এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > কলকাতা > লোকসভা নির্বাচনের আগে চিটফান্ড তদন্ত নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সুজন চক্রবর্তীর

লোকসভা নির্বাচনের আগে চিটফান্ড তদন্ত নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সুজন চক্রবর্তীর

রাজ্যের বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থায় প্রতারিতদের অর্থ ফেরতের দাবিতে প্রথম থেকেই রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিল সিপিএম। এদিকে প্রথম থেকে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার চিটফান্ড ইস্যুতে রাজ্যের বিরুদ্ধে তদন্তের জাল ছড়ালেও ধীরে ধীরে তা প্রশমিত হতে শুরু করে। কিন্তু ফের লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসতেই কি তৃণমূলের বিরুদ্ধে এই চিটফান্ড ইস্যুতে নিজেদের ঝুলি থেকে বিড়াল বের করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার? নাকি ভোটের আগে মমতা ব্যানার্জি এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে গোপন সমঝোতা না বোঝাতেই এই তদন্তে অতিসক্রিয়তা? এইসব প্রশ্ন তুলে শুক্রবার ধর্মতলায় আয়োজিত চিটফান্ড সংস্থায় প্রতারিত বেশ কয়েক হাজার আমানতকারী ও এজেন্টদের সভায় উপস্থিত হয়ে বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী রাজ্যের তৃণমূল ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে চিটফান্ড ইস্যুতে রীতিমত উচ্চস্বরে তোপ দাগেন।

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

এদিন তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “রাজ্যের লুটেরাদের সরকার চলছে। ডেলোতে বাংলোয় চিটফান্ড কর্তাদের সঙ্গে রাতের অন্ধকারে যাঁরা বৈঠক করেছিলেন তাঁরাই এখন নবান্নের সরকার চালাচ্ছেন”। অন্যদিকে এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি এই বাম নেতা। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “গোপন বোঝাপড়ার কারণে তৃণমূলের দুর্নীতির বিষয়ে বিজেপির সেন্ট্রাল এজেন্সি নীরবতা পালন করে। তবে ২০১৪ লোকসভা ভোটের আগে তারা লোকদেখানো সক্রিয়তা দেখিয়েছিল শুধুমাত্রই ভোটের কারনে আর এখন সেই একই কায়দায় ভোট আসতেই দুদলের এই গেম প্ল্যান শুরু হয়েছে। আসলে এটা দিদিভাই আর মোদীভাইয়ের মধ্যে গোপন সমঝোতা”। বাম পরিষদীয় দলনেতার আরও অভিযোগ, “আদালতের তরফে চিটফান্ড কোম্পানিগুলোর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অর্থ প্রতারিতদের অর্থ দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনো অনেকেই সেই অর্থ পায়নি”।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার দুজনেই প্রতারিতদের অর্থ দেওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ প্রসঙ্গে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “এটা উদ্বেগ নয়, কুমিরের কান্না”। অন্যদিকে রাজ্যে ছাত্র রাজনীতিতে কলেজগুলিতে তোলাবাজদের দাপট প্রসঙ্গে এদিন শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলতে দেখা যায় সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীকে। তিনি বলেন, “চিটফান্ডের টাকা খেয়েছে দলের বড়রা। আর বড়দের দেখাদেখি ছোটরা কলেজে ভর্তির জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা কামানোর পথ বেছে নিয়েছে। আসলে তৃণমূল দলটা এমন যেখানে রতনে রতন চেনে”। এদিনের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক সুবীর দে এবং আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী। সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তাঁরাও বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে টাকা ফেরতের সব প্রক্রিয়া শুরু নাহলে ১৪ ই ডিসেম্বর থেকে আমরা আমরণ অনশনে বসব”। সূত্রের খবর, এই সভা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যপালের কাছে ডেপুটেশনও দেয়। সব মিলিয়ে চিটফান্ড ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপির গোপন সমঝোতার অভিযোগ তুলে লোকসভার আগে ঘুরে দাড়াতে মরিয়া রাজ্যের বাম শিবির।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!