ্চের বাম দিক থেকে শেষপ্রান্ত পর্যন্ত একটানা ভীড় ছিল মহিলাদের। জঙ্গিপুর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দু’শোর বেশি মহিলা এদিন সভায় হাজির হয়েছিলেন বলেই জানান ওয়ার্ড সভাপতি তৃষ্ণা ঘোষ। দিদির ডাকে মহিলারা সাড়া দেবেন এমনটাই তো স্বাভাবিক, বক্তব্যে জানালেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা নেত্রী রোজিনা খাতুন।

শুরুতে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও শ্রমমন্ত্রী জাকির হোসেন ভাসন দিতে উঠলেই সমর্থকদের একাংশ বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জাকির হোসেন পরে ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে জেলা সভাপতিও পরিস্থিতির স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিক্ষুব্ধ কর্মীদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় হুঁসিয়ারি দিয়ে বলেন,”কংগ্রেস, সিমিএমের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যারা এই কাজ করছে, তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। এসব বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ থাকলে দলের ফোরামেই জানাতে হবে।”

একইভাবে,গতকাল জনপ্লাবনে ভেসেছে বহরমপুর শহর। সকাল থেকে বেলা ১২ টা নাগাধ উপচে পড়া ভীড় ছিল টেক্সটাইল মোড়ে। তারপর ওই সংশ্লিষ্ট চত্বর থেকে ভীড় ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় চারপাশের এলাকায়। বেলা আড়াইটের মধ্যে টেক্সটাইল মোড় থেকে ভীড় চারাপাশে ছড়িয়ে পড়ার ফলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত বারাক স্কোয়ার ময়দানে চারপাশের লেনে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ওই সংশ্লিষ্ট চারটি লেনের প্রতিটি মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে দিনভর ভীড় সামলান সিভিক ভলেন্টিয়াররা।

পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বহরমপুর মহকুমার অন্তর্গত বহরমপুর, বেলডাঙা-১ ও ২, নওদা ও হরিহরপাড়া ব্লক এবং বেলডাঙা ও বহরমপুর শহর এলাকা থেকে সভায় লোক আনা হয়। সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ভীড় বাড়তে থাকে। জনসভায় লোকসমাগমের জন্যে শহরের স্টেশন রোড,ওয়াইএমট মাঠচত্বর, কুমার হস্টেল, বহরমপুর-বেলডাঙা রোড, উকিলাবাদ এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় দিনভর ব্যাপক যানজটের সম্মুখীন হয়ে নাজেহাল অবস্থা হয়েছে সাধারণ মানুষের।

গতকাল সভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের একাংশের গলায় শোনা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসার সুর। বলেন, এতোদিন মুর্শিদাবাদে রাজ কংগ্রেস,বামফ্রন্ট জেলায় সেভাবে উন্নতি করতে পারেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এখন জেলাবাসী কন্যাশ্রী,সবুজসাথী সহ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছে।

বিপিএল তালিকাভুক্ত মানুষকে দু’টাকা কিলো দরে চাল দিচ্ছে তৃণমূল সরকার। গ্রামীন রাস্তাঘাট,এলাকায় আগের থেকে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে গ্রামের মহিলারা কর্মসংস্থানের উপায় খুঁজে পেয়েছে। একারণেই তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করতেই এই সভায় এসেছেন তাঁরা। জনসভায় শাসকদল বিরোধী শ্লোগান প্রকাশ্যে এলেও বেশিরভাগ মানুষের সমর্থন পেয়েই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন তৃণমূলের হেভিওয়েটরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!