এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > স্বাধীনতার সংগ্রামীকে প্রাপ্য সম্মান দিতেও কেন্দ্রের অনীহা, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শুভেন্দু অধিকারী

স্বাধীনতার সংগ্রামীকে প্রাপ্য সম্মান দিতেও কেন্দ্রের অনীহা, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্র সব সময় বাধা দিচ্ছে বলে বারেবারেই এই অভিযোগ করে আসছেন রাজ্যের শাসক দল। আর এবারে খোদ বাংলার বরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র সামন্তের নামে হলদিয়া বন্দরের নামকরন করার জন্য কেন্দ্রের অসহযোগিতার বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যের পরিবহন ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সূত্রের খবর, গতকাল এই স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র সামন্তের 119 তম জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। এদিন প্রথমে সকাল 11 টা নাগাদ সেই সতীশচন্দ্র সামন্তের বাস্তুভিটে মহিষাদলের গোপালপুর গ্রামে এসে তাঁর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করেন রাজ্যের পরিবহন ও পরিবেশমন্ত্রী। তারপর সেই বরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের উদ্যোগে গরীব মানুষদের হাতে শীত বস্ত্র তুলে দেন তিনি। আর এরপরই সেই সতীশচন্দ্র সামন্তের পুরনো বাড়িতে গিয়ে তার খুড়তুতো ভাই ধীরেন্দ্রনাথ সামন্ত সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন শুভেন্দুবাবু।

এদিকে সতীশবাবুর বাড়ি থেকে ফিরেই মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে এই স্বাধীনতা সংগ্রামী জন্মজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। যেখানে উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার বিভু গোয়েল, প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী ও সতীশ বাবুর সহকর্মী বলে পরিচিত চিত্তরঞ্জন সামন্ত, রনজিত বয়াল, মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিউলি দাস, সহ সভাপতি তিলক কুমার চক্রবর্তী সহ স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য ও পঞ্চায়েতের সদস্যরা।

আর এই মঞ্চ থেকেই সাতটি এম্বুলেন্স এবং একটি ট্রাক্টর তুলে দিয়ে জেলার শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের উন্নয়নে বিভিন্ন শিল্প কর্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাজ্যের পরিবহন ও পরিবেশমন্ত্রী। অন্যদিকে গত বছর সিএসআরএর সাহায্যে হলদিয়া এনার্জি লিমিটেড, হিরণ্ময় এনার্জি, এমসিপিআইয়ের পক্ষ থেকে 5 কোটি টাকা দেওয়া হলে এদিন তাদের ভূয়শী প্রশংসা করেন মন্ত্রী।

আর এখান থেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র সামন্ত এর নামে হলদিয়া বন্দরের নাম করন করার জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তাদের  সাড়া না দেওয়ায় সেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সতীশবাবু হলদিয়া বন্দরের রূপকার। ওড়িশার বিজু পট্টনায়েকের সঙ্গে লড়াই করে আমি হলদিয়া বন্দর এনেছিলাম। আজকে এই বন্দরের ওপর সমগ্র পূর্ব ভারতের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র সরকার এলাকার মানুষের দাবি মেনে হলদিয়ার রুপকারের কৃতিত্বকে স্বীকার করতে চাইছে না। আমি সংসদে এটা নিয়ে বার বার সোচ্চার হয়েছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই আমরা চালিয়ে যাব।”

এদিকে মহিষাদলের এই অনুষ্ঠান শেষ করেই এদিন হলদিয়া পুরসভা আয়োজিত সেই সতীশচন্দ্র সামন্তের এক জন্ম জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেন মন্ত্রী। যেখানে উপস্থিত ছিলেন হলদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান শ্যামল কুমার আদক, ভাইস চেয়ারম্যান সুধাংশু শেখর মণ্ডল, হলদিয়া বন্দরের ডেপুটি চেয়ারম্যান জি সেন্থিলভেল, আইওসি সংশোধনাগারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চন্দ্রকান্ত তেওয়ারি সহ অন্যান্যরা।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না। তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিকে বরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামীর জন্মদিন উপলক্ষে এদিন শাসকদলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির উদ্যোগে দুর্গাচক স্টেডিয়ামে একটি দিবারাত্রি সতীশ সামন্ত ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। সব মিলিয়ে এবার নিজের গড়ে দাঁড়িয়ে বরেণ্য স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র সামন্তকে ঠিকমত স্বীকৃতি না দেওয়ায় ফের কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!