এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > গুন্ডা, মস্তান কিংবা মাতাল না হলেই তাঁকে ফিরিয়ে আনুন : সূর্যকান্ত মিশ্র

গুন্ডা, মস্তান কিংবা মাতাল না হলেই তাঁকে ফিরিয়ে আনুন : সূর্যকান্ত মিশ্র

2011 সালে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকেই যেন কার্যত দিশেহারা হয়ে গেছে রাজ্যের আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাম নেতারা। সাম্প্রতিক কালে যে কয়েকটা নির্বাচনের হয়েছে এই বাংলায়, তার প্রায় সবকটাতেই ভরাডুবি দেখতে হয়েছে তাঁদের। আর এই অবস্থায় ফের বুথ স্তর থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার দিকে নজর দেওয়ার কথা বলছেন সিপিএমের শীর্ষ নেতৃত্বরা। দলীয় সংগঠনের ধ্বস আটকাতে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কর্মীদের ফের ঘরে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে সিপিএমের বঙ্গ ব্রিগেডও।

কারণ সামনে লোকসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে এই বাংলায় শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে কার্যত দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। তাই একসময় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বামেরা তাঁদের ক্ষমতা হারিয়ে অনেকটা পিছনে চলে আসায় আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে টার্গেট করে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণের একদম উপরে উঠে আসতে চাইছে তাঁরা। আর তাইতো গত শনিবার মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হল মাঠে সিপিএমের এক সাধারন সভায় যোগ দিয়ে সেই কথাই শোনা গেল দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রের গলায়।

এদিন এই সভায় উপস্থিত হয়ে সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, “যাঁরা আমাদের থেকে ন্যায় সঙ্গত কারণে দূরে সরে গিয়েছিলেন, তাঁদের কখনো ঘৃণা করবেন না‌। অনেকে হয়তো বিজেপি কিংবা তৃণমূলের দিকে চলে গিয়েছেন। কিন্তু সকলকে ফিরিয়ে আনুন। আমাদেরও দোষ থাকতে পারে। শুধুমাত্র গুন্ডা, মস্তান কিংবা মাতাল না হলেই তাঁকে ফিরিয়ে আনবেন। আমরা সবাইকে বন্ধু ভাবি।”

 

ফেসবুকের কিছু টেকনিক্যাল প্রবলেমের জন্য সব আপডেট আপনাদের কাছে সবসময় পৌঁচ্ছাছে না। তাই আমাদের সমস্ত খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে যোগদিন আমাদের হোয়াটস্যাপ বা টেলিগ্রাম গ্রূপে।

১. আমাদের Telegram গ্রূপ – ক্লিক করুন
২. আমাদের WhatsApp গ্রূপ – ক্লিক করুন
৩. আমাদের Facebook গ্রূপ – ক্লিক করুন
৪. আমাদের Twitter গ্রূপ – ক্লিক করুন
৫. আমাদের YouTube চ্যানেল – ক্লিক করুন

প্রিয় বন্ধু মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরের নোটিফিকেশন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউসারে সাথে সাথে পেতে, উপরের পপ-আপে অথবা নীচের বেল আইকনে ক্লিক করে ‘Allow‘ করুন।

আপনার মতামত জানান -

রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমানে এই রাজ্যে অস্তিত্ব সংকট দেখা দিয়েছে বামেদের। তাই যেনতেন প্রকারেণ দলের থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা কর্মীদের ফের দলে ফেরাতে উদ্যোগী তাঁরা। এদিনের এই সভায় সূর্যকান্ত মিশ্র ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেব, সিপিএমের জেলা সম্পাদক তরুণ রায়, প্রবীণ সিপিএম নেতা দীপক সরকার সহ অন্যান্যরা। আর সেখানেই উপস্থিত হয়ে আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে বামেরা ঠিক কার সাথে হাতে হাত ধরে লড়বে এই ব্যাপারটিও কিছুটা পরিষ্কার করে দেন দলের রাজ্য সম্পাদক।

কেননা এই রাজ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা বিজেপিকে সরাতে দীর্ঘদিন ধরেই কংগ্রেসের সাথে জোটের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন সিপিএম নেতারা। তবে দলের কিছু জনের আপত্তির জেরে তা এখনও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে সেই বিধান ভবনের সাথে জোট করতে মরিয়া দলের বঙ্গ ব্রিগেড।

এদিন এই প্রসঙ্গে সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, “কংগ্রেসের সঙ্গে আমরা কখনো বোঝাপড়া করবো না এটা বলিনি। পরিস্থিতি দেখতে হবে। বিজেপির সঙ্গে আমাদের দূরত্ব অনেক বেশি। তাই আমাদের বিজেপি এবং তৃণমূল বিরোধী ভোটকে একত্রিত করে লড়তে হবে।”

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে প্রমাণ হয়ে গেছে যে বিজেপি ধরাশায়ী হয়ে পড়েছে। আর এরাজ্যে তৃণমূলের কংগ্রেসের ওপর মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। তাই এই শূন্যস্থান আমাদেরকেই পূরণ করতে হবে।” এদিকে এদিনের এই সভা থেকে রাজ্যে তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপিকে যাতে কেউ ভোট না দেয় সেই ব্যাপারে সকলকে আহ্বান জানান সিপিএমের রবীন দেব।

তিনি বলেন, “মার্কসবাদীদের সারা জীবনের জন্য ভুল বোঝানো যায় না। তবে তৃণমূলকে সরিয়ে বিজেপিকে আনার মত ভুল আপনারা করবেন না। সকলে শিরদাঁড়া উঁচু করে দাঁড়ান।” রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে এই বাংলার মাটি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন মূল চ্যালেঞ্জ সিপিএমের। তাই যেনতেন প্রকারেণ দলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া কর্মীদের ফের দলে ফেরাতে উদ্যোগী হচ্ছেন তাঁরা।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!