এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > মেদিনীপুর > ‘হার্মাদ মুক্তি দিবসে’ লক্ষণ শেঠকে নিয়ে ‘ইঙ্গিতবাহী’ মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর

‘হার্মাদ মুক্তি দিবসে’ লক্ষণ শেঠকে নিয়ে ‘ইঙ্গিতবাহী’ মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর

শুভেন্দু-লক্ষ্মণ দ্বন্দ্ব আজকের নয়। সেই বাম জামানায় এই দ্বন্দ্বের অভিষেক হয়েছিলো। তারপর বাম জামানার অবসানে লক্ষ্মণ শেঠের প্রতাপ কমলেও শুভেন্দু অধিকারী এখন তৃণমূলের একজন হেভিওয়েট নেতা তথা পরিবহণ এবং পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রীও। বিজেপিতে কোনঠাসা হওয়ার পর তৃণমূলে যোগদান করতে চাইলেও লক্ষ্মণ শেঠকে বরাবরই লাল সিগন্যাল দেখিয়েছেন শুভেন্দু।

এদিন খেজুরির কামারদায় তৃণমূলের হার্মাদ মুক্তি দিবসের নবম বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় লক্ষণ শেঠের বিরুদ্ধে ফের একবার গর্জে উঠতে দেখা গেল শুভেন্দু অধিকারীকে। লক্ষ্মণ শেঠকে ‘নন্দীগ্রাম গণহত্যার নায়ক’ বলে সম্বোধণ করে তিনি জানালেন, প্রাক্তন সংসদ সদস্য (লক্ষ্মণ শেঠ) শুভেন্দু বাবুকে নিয়ে অনুষ্ঠান করার জন্যে ব্যক্তিগত, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক বহু জায়গায় নিমন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। তবে শুভেন্দুবাবু সেই মানুষটার সঙ্গে এক মঞ্চে দাঁড়াতেই পারবেন না – যে নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ৪১ টা খুন করেছে, অসংখ্য মহিলার সম্মানহানি করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০১০ সালের ২৪ নভেম্বরের দিনেই সিপিএমের হার্মাদরা সশস্ত্র অবস্থায় খেজুরি দখল করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে তৃণমূল সংসদ সদস্য শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাকর্মীরা হার্মাদদের মোকাবিলায় সফল হয়েছিলেন বলে দাবি তৃণমূলের। আর সেই সফলতাকে স্মৃতিতে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে প্রতিবছরই তৃণমূলের উদ্যোগে ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ পালিত হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক রণজিৎ মণ্ডল, ভগবানপুরের বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতি, জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস, সহ সভাধিপতি শেখ সুফিয়ান, স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম দাস প্রমুখরা। মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দুবাবু বলেন, খেজুরিতে বামেদের কোনো অস্তিত্ব নেই এখন। তাঁরাই এখন বিজেপিতে যোগ দিয়ে সন্ত্রাস ছড়িয়ে বেরাচ্ছে। আর সেই সূত্রে হার্মাদ বাহিনীর নেতা লক্ষ্মণ শেঠও বহুবার দল পরিবর্তন করেছেন।

ফেসবুকের কিছু টেকনিকাল প্রবলেমের জন্য সব খবর আপনাদের কাছে পৌঁছেছে না – তাই আরো খবর পেতে চোখ রাখুন প্রিয়বন্ধু মিডিয়া-তে

এবার থেকে প্রিয় বন্ধুর খবর পড়া আরো সহজ, আমাদের সব খবর সারাদিন হাতের মুঠোয় পেতে যোগ দিন আমাদের হোয়াটস্যাপ গ্রূপে – ক্লিক করুন এই লিঙ্কে

তিনি আরও বলেন, বিজেপিতে গিয়ে সে রকম লাভ করতে না পেরে তৃণমূলে আসার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১০ বছর আগের নন্দীগ্রাম-খেজুরির সেই গনহত্যার কথা ভুলবার নয়। ৮৫ বছর আগের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের মতোই নন্দীগ্রাম-খেজুরির হত্যাকান্ডও রক্ত হিম করে দেয় সবার। ঘরে আগুন লাগানো থেকে শুরু করে, পুকুরে বিষ দেওয়া, জমি জবরদখল করা কোনো কিছু করতেই বাদ রাখেনি সিপিএম-এর হার্মাদরা। এদেরকে কোনোদিনও ক্ষমা করা যায় না,গর্জে উঠে বললেন তৃণমূলের এই নেতা।

এলাকার নবীন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সেদিন তৃণমূল কীভাবে সিপিএমের হার্মাদদের দমন করেছিল তা বাড়ির বড়দের কাছে জেনে নেওয়া দরকার এবং এটাও জানান, তৃণমূলের হাত ধরেই শান্তি ফিরেছে খেজুরিতে। শুধু তাই নয়, উন্নয়ণের জোয়ারে ভাসছে এখন খেজুরি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যেসব জনস্বার্থমুখী প্রকল্প এসেছে বাংলায়, বিজেপি শাসিত রাজ্যে এসব সাধ্যাতীত। উন্নয়ন বিজেপির হাত থেকে হওয়া সম্ভব নয়, কারণ বিজেপি বিভেদের রাজনীতি করতেই ব্যস্ত থাকে সবসময়।

আগামী লোকসভা ভোটেই বিজেপির ‘ফানুস ফুটো’ হয়ে যাবে এমনটাই হুঁসিয়ারি দিলেন তৃণমূলের এই প্রতাপশালী নেতা। উল্লেখ্য, সিপিএমের দাপট কমে যাওয়ার পর বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন লক্ষ্মণ শেঠ। কিন্তু সেখানে সেভাবে দাগ কাটতে না পেরে সদ্য দল ছেড়েছেন তিনি। তারপর থেকেই তৃণমূলের যুক্ত হওয়ার চেষ্টায় ছিলেন। নিজের মুখেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন, শুভেন্দু অধিকারী চাইলেই তিনি তৃনমূলে যোগ দিতে পারেন।

এরকম পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দেন তিনি নাকি বহরমপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভা ভোটে লড়তে পারেন। এই প্রেক্ষিতে রাজনৈতিকমহলে প্রশ্ন উঠেছিল তাহলে কি লক্ষ্মন শেঠকে জায়গা ছেড়ে দিতেই তিনি বহরমপুর কেন্দ্রে সরছেন তিনি? কিন্তু এদিন শুভেন্দু অধিকারী ফের একবার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিলেন, তৃণমূলে শুভেন্দু অধিকারী থাকতে লক্ষ্মণ শেঠের ঠাঁই কোনোদিনই হবে না।

আপনার মতামত জানান -
Top
error: Content is protected !!